২১ আগস্ট ২০১৯
বন্যার ভয়াবহতা কমছে

পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা জরুরি

-

দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। এবার মোট ২৮টি জেলা বন্যাকবলিত হয়ে লাখ লাখ হেক্টর জমির ফসল হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক জায়গায় শুরু হয়েছে নদীভাঙন। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দুর্গত এলাকার বহু মানুষ। খাদ্য, পানীয় ও পশুখাদ্যের অভাবে এবং ত্রাণকার্যক্রমের অপ্রতুলতায় মানুষের দুর্ভোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র চারটি জেলাতেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে ৬০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ফসল। জেলাগুলো হলো জামালপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ। গাইবান্ধায় তলিয়ে গেছে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল। জামালপুর জেলায় প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমি ও সিরাজগঞ্জে প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুড়িগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ফসল। এই জেলাগুলোতে কয়েক হাজার পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।
বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণের অপ্রতুলতায় অনেকেই ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং গোখাদ্য সঙ্কট বন্যার্তদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বেড়েছে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা। বন্যার পানি কমতে থাকায় কৃষকের ফসল হারানোর কষ্ট বাড়তে শুরু করেছে।
খবরে বলা হয়েছে, পানি কমতে থাকলেও গত রোববার দেশের নদ নদীর ২১টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উত্তর জনপদের পানি নেমে আসতে শুরু করায় দেশের মধ্যাঞ্চলে যমুনা ও পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও চাঁদপুরে শুরু হয়েছে পদ্মার ভাঙন। পদ্মাতীরবর্তী মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। মাত্র চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রাম ও লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৭০টি পরিবারের ভিটেমাটি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো শতাধিক পরিবারসহ খড়িয়া মসজিদটি। চাঁদপুরের দুর্গম চর রাজরাজেশ্বরে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে এই চরের শতাধিক বাড়ি নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে চরের হাইস্কুল। প্রবল ভাঙনের কারণে বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, গঙ্গা ও পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা নেই। মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও সিলেট জেলায় পরিস্থিতির আরো উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা দরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, ভারতের পাশাপাশি চীনের বন্যার পানিও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বন্যা ভয়াবহ হলে জনদুর্ভোগ যে চরমে পৌঁছবে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বন্যার্তদের জন্য সরকারি ত্রাণকার্যক্রমের তেমন কোনো সমন্বিত চিত্র আমরা দেখতে পাইনি। সংসদীয় কমিটির বক্তব্যে আমরা আশ্বস্ত হতে চাই। দুর্গত মানুষের কল্যাণে সবার আগে সরকারই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে, এটাই কাম্য।


আরো সংবাদ

কাশিমপুর কারাগারের কারারক্ষীর স্ত্রীর ‘ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা’ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় স্ত্রীসহ ওসির কারাদণ্ড গফরগাঁওয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত সরকার ‘বিমান বন্দরে নেমে এতো বেশি সাংবাদিক দেখেছি, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য’ তাইওয়ানে ৬৬ এফ-১৬ বিমান বিক্রির অনুমোদন ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আবেগ আমাকে আকৃষ্ট করেছে : ডোমিঙ্গো সংসদ বসছে ৮ সেপ্টেম্বর ২১ আগস্ট মামলার আপিল শুনানি এ বছরই : আইনমন্ত্রী কাশ্মির নিয়ে যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ‘যতদিন বেঁচে থাকবো এই মামলা আমাদের গর্ব’

সকল




bedava internet