১৮ আগস্ট ২০১৯
ডোমেইন বাণিজ্যে রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার

খাত হিসেবে ঘোষণা ও শৃঙ্খলা জরুরি

-

তথ্যপ্রযুক্তির একটি বড় অংশ হলো ওয়েবসাইট। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ওয়েবসাইটের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছে। ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েব পোর্টাল, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, ই-কমার্স, ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, কোম্পানি ওয়েবসাইট, নিউজ বা ব্লগ সাইটসহ নানা ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি ও ব্যবহার বাড়ছে দেশে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব ওয়েবসাইটেরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ডোমেইন ও হোস্টিং সার্ভিস প্রদানকারী কোম্পানি। এসব কোম্পানি নিয়মিত বিশ্ববাজার থেকে ডোমেইন কিনে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে থাকে। বিশ্ববাজারে বর্তমানে ১৫০০-এর বেশি ডোমেইন টিএলডি বা টপ লেভেল ডোমেইন পাওয়া যায়। এগুলোর দাম কমবেশি আট ডলার থেকে ৫০-৬০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটি ডোমেইন কেনার সময় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়, প্রায় সমপরিমাণ অর্থ খরচ করে প্রতি বছর ডোমেইন রিনিউ বা নবায়নও করতে হয়।
ওয়েবসাইট চালাতে মূলত প্রয়োজন ডোমেইন এবং ওয়েব হোস্টিং। আর এসবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ডোমেইন ও ওয়েব হোস্টিং বেচাকেনার একটি বড় বাজার। কিন্তু সরকার এটিকে এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক খাত হিসেবে ঘোষণা করেনি। ফলে ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন কেনাবেচার ব্যবসায় থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এই খাতে কোনো শৃঙ্খলাও আসেনি। একটি সহযোগী দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ ডোমেইন কেনা হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ লাখেরও বেশি ডোমেইন সচল আছে বা রিনিউ করা হয়। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশী অর্থে ৩০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই পরিমাণ অর্থ প্রতি বছর লেনদেন করছে দেশের ডোমেইন ও হোস্টিং সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো। অথচ খাত হিসেবে ঘোষণা না করায় ডোমেইন ও ওয়েব হোস্টিং বেচাকেনা থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। বাস্তবে ডোমেইন বেচাকেনার কোনো অর্থই সরকার পায় না। ডোমেইন ও হোস্টিং সেবা প্রদানকারী দেশীয় কোম্পানিগুলো বিদেশী কোম্পানি থেকে রিসেলার হয়ে ডোমেইন ও ওয়েব হোস্টিং প্রদান করে এবং মাস্টার কার্ড বা ভিসা কার্ডের পাশাপাশি, পেপ্যাল/পেওয়নিয়ার বা অন্য কোনো অবৈধ মানি ট্রান্সফারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশী কোম্পানিগুলোকে তাদের টাকা পরিশোধ করে থাকে। এসব টাকার কোনো হিসাবও নেই কারো কাছে। শুধু যে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে তা-ই নয়; সাধারণ ব্যবহারকারী যারা ওয়েবসাইট পরিচালনা করেন, তারা নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, বাংলাদেশে যেসব প্রতিষ্ঠান হোস্টিং ব্যবসা করে তাদের বেশির ভাগই তৃতীয় পক্ষ। ডোমেইন কেনাবেচা বেশির ভাগই করে থাকে ফ্রিল্যান্সাররা।
এ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছে চড়া দামে ডোমেইন হোস্টিং বিক্রি করে থাকে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে গ্রাহকেরা ভালো মানের সেবা পান না। হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া দেশীয় প্রোভাইডারদের বেশির ভাগই নিয়মানুযায়ী, ওয়েবসাইটে সার্বক্ষণিক সহায়তা বা দেখাশোনার সেবা দেয় না। তারা সার্ভিস হোল্ডারদের/ক্রেতার সরলতার সুযোগ নিয়ে নানাভাবে প্রতারিত করে।
আইটি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোমেইন ও ওয়েব হোস্টিংয়ের খাতটি খুবই সম্ভাবনাময় এবং যত দিন যাবে, ততই এটি বিকশিত হবে। সরকারের উচিত এটিকে বাণিজ্যিক খাত হিসেবে ঘোষণা দেয়া এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া।


আরো সংবাদ




bedava internet