২১ নভেম্বর ২০১৮
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি হত্যা

বিশ্বজনমত প্রতিবাদী হতে হবে

-

ফিলিস্তিনে মানুষ হত্যা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইল এ ব্যাপারে কোনো মানবিক আচরণ করছে না। এই বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এতটা বেপরোয়া যে, বিশ্ব জনমতকেও তারা উপেক্ষা করছে। সম্প্রতি দখল করা পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতির প্রবেশমুখে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ইসরাইলি সেনা কর্তৃপ দাবি করেছে, হেবরন শহরের অবৈধ বসতির প্রবেশমুখে এক সেনাসদস্যকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করলে তাকে গুলি করা হয়।
অন্য দিকে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী ওয়ায়েল আবদুল ফাত্তাহ আল জব্বারিকে গত সোমবার কিরিয়াত আরবা ইহুদি বসতির প্রবেশমুখে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। ওই বসতির প্রবেশমুখের ১৫ মিটারের মধ্যেই বাড়ি ছিল তার। গত মাসেও এক ফিলিস্তিনিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গুলি করে হত্যা করা হয়। সাধারণভাবে মনে করা হচ্ছে এটি ফিলিস্তিনি হত্যার একটি মিথ্যা অজুহাত মাত্র।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেয়া তথ্য মতে, ঘটনাস্থলে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা দিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। অবৈধ বসতি কিরিয়াত আরবাতে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সেনানিরাপত্তার মধ্যে কয়েক হাজার ইহুদি বসবাস করে। সেখানে বেশ কিছু ফিলিস্তিনি নাগরিকের বসতিও রয়েছে। সর্বজানা তথ্য হচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইনে ইসরাইলি নাগিরকদের বসতিকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, ফিলিস্তিন ও ইসরাইল শান্তিপ্রক্রিয়ার অন্যতম বিরোধপূর্ণ ইস্যু এই বসতি।
ইসরাইলি সেনা কর্তৃপরে মিথ্যা অজুহাত হচ্ছে এক ফিলিস্তিনি আততায়ী হাতে ছুরি নিয়ে কিরিয়াত আরবার নিরাপত্তা ক্রসিংয়ের কাছে চলে আসে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী আততায়ীকে নিরস্ত্র করে।
ওই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও কিপ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে রয়েছে। তাতে দেখা গেছে, আল জব্বারি মাটিতে পড়ে আছে আর রক্তে ঢাকা পড়েছে তার শরীর। আর তাকে ঘিরে রয়েছে ইসরাইলি সেনাসদস্য ও অবৈধ বসতির বাসিন্দারা। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো একটি প্লাস্টিক ব্যাগে তার শরীর ঢেকে দিচ্ছে এক ইসরাইলি সেনা।
প্রত্যদর্শী জানিয়েছেন, এরপর একটি সেনা ট্রাক তার লাশ তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধে ইসরাইলের গুলি চালানোর নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ইসরাইলি পুলিশ তাদের গুলি শুরুর নীতি শিথিল করে। এতে বাহিনীর সদস্যদের প্রতি পাথর বা আগুন বোমা ছোড়া হলেও প্রাথমিকভাবেই প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়।
বিশ্ববাসীর উচিত এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া এবং প্রতিবাদকে শাণিত করা। এ বিষয়ে বিশ্ব সংস্থা ও শান্তিকামী মানুষদেরও প্রতিবাদী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আশা করি, বিশ্ব জনমতকে ইসরাইল সম্মান করবে এবং সংযত আচরণ করতে বাধ্য হবে।


আরো সংবাদ