২৭ মে ২০১৯
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলা

দোষীদের চিহ্নিত করা হোক

-

শ্রীলঙ্কায় রোববার উপর্যুপরি ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯০ জনে। ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশী। এই দ্বীপরাষ্ট্রে একের পর এক বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে। রাজধানী কলম্বো ও শহরতলির তিনটি গির্জা এবং দেশের বড় তিন হোটেলে এ হামলা হয়। পরে আরো দু’টি স্থানে হামলা চলে। দিনটি ছিল খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় তাদের প্রার্থনা চলছিল।
হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে। বিস্ফোরণে সেলিমের জামাতা আহত এবং নাতি নিহত হয়েছে।
এ ভয়াবহ বোমা হামলার জন্য কারা দায়ী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে বিবিসি জানায়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
এ ঘটনার মাত্র ৩৫ দিন আগে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর নজিরবিহীন বন্দুক হামলায় ৫০ জন নিহত হন। এবার শ্রীলঙ্কায় প্রার্থনারত মানুষের রক্তে ভেসে গেল উপাসনালয়।
এই হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে, তা নিয়ে উপমহাদেশে তো বটেই, বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। হামলার ভয়াবহতা সাক্ষ্য দিচ্ছে, এর পেছনে সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও বড় শক্তি কাজ করেছে। জানা মতে, শ্রীলঙ্কায় খ্রিষ্টানদের রাজনৈতিক প্রভাব তেমন একটা নেই। জনসংখ্যায়ও তারা মুষ্টিমেয়, মাত্র ৬-৭ শতাংশ। এর পরও ১৯৯৫ সালে গৃহযুদ্ধ চলার সময় এক বোমা হামলায় দেশটিতে ১৪৭ জন খ্রিষ্টানকে হত্যা করা হয়েছিল। পত্রিকান্তরে এক নিবন্ধে একজন বাংলাদেশী বিশ্লেষক বলেছেন, বৌদ্ধধর্মীয় কিছু সংগঠন মাঝে মধ্যে গির্জার প্রার্থনাসভায় হামলা করে থাকে। তবে সেটি ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত দেয় না। মনে হচ্ছে, এবার হামলা এমন কোনো তৃতীয় শক্তি করেছে, যা একটি নারকীয় সন্ত্রাসী হামলা। কেউ এখনো কোনো দায় স্বীকারও করেনি। তারপরও ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কার কিছু সংবাদমাধ্যমে হামলার পেছনে ‘ন্যাশনাল তৌহিদি জামাত’ (এনটিজে) নামে স্থানীয় একটি মুসলিমপ্রধান সংগঠনের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কিন্তু সংগঠনটি হামলার কথা অস্বীকার করে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। খুবই ছোট একটি সংগঠনের পক্ষে এমন সুসংগঠিত ও সুপরিকল্পিত পৈশাচিক হামলা চালানো সম্ভব কি না সেই প্রশ্নও উঠেছে। অতীতে তাদের এরূপ কোনো হামলার সাথে সম্পৃক্ততা বা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাথে সঙ্ঘাতের কোনো নজির নেই। উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে, ন্যাশনাল তৌহিদি জামাত নামে ভারতের তামিলনাড়–তেও একটি মুসলিম সংগঠন রয়েছে। যা হোক, সামগ্রিকভাবে লঙ্কার পরিস্থিতি ধোঁয়াশাপূর্ণ।
শ্রীলঙ্কার মুসলমান সমাজও এই ঘটনায় হতভম্ব। তারা স্মরণাতীতকাল থেকে সামাজিকভাবে কোণঠাসা থাকায় এ মুহূর্তে যেকোনো বৈরী প্রচারণা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়, তৃতীয় কোনো শক্তি এই হামলা করেছে এবং হামলাকারীরা অনেক বড় আকারে গোপন সহায়তা পেয়েছে। তাই এই ঘটনার আশু তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যুক্ত হওয়া উচিত। কারণ, সংশ্লিষ্ট অপশক্তিকে চিহ্নিত করা না গেলে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া ব্যাপক নিরাপত্তাঝুঁকিতে থাকবে।
মনে রাখতে হবে, শ্রীলঙ্কা এখন চীন ও ভারতের প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। দুই পরাশক্তির পারস্পরিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় কোনো শক্তি ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে কি না বা দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে কি না, তা ভেবে দেখার বিষয়। এই হামলার বিষয়ে তথ্যাদি যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতিও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত অপরাধীদের কঠোর শাস্তিবিধানের আহ্বান জানাই।

 

 


আরো সংবাদ




Instagram Web Viewer
Epoksi boya epoksi zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al/a> parça eşya taşıma evden eve nakliyat Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Ankara evden eve nakliyat
agario agario - agario