২০ এপ্রিল ২০১৯
কারাগারে খালেদা জিয়ার বিচার

এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা উচিত

-

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার জেলখানার মধ্যে শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। বেগম খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলায় কারাগারে অন্তরীণ আছেন। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। এ দেশে অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। কিন্তু জেলখানার ভেতরে এমন বিচারের নজির নেই। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, জেলখানায় বিচার করার এ ঘোষণা অসাংবিধানিক। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো নাগরিকের বিচার হবে প্রকাশ্য আদালতে। কোনো ক্যামেরা ট্রায়াল নয়। তারা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও উল্লেখ করেছেন।
খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে অসুস্থ। তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা চলমান রয়েছে। যার মধ্যে বোমা মেরে মানুষ হত্যার নির্দেশ দেয়া থেকে শুরু করে মানহানির মতো মামলাও রয়েছে। তিনি একাধিক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোয় জামিন পাননি। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বয়োবৃদ্ধ নারী হিসেবে তার জামিনে মুক্ত থাকার কথা। কিন্তু তা হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখন কারাগারে তার বিচার করে শাস্তি দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশে নিম্ন আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। নিম্ন আদালত নানাভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ অনেক পুরনো। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার এসব মামলার সাথে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি যদি এসব মামলায় শাস্তি পান তাহলে আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ কিংবা তার দলের পক্ষে প্রচারণা চালানো না-ও সম্ভব হতে পারে।
সরকার ও বিচার বিভাগকে একটি বিষয় উপলব্ধি করতে হবেÑ বিচার করা বড় বিষয় নয়, বিচার বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি না তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বহু দেশে রাজনৈতিক নেতাদের শাস্তি দেয়া হয়েছে, কিন্তু তারা আবার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জনগণের মধ্যে ফিরে এসেছেন। কিন্তু এ ধরনের মামলায় সবচেয়ে ক্ষতি হয় বিচার বিভাগের। বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। খালেদা জিয়া যদি অপরাধ করে থাকেন অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা জরুরি। কিন্তু জেলখানায় দ্রুতগতিতে তার বিচারের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠবে। আমরা মনে করি, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা উচিত।

 


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al