১৭ নভেম্বর ২০১৮
আইসিসির তদন্তের উদ্যোগ

মিয়ানমারের ওপর চাপ দিয়ে যেতে হবে

-

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানের জন্য গণহত্যাসহ বিভিন্ন নৃশংসতার দিকটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা যে এসব অপরাধের সাথে জড়িত, তা বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের উদ্যো নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করার কর্তৃত্ব আদালতের রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রি-ট্রায়াল চেম্বার তাদের এ রায় দিয়েছেন। তিন সদস্যবিশিষ্ট প্রি-ট্রায়াল চেম্বারের তিনজন বিচারকের মধ্যে দুইজন এ বিচারের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।
আইসিসির এ রায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যাসহ নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিচারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি। মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য না হলেও রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে ঘটনার একটি অংশ বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে। ফলে আইসিসি মনে করেছে, রোম সনদ অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত করার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে।
এ রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবেন। একই সাথে আদালত জানিয়েছেন, এ ধরনের তদন্ত একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। গত এপ্রিল মাসে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি আদালতের কাছে রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তের অনুমতি চেয়েছিলেন। এর আগে জাতিসঙ্ঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের দায়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ ছয় সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বিচার হওয়া দরকার। এ ছাড়া, বিচারের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয় জাতিসঙ্ঘের এ প্রতিবেদনে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তদন্তের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তদন্ত যাতে দ্রুত ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা যায়, সে ব্যাপারে আইসিসিকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া প্রয়োজন। আইসিসির তদন্ত নিঃসন্দেহে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি ছাড়া রোহিঙ্গাদের দেশটিতে ফেরত পাঠানো অসম্ভব। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ফেলে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন ও পুরনো মিলিয়ে ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন প্রায় ১০ লাখের বেশি। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় রোহিঙ্গাদের এ বোঝা বহন করতে পারে না।


আরো সংবাদ