২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সিরিয়া সঙ্কট

তিন নেতার বৈঠক আশাবাদ সৃষ্টি করেছিল

-

সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রক্তক্ষরণের একটি ইস্যু হয়ে আছে। এর সাথে আরব জগৎ যেমন জড়িত, তেমনি জড়িত বিশ্বের পরাশক্তিগুলো। তবে রাশিয়া, ইরান ও তুরস্ক একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার জন্য অনেক আগেই আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। সেই আশা পূরণ হতে যাচ্ছে বলে ধরে নেয়া যায়। কারণ, আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করাই সিরিয়া সঙ্কট উত্তরণের একমাত্র পথ বলে মনে করে রাশিয়া, ইরান ও তুরস্ক। তেহরানে তিন দেশের প্রেসিডেন্টদের বৈঠকের পর ঘোষিত যৌথ ইশতেহারে এমন কথাও বলা হয়েছে। তা ছাড়া, বৈঠকে জাতিসঙ্ঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোকে সিরীয়দের জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়।
কার্যত সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধবিষয়ক আলোচনার জন্য তেহরানে সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন তিন নেতা। সব পক্ষেরই দৃষ্টি ছিল বিদ্রোহী অধ্যুষিত ইদলিবে, যেখানে সরকার বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান এ শীর্ষ সম্মেলনে কূটনৈতিকভাবে সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেন। যদিও রাশিয়া ও ইরান বৈঠকের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অনুসরণ করেনি।
উল্লেখ্য, সিরিয়ার সরকার ইদলিবকে পুনর্দখলের প্রতিজ্ঞা নিয়েছে, যেটা ২০১৫ সাল থেকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইদলিব প্রদেশের উত্তরাঞ্চল এবং আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বাস, যাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক বেসামরিক বাসিন্দা। তারা সিরিয়ার অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিছিন্ন হয়ে গেছে।
এটা জানা কথা, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে সিরিয়ায় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের নিজ নিজ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্বার্থ রয়েছে। রাশিয়া ও ইরান সিরিয়ার সরকার বাহিনীর প্রধান মিত্র। অপর দিকে আঙ্কারা বিদ্রোহীদের সমর্থন করে।
পর্যবেক্ষকদের অভিমত, সিরিয়ান সরকার এবং মিত্রবাহিনী ইদলিবের কাছেই অস্ত্র জমানো শুরু করেছে চূড়ান্ত আক্রমণের উদ্দেশ্যে। জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত সিরিয়া সরকারকে সতর্ক করেছে, কথিত বিদ্রোহী ১০ হাজার যোদ্ধার ওপর আক্রমণের জন্য এমন কোনো হামলা করা ঠিক হবে না, যেটা বেসামরিক বাসিন্দাদের জীবনের হানি ঘটায়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, ইদলিব নির্মম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদি এসব জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, তাহলে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে।
অন্য দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স বলেছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের ওপর রাসায়নিক হামলা চালালে তারাও সিরিয়ায় হামলা চালাতে প্রস্তুত। তাই সবাইকে এখন বিচক্ষণ ও সতর্ক হতে হবে।
বিশ্ব জনমত মনে করে, সিরিয়ায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শেষ বড় এলাকা ইদলিবে সম্ভাব্য রাসায়নিক হামলার ফল অপরিণামদর্শী হবে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আগে একাধিকবার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে কখনো কোথাও এ ধরনের কোনো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে বারবার দাবি করে আসছে সিরিয়া সরকার।
আমরা মনে করি, আরব বিশ্বের উচিত রাশিয়া, ইরান ও তুরস্ককে সহযোগিতা করা। অপরাপর পক্ষেরও উচিত শান্তির স্বার্থে তিন নেতার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো। আশা করি, তবেই সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান সম্ভব। সেটাই বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা।


আরো সংবাদ

সকল