২৪ মে ২০১৯
রমজানের আগেই পণ্যের দাম বাড়ানো

কঠোর নজরদারি জরুরি

-

পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে এবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ীদের একটি অসাধু চক্র। ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি কাজে লাগিয়ে মুনাফালোভী এসব লোক লালসা পূরণে এখন খুব তৎপর। এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে চক্রটি। রমজানে পণ্যমূল্য বাড়ানোর বিরোধিতা এড়াতে এক মাস আগে থেকেই পর্যায়ক্রমে এক এক করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তারা ব্যবসায়িক সততা ও নিয়ম-কানুনের কোনো ধার ধারছে না। শুধু অন্যায় লাভের পিছে ছুটছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, প্রতি বছরই এমন অসৎ প্রবণতা লক্ষণীয়। এটি বন্ধ করার জন্য সরকারের জোরালো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে চক্রটি থেকে যাচ্ছে অধরা।
সরকার এবার রমজাননির্ভর পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদের কথা বলছে বারবার। তবু দাম বাড়ছে। বাজারে কঠোর হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে কারসাজি করে রাজধানীসহ দেশের বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বেশ কিছু দিন আগেই বাড়ানো হয়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। ব্রয়লার এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫-১৭৫ টাকায়। একই সময় গরুর গোশত কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫০-৫৬০ টাকায়। মাছ-সবজির বাজারও ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। পেঁয়াজ, ছোলা, চিনি, ডাল ও খেজুরের দামও বেড়েছে। ১৭ এপ্রিল হঠাৎ করেই চিনির দাম বাড়ানো হলো। পরের দিন বাড়ে ডালের দাম। কৌশলে বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজের দাম। ছোলার দাম পাইকারি বাজারে বাড়তে শুরু করেছে, যার প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে। দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ছে আদা ও রসুনের দাম। সোমবার মসুর ডাল কেজিপ্রতি ৯৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাত্র চার দিন আগে ছিল ৮০ টাকা। মোটা মসুর ডালের দাম কেজিতে সাত টাকা বেড়ে ৮৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজুর প্রধান উপকরণ খেসারির ডাল ৩৬ টাকা থেকে বেড়ে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সোমবার থেকে সব ধরনের সবজি ও মাছ বিক্রি হচ্ছে উচ্চমূল্যে। বরবটি বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা কেজি, পটোল ৬০-৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০-৮০, কচুর লতি ৭০-৮০, করলা ৬০-৮০, শিম ৫০-৬০ টাকা। প্রতিটি লাউ ৭০-৮০ টাকা, ফুলকপি ৫৫-৬৫, বেগুনের কেজি ৪০-৬০, পাকা টমেটো ৩০-৫০, গাজর ৩০-৪০ ও দেশী পেঁয়াজ ২৭-৩০ টাকায় বিক্রি হয়। এক কেজি তেলাপিয়া মাছ ১৪০-১৬০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৬০-১৮০, রুই আকারভেদে ৩৫০-৬০০, পাবদা ৬০০-৭০০, টেংরা ৭০০-৭৫০, শিং ৪০০-৫৫০, বোয়াল ৫০০-৮০০ ও চিতল ৫০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
অথচ রমজানে নিত্যপণ্যের দাম যাতে না বাড়ে সে জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে বাণিজ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেনÑ ‘রমজাননির্ভর পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। দাম কোনোভাবেই বাড়বে না। বাজার তদারকি সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে।’ সঙ্কট না থাকার পরও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়ে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি বলে আমরা মনে করি। এ মুহূর্তেই, দুষ্টচক্রের সাথে কারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামা উচিত। রমজান ঘিরে কেউ সুযোগ নিচ্ছে কি না, সে দিকে কঠোর নজর রাখা এখন সময়ের দাবি। দাম নিয়ন্ত্রণে রমজান মাসজুড়ে অভিযান অব্যাহত রাখা দরকার। কেউ যদি অনৈতিকভাবে দাম বাড়ায়, তাহলে ভোক্তা আইনে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সরকারের নজরদারির গাফিলতিতে কারসাজি করে দাম বাড়াতে পারছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। চক্রটিকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না বা হচ্ছে না। পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলে প্রশাসন সক্রিয় থাকলে অপচক্রটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য যাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে রমজানে ভেজালবিরোধী অভিযানও জোরদার করা প্রয়োজন।


আরো সংবাদ




Instagram Web Viewer
agario agario - agario