১৮ নভেম্বর ২০১৮
সরকার হার্ডলাইনে চলছে ধরপাকড়

এই আচরণ গণতান্ত্রিক নয়

-

সরকার একটি সাধারণ নির্বাচন যথাসময়ে হবে বলে ঘোষণা করছে। এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সঠিকভাবে অনুষ্ঠিত করা হবে বলেও জোর গলায় সরকার ঘোষণা করছে। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে বিরোধীদের ওপর চরম দমন-নিপীড়ন নেমে এসেছে। পুরনো মামলাগুলোকে সচল করা হচ্ছে। নতুন করে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিরোধী নেতাকর্মীরা ঘর থেকে বের হওয়া দূরে থাক একরকম পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সরকারের ঘোষণার সাথে এ ধরনের মারকুটে অবস্থান গ্রহণ সম্পূর্ণ বিপরীত। সত্যিই যদি সরকার গণতন্ত্র চায় তাহলে এ ধরনের অবস্থান অচিরেই পরিবর্তন করতে হবে।
মাঠে বিরোধী দলের কোনো কর্মসূচি নেই। তার পরও সরকার যেন আগ বাড়িয়ে তাদের ওপর হামলে পড়েছে। ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের দেড় হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময় ১২ শতাধিক নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার নেতাকর্মীকে। যারা এই সময় আটক হচ্ছেন, তাদের জামিন মিলছে না। জামিন পেলে কারা-ফটক থেকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হচ্ছে। এ অবস্থায় পুরনো মামলাগুলোকে সক্রিয় করা হচ্ছে। সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রস্তুতি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নয়। তারা প্রতিটি কেন্দ্র্রভিত্তিক বিরোধী নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করছে। তালিকা ধরে পুলিশের অভিযান চলছে। পত্রিকা লিখেছে, নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিএনপিসহ বিরোধী নেতাদের নামে থাকা মামলাগুলো সচল করতে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বিভিন্ন নেতাদের নামে দায়ের করা মামলার গতিপ্রকৃতি বিশেষভাবে লক্ষ করা হচ্ছে। একই সাথে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সারা দেশে অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির জনসভা শেষ হওয়ার পর রাজধানীসহ থানায় থানায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে আরেকটি লক্ষ্য সরকারের আছে, সেটা হচ্ছে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী। সেই হিসেবে সরকারি বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের কায়দা করে দুর্বল করে দিতে পারলে সরকারের লক্ষ্য হাসিল হবে। এখন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি রাজপথে নেই। তবে তারা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস চালাচ্ছে। এ ধরনের নিরুত্তাপ পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারের হার্ডলাইনে যাওয়ার আলামত দেখা যাচ্ছে।
সারা দেশ থেকে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করার খবর আসছে। সামনের দিনগুলোতে গ্রেফতার অভিযান নিশ্চয়ই আরো তীব্রতর হবে। এ ধরনের হার্ডলাইন গ্রহণের সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক থাকতে পারে না। সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে ঠিক এর বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করেছে। সরকার নিজেদের ভাষ্যে যদি সত্যবাদী হয়, তারা যদি গণতন্ত্র চায় তাহলে এই পথ পরিহার করতে হবে। সবার জন্য নির্বাচনের সমতল মাঠ উপহার দিতে হলে সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। ধরপাকড়ের রাস্তা ছেড়ে আলোচনা ও সংলাপের পথে আসতে হবে। বিরোধীদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। তাদের ডেকে কথা বলতে হবে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে যার যার পছন্দের দিকটিতে নজর দিতে হবে। আমরা আশা করব, সরকার তার নীতি পরিবর্তন করবে। নির্বাচনের আগে সবাইকে নিয়ে বসে একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কৌশল নির্ধারণ করবে।


আরো সংবাদ