২০ মে ২০১৯
আবার বাড়ছে গ্যাসের দাম

গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরো বাড়বে

-

জনগণের আয় বেড়েছে। অনেকটা সে ধারণার ভিত্তিতেই সরকার বারবার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নানা ধরনের পরিষেবার দাম বা চার্জ বাড়িয়ে চলেছে অনবরত। কিন্তু যে হারে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম থেকে থেকে বাড়ানো হচ্ছে, সে হারে জনগণের আয় বাড়েনি। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি গ্রাহকদের অব্যাহত দুর্ভোগ বাড়িয়ে চলেছে। বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বড়ানোর ব্যাপারে ভোক্তা মহল থেকে জোর আপত্তি জানালেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না, বরং সরকার কিছু দিন পর পর ইচ্ছেমতো যেমনটি চাইছে তেমনটি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে চলেছে। গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে জানা গেছে, সরকার আবার ব্যাপক হারে গ্যাসের দাম বাড়াতে যাচ্ছে। খবরটি নিশ্চিতভাবে গ্যাসের গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন করবে। কারণ, এক দিকে দিনের সব সময় গ্যাস না পাওয়া, বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাদের বাড়তি খরচ জোগাড় করতে হবে। অন্য দিকে গ্যাসের দাম বাড়ালে এবার সেই বাড়তি দামের অর্থও জোগান দিতে হবে। ফলে তাতে ভোগান্তি স্বাভাবিকভাবে দ্বিগুণে পৌঁছবে।
খবর মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি গ্যাসের দাম বাড়ানোর আবারো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সব শ্রেণীর গ্যাসের দাম গড়ে ৬৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত দুই চুলার গ্যাসের দাম বিদ্যমান ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকা নির্ধারণ করতে চায় তারা। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিএনজি ও বাণিজ্য খাতের গ্যাসের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়বে। বলা বাহুল্য, এমনিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া আদায় নিয়ে একধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিদ্যমান। কোনো সিএনজি অটোরিকশা মিটার অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়ায় কোথাও যেতে চায় না। সিএনজির দাম বাড়ানোর সাথে সাথে এরা যাত্রীদের কাছ থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর অজুহাতে আরেক দফা ভাড়া বাড়িয়ে তা যাত্রীদের ঘাড়ে চাপাবে। মোটামুটি সিএনজিচালিত অন্য যানবাহনও যাত্রীদের কাছ থেকে একই অজুহাতে ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। সরকারও তাদের সেই নৈরাজ্য ঠেকাতে অক্ষম। অতীত অভিজ্ঞতা তেমনটিই নির্দেশ করে।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে তিতাসসহ বিতরণ কোম্পানিগুলো নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব এরা দিয়েছিল, নতুন প্রস্তাবগুলোতে এর চেয়েও বেশি হারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কিছু বিষয় হালনাগাদ করে নতুন করে প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিগুলো। নতুন প্রস্তাবগুলোর ওপর আগামী ১১-১৪ মার্চ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ব্যাপারে গত বছর মে মাসে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে নির্বাচনের বছরে ভোটের ওপর সরকারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারেÑ সে বিবেচনা থেকে সরকার দাম বাড়ানো থেকে বিরত থাকে। এখন নির্বাচন শেষে সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আসলে গণশুনানির বিষয়টি লোকদেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, গণশুনানিতে জনগণের যে বক্তব্য উঠে আসে, তা সরকার আমলে নেয় না; বরং ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়েই যাচ্ছে। এবারো তেমনটিই ঘটবে বলে ধরে নেয়া যায়।
আমরা মনে করি, এমনিতেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। গতকালের পত্রপত্রিকায় জানানো হয়েছেÑ চাল ও ডালের পর এবার সয়াবিন তেল, মুরগি ও গরুর গোশতের দাম বেড়েছে। আসলে সব ধরনের পণ্যের দাম অব্যাহতভাবে বেড়েই চলেছে। এমন অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন খরচ অবধারিতভাবে বাড়বে। তখন পণ্যের দাম বাড়তে বাধ্য। অতএব, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে শত গুণে বাড়বে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও। আমরা চাই গ্যাসের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগ থেকে সরকার সরে আসবে। জনদুর্ভোগ লাঘবে এর বিকল্প নেই।


আরো সংবাদ