১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
স্কুল ও মাদরাসা বছরে ছয় মাস বন্ধ থাকা

ছুটির দিন কমিয়ে আনতে হবে

-

দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসাগুলো বার্ষিক ছুটি ও অন্যান্য কারণে বছরে ছয় মাসই বন্ধ থাকে। অন্যান্য আরো কারণের এটিও একটি কারণ, যার ফলে স্কুল ও মাদরাসাগুলোতে প্রতি বছর সুষ্ঠুভাবে সিলেবাস শেষ করা যাচ্ছে না। আর এরই জের ধরে শিক্ষার্থীদের অনেকটা বাধ্য হয়ে হয় কোচিং সেন্টার, নয়তো প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে যেতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষকেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সিলেবাস শেষ করতে। ফলে অনেক শিক্ষকই অনেকটা তাড়াহুড়ো করে সিলেবাস শেষ করেন। এর ফলে শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসাগুলোতে বছরে কমপক্ষে ১৩৭ দিন ছুটি থাকে। এর মধ্যে ৮৫ দিন নির্ধারিত ছুটি ও ৫২ দিন সাপ্তাহিক ছুটি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই ব্যবহার হয় পাবলিক পরীক্ষায়। এর ফলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরো বন্ধ থাকে এক মাসের মতো ক্লাস।
জানা যায়, দেশে বর্তমানে ৩০ হাজার মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসা রয়েছে। এর মধ্যে গত বছর ৩,৪১২টি ব্যবহার করা হয় এসএসসি পরীক্ষার ও ২,৫৪১টি ব্যবহার হয় এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে। আর জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয় ২,৯০১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৪০০-এর মতো স্কুল ও মাদরাসায় এই তিনটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর অর্থ এই সময়ে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস হয় না ২৩০ দিন, অন্য হিসাবে প্রায় আট মাস। এ কারণে বছরের শেষ দিকে শিক্ষকেরা তাড়াহুড়ো করে তাদের সিলেবাস শেষ করেন। তখন ছাত্ররা অনেকটা দিশেহারা হয়ে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে যায়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক আবদুল মান্নান স্বীকার করেছেন পাবলিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সে কারণে শিক্ষকেরা তাদের সিলেবাস শেষ করতে পারছেন না- এটি একটি সাধারণ অভিযোগে পরিণত হয়েছে। শুধু শিক্ষকেরা নন, অন্য শিক্ষাবিদেরাও এ অভিযোগ করছেন।
এমনি পরিস্থিতিতে কী করা যেতে পারে? বিভিন্ন মহল এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন ধরনের অভিমত রাখছেন। স্কুল-শিক্ষার উন্নয়নে স্কুলের শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির পরিমাণ কমিয়ে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষাবিদেরা। তা ছাড়া বিভিন্ন উৎসবসংশ্লিষ্ট ছুটির মাত্রাও কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তাদের পরামর্শ ভেবে দেখার মতো। কারণ পাবলিক পরীক্ষাগুলোর ছাত্রসংখ্যা এত ব্যাপক যে, তাদের পরীক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোথাও করা সম্ভব হবে না। তাই বিদ্যমান ছুটিগুলোর পরিমাণ কমিয়ে আনার কথা আমাদের ভাবতেই হবে। একই সাথে পাবলিক পরীক্ষাগুলোর সময়ও কমিয়ে আনার কথা ভাবতে হবে। মোট কথা, বছরের ছয় মাসাধিক স্কুল ও মাদরাসা বন্ধ রাখা এখন বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে এই ছুটির পরিমাণ কমিয়ে আনার সম্ভাব্য উপায় খোঁজা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। এখানে শৈথিল্য প্রকাশের কোনো অবকাশ নেই।


আরো সংবাদ

কঠিন বাস্তবতা টের পাচ্ছে কিশোরী ফুটবলাররা পদ্মায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে রাজবাড়ীর জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত ছাত্রলীগের হামলার শিকার আসিফের মামলা নেয়নি পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবকের ২ হাতের কবজি কেটে নিল প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানে পৃথক হামলায় নিহত ৫০ ভিকারুননিসার নতুন অধ্যক্ষের নিয়োগ স্থগিত করেননি চেম্বার আদালত এক প্যাকেট স্যানিটারী ন্যাপকিনের দাম ৭০০ টাকা! ডাক্তার আকাশের আত্মহত্যা : স্ত্রী মিতুর জামিন বহাল জুয়া খেলা নিয়ে বাংলাদেশের আইনে যা বলা আছে চৌগাছায় পাট চাষীদের বিঘা প্রতি লোকসান ৮ হাজার টাকা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে : মিলার

সকল