২১ আগস্ট ২০১৯
এরশাদের ইন্তেকাল

আলোচিত-সমালোচিত সেনাশাসক

-

টানা ১৭ দিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গত রোববার ইন্তেকাল করেছেন। ৯০ বছর বয়সী এরশাদ রক্তের ক্যান্সার মাইডোলিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি বহুলালোচিত অধ্যায়ের অবসান হলো। তার শাসনামল ছিল ঘটনাবহুল। সাবেক এই সেনাশাসক বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছিলেন আলোচিত-সমালোচিত।
অবিভক্ত ভারতের কুচবিহারে ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এরশাদের জন্ম। উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারতের জন্মের পরবর্তীকালে তার পরিবার রংপুর চলে আসে। রংপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ১৯৫২ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৩ সালে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি পান। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান এবং ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সেনাপ্রধান করা হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পান। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ। এরপর একনাগাড়ে প্রায় ৯ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বরে তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন এরশাদ। বিশ্বে তিনিই সম্ভবত একমাত্র সামরিক শাসক, যিনি ক্ষমতা ছেড়েছেন সাংবিধানিকভাবে। ক্ষমতা হারানোর পর ছয় বছর জেল খাটলেও দু’টি সংসদ নির্বাচনে কারাবন্দী অবস্থায় পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। ক্ষমতাচ্যুতির পর ২৯ বছর ধরে জাতীয় রাজনীতির মূল স্রোতে ভূমিকা রেখেছেন সাবেক এই সেনাশাসক। গণ-আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও এবং আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্কের মধ্যেও রাজনীতিতে ভালোভাবে টিকে ছিলেন এরশাদ। এর কারণ, আমাদের দেশের রাজনীতিতে সুবিধাবাদের ব্যাপক প্রভাব। প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে একজন ‘পতিত স্বৈরাচারী’ হয়েও দেশের রাজনীতিতে এরশাদ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পেয়ে যান। সমকালীন রাজনীতির ইতিহাসে সত্যিই এটি এক বিস্ময়। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলসহ নেতিবাচক অনেক ধারা জন্ম দেয়ায় বাংলাদেশে ‘স্বৈরাচারী’ তকমাটি শুধু এরশাদের নামের সাথেই লেপটে আছে।
সমালোচিত হলেও এরশাদ তার দীর্ঘ শাসনামলে বেশ কিছু উল্লেখ করার মতো পদক্ষেপ নেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন এবং সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী এনে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ যুক্ত করা। দেশকে কয়েকটি প্রদেশে বিভক্ত করা এবং ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের পদক্ষেপ নিয়েও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তার সময় প্রণয়ন করা হয় দেশের স্বার্থের অনুকূল একটি ওষুধনীতি, যা প্রশংসা পায় তার সমালোচকদের কাছেও। এই নীতির ফল হচ্ছে দেশের আজকের সমৃদ্ধ ওষুধ শিল্প। এ ছাড়া, ভিটেমাটিহীন সর্বস্বান্ত মানুষের জন্য গড়ে তোলেন ‘গুচ্ছগ্রাম’। পথশিশুদের জন্য গঠিত পথকলি ট্রাস্টও ছিল আলোচিত।
এরশাদ মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত দেশের রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়। সমকালীন বিশ্ব-ইতিহাসে কোনো স্বৈরাচারী শাসক ক্ষমতা হারানোর পরও আমৃত্যু দীর্ঘ দিন দেশে থেকেই রাজনীতি করা বিরল ঘটনা। সাধারণত ক্ষমতাচ্যুতির পর স্বৈরশাসকের পরিণতি হয় দেশত্যাগ অথবা বন্দিজীবন। এরশাদের সমকালীন ফিলিপাইনের স্বৈরশাসক মার্কোস দেশ থেকে পালিয়ে বাঁচেন। এ দিক থেকে বলতে গেলে এরশাদ সত্যিই ভাগ্যবান। আর তার জীবনাবসান হলো স্বাভাবিক মৃত্যুতে।


আরো সংবাদ

এমপিও তালিকার প্রজ্ঞাপন কয়েক দিনের মধ্যে, কার্যকর গত জুলাই থেকে ২১ আগস্ট নিহত‌দের স্মরণে শহীদ বে‌দী‌তে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন 'ভারতের জামাই' পাকিস্তানি পেসারকে দারুণ অভিনন্দন সানিয়া মির্জার কাশ্মির নিয়ে আবার মধ্যস্ততার প্রস্তাব ট্রাম্পের ট্রেনে আসমাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয় যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী চিদম্বরম শিশু ধর্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু, কী হবে বাচ্চাটির? ১২৮ বছর বয়সের বৃদ্ধের আকুতি : ‘বাবা আমাকে বাঁচাও, ওরা আমারে খেতে দেয় না’ ভারতীয় গোয়েন্দা রিপোর্ট : বারুদের স্তূপে কাশ্মির, যেকোনো সময় বিস্ফোরণ বক্তব্যকে ভুলভাবে নেয়া : যা বললেন জাকির নায়েক সপ্তম কাউন্সিল : বিএনপির লক্ষ্য নেতাকর্মীদের হতাশার বৃত্ত থেকে বের করে আনার চেষ্টা

সকল




bedava internet