১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
চাঁদাবাজি বন্ধের উদ্যোগ ব্যর্থ

ফুটপাথ ও সড়কে আবারো হকার

-

রাজধানীর ফুটপাথে হকার বসতে না দেয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকল মাত্র চার মাস। রোজার মাস শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে আবারো ফুটপাথ ও সংলগ্ন রাস্তা দখলে নিয়েছেন হকাররা।
পত্রিকান্তরের খবরে প্রকাশ, হকাররা দাবি করছেন, সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশেই তারা ফুটপাথে বসেছেন। তবে পুলিশ বলছে, হকারদের ফুটপাথে বসার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্য দিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, হকারদের ফুটপাথ ও রাস্তা দখল করে বসতে দেয়া হবে না। রমজানে এমনিতেই ভয়াবহ যানজটে মানুষের কষ্ট হয়। হকাররা ফুটপাথ ও রাস্তা দখল করে বসলে যানজট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাতে ভোগান্তি দিন দিন বাড়তেই থাকবে।
ফুটপাথ ও রাস্তায় হকার বসানোর সাথে একটি চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র জড়িত। এতে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা ও পুলিশ। এসব তথ্য একরকম ‘ওপেন সিক্রেট’; সবাই জানে। এমনকি কোন কোন পয়েন্টে কে কে চাঁদাবাজির সাথে জড়িত, তাদের নাম-ঠিকানাসহ সব কিছু পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন; কিন্তু চাঁদাবজি রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এ দিকে, রাজধানীতে পবিত্র রমজান মাসে পরিবহন ব্যবস্থা ধসে পড়েছে। ফুটপাথ ও রাস্তা হকারদের দখলে চলে যাওয়া এবং বিশাল এলাকাজুড়ে মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলতে থাকায় সারা শহরে যানচলাচল একরকম স্থবির হয়ে পড়েছে। দুপুরে মতিঝিল থেকে বাসে উঠে মিরপুরের একজন যাত্রী বাসায় গিয়ে ইফতার করতে পারছেন না। ইফতারের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে পথের যানজটে আটকা পড়ে। এমন একটি অচল শহরে বসবাস করা কতটা ভোগান্তির, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন।
হকারদের ফুটপাথে বসার অনুমতি প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, হকারদের ফুটপাথে বসার অনুমতি কে দিয়েছে তা আমার জানা নেই। লিখিত দূরের কথা, মৌখিকভাবেও কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। খবরে বলা হয়, ফুটপাথের চিহ্নিত চাঁদাবাজেরাই পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে ফুটপাথ ও রাস্তা দখল করে নিয়েছে। হকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গুলিস্তান এলাকায় তাদের কাছ থেকে দিনে ২০০ টাকা করে তিনবার চাঁদা তোলা হচ্ছে। চাঁদা তুলছে চিহ্নিত সেই চাঁদাবাজেরাই।
পত্রিকার খবরে বলা হয়, রাজধানীর মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকার ফুটপাথ থেকে মাসে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা চাঁদা উঠানো হতো। দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাথে প্রতিদিন তোলা চাঁদার পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। তবে রমজান মাসে এই চাঁদার পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। চার মাস ধরে ফুটপাথ হকারমুক্ত থাকায় এবার শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে না বলেই অনেকে ধারণা করেছিল। কিন্তু রমজান আসার সাথে সাথে চাঁদাবাজেরা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের নির্দেশ অমান্য করে শত কোটি টাকার নেশায় মেতে উঠেছে। রমজানে সকাল থেকে ফুটপাথ ও রাস্তা দখলে রাখায় প্রতিদিনই ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টনসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন যানজট লেগেই আছে। দুপুরে অফিস ছুটির পর এই যানজট এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে, তখন গাড়িগুলো একবার থামলে আর নড়ে না।
ডিএমপির নিয়মিত মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে হকারদের উচ্ছেদ ও পরবর্তী আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। কনফারেন্সে রমজান মাসে যাতে হকাররা সড়ক বন্ধ করে বসতে না পারে, সে জন্য টহল পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে ইফতারির আগে যেসব এলাকা ফাঁকা হয়ে যায় (যেমনÑ মতিঝিল, গুলিস্তান) সেসব এলাকায় ফুটপাথে ইফতারির পর হকাররা বসতে পারে বলে আলোচনা হয়েছে। সেটা কোনোভাবেই যাতে সড়ক বন্ধ করে না হয়, সে জন্য কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ঈদ পর্যন্ত আপাতত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।


আরো সংবাদ

কঠিন বাস্তবতা টের পাচ্ছে কিশোরী ফুটবলাররা পদ্মায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে রাজবাড়ীর জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত ছাত্রলীগের হামলার শিকার আসিফের মামলা নেয়নি পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবকের ২ হাতের কবজি কেটে নিল প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানে পৃথক হামলায় নিহত ৫০ ভিকারুননিসার নতুন অধ্যক্ষের নিয়োগ স্থগিত করেননি চেম্বার আদালত এক প্যাকেট স্যানিটারী ন্যাপকিনের দাম ৭০০ টাকা! ডাক্তার আকাশের আত্মহত্যা : স্ত্রী মিতুর জামিন বহাল জুয়া খেলা নিয়ে বাংলাদেশের আইনে যা বলা আছে চৌগাছায় পাট চাষীদের বিঘা প্রতি লোকসান ৮ হাজার টাকা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে : মিলার

সকল