১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
একাদশ সংসদ নির্বাচন

সমঝোতা ছাড়া তফসিল ঘোষণা নয়

-

একাদশ সংসদ নিয়ে এখনো রাজনৈতিক সমঝোতা হয়নি। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া তফসিল ঘোষণার উদ্যোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার চেষ্টা সরকার করে যাচ্ছে, যা নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে তুলবে। আরপিও নিয়েও রাজনীতিবিদেরা এখনো খোলামেলা মত দেননি। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কেও রাজনৈতিক সমঝোতা জরুরি। কারণ রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া একটি জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার এখতিয়ার সাধারণভাবে ইসির থাকে না। কারণ সরকারের ইচ্ছার একক প্রতিফলনে কোনো দিন ইসির কাজ সম্পন্ন করা সহজ নয়, বলা চলে প্রায় অসম্ভব। এ দিকে, জাতি আশা করেÑ রাজনৈতিক সমঝোতার পর দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রেক্ষিত সৃষ্টি করা হবে। বলা চলে সবাই অপেক্ষা করছেন দ্রুত তফসিল ঘোষণা করার। তবে কোনোভাবেই রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া যেন একতরফা তফসিল ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনায় না নেয়া হয়। এবার জাতীয় নির্বাচন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রত্যাশিত। এরও কারণ দীর্ঘ দিন ধরে দেশ একটি কার্যত অনির্বাচিত না হোক, একতরফা নিজেদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করে একটি সরকার পরিচালিত হচ্ছে। যে সরকার জনমতকে শুধু উপেক্ষা করছে না, সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একতরফা সরকার পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি জনগণ আর মেনে নিতে চাচ্ছে না। তাই সবার প্রত্যাশাÑ দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রেক্ষিত সৃষ্টি করে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে একটি নির্বাচনের প্রেক্ষিত সৃষ্টি করে নিতে চায়। সম্ভবত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন মতপ্রধান মানুষ কোনোভাবেই বর্তমান সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচন করে ফেলার মতো অবস্থা মেনে নিতে রাজি নয়। সরকার বারবার বলছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। তবে জনমত কোনোভাবেই এর সাথে সহমত পোষণ করে না। জনগণ আশা করেÑ সংবিধানের দোহাই দিয়ে নয়, সংবিধানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে যত দূর সম্ভব রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কিভাবে করা যায়Ñ তা-ও সংলাপের মাধ্যমে একটি মতের সমন্বয় করে এগোনো সম্ভব।
তাই আমাদের পরামর্শ থাকবেÑ যত দ্রুত সম্ভব রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হোক। নয়তো রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনীভূত হবেÑ এর ফলে তফসিল ঘোষণার পরও কোনো সুফল বয়ে আনবে না।


আরো সংবাদ