২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
ভেজাল রোধে ব্যর্থতা

জবাবদিহি করতে হচ্ছে না কাউকে

-

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। অবহেলা অসচেতনতার কারণে ভেজাল খাদ্যে সয়লাব হয়ে গেছে বাজার। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেনি। ওয়াসার মতো সরকারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে যথেষ্ট দায়িত্ব পালন করেনি। এর ফলে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অবস্থা খুবই বেগতিক দেখে সর্বোচ্চ আদালত এগিয়ে এসেছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই সঠিকভাবে কাজ করলে নিম্নমান ও ভেজাল পণ্য বাজারে আসতে পারার কথা নয়। ফলফলাদি, মাছ-গোশত ও দুধে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ সম্ভব হতো না। এখন দেখা যাচ্ছে, একটি খাদ্যপণ্যকেও হলফ করে বিশুদ্ধ বলা যাচ্ছে না।
টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির এ ধরনের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ হয়। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওয়াসার সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করার বদলে গায়ের জোরে বললেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। বাজারে নিম্নমান ও ভেজাল দ্রব্য নিয়ে জনমনে বিরাট শঙ্কা কাজ করে। কার্বাইড দিয়ে ফল পাকানোর খবর সব সময় পাওয়া যায়। প্রায় সব ফলই মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। বাজারে মাছের পচন রোধ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ফরমালিন। দুধের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। ফার্মের মুরগি ও হাইব্রিড মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ। বাজারে মোড়কজাত করা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যে প্রকৃতপক্ষে কী রয়েছে তা নিয়ে আছে সংশয়। খদ্যের সঠিক মান রক্ষা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি।
সর্বশেষ দেখা গেল বিএসটিআই’র একটি পরীক্ষায় বাজারে থাকা ৫২টি খাদ্যপণ্যকে নিম্নমান ও ভেজালমিশ্রিত বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এ পণ্যগুলো বাজার থেকে তুলে নেয়ার কথা বলা হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেল না সংশ্লিষ্টদের। জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। এ অবস্থায় সব জায়গায় শেষ অবলম্বন হিসেবে গণ্য আদালত এগিয়ে এসেছেন। আদালত দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্য এবং পশুখাদ্যের নমুনা বাজার থেকে সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার প্রতিবেদন ২৩ জুনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ৩৪ পয়েন্ট থেকে ঢাকা ওয়াসার পানির নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে ভেজাল খাদ্য ও ফলের সাথে রাসায়নিক মেশানোর ব্যাপারেও আদালত আলাদা আলাদ নির্দেশ দিয়েছেন। সম্ভবত পৃথিবীর কোনো দেশে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এভাবে আদালতকে এগিয়ে আসতে হয়নি।
মূলত মান রক্ষাকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় হতে হবে। এভাবে উচ্চ আদালত কত দিন এ বিষয়গুলো নিয়ে আদেশ দেবেন। আদালতের দায়িত্ব বিচার করা। জানা গেছে, বিচারের অপেক্ষায় অসংখ্য মামলা ঝুলে আছে। ব্যাপক মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য জনস্বার্থে আদালত সাময়িকভাবে এগিয়ে এসে এ কাজ করছেন। কিন্তু সব সময় আদালত এ ধরনের কাজে নিযুক্ত থাকতে পারবেন না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়ার কথা। এ পর্যন্ত আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে দেখিনি। এ অবস্থায় আশা করব, সামনের দিনগুলোতে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দায়িত্ব সক্রিয়ভাবে পালন করবে, যাতে করে খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় পেতে নাগরিকদের আর সঙ্কটে পড়তে না হয়। এ কাজ করতে ব্যর্থ হলে সরকারের উচিত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া।

 


আরো সংবাদ