১৮ নভেম্বর ২০১৮
সিলেটে পর্যটনে বাধা যাতায়াতে দুর্ভোগ

অবিলম্বে প্রতিকারই সময়ের দাবি

-

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাদপীঠ এই বাংলাদেশের সবুজ-শ্যামল নিসর্গ পর্যটকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। এ দেশে ভ্রমণ ও বিনোদন, তথা অবকাশযাপনের বহু স্থান রয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় আমাদের পর্যটন শিল্প আজো অনেক পিছিয়ে আছে এবং এ খাতে আয় কম বলে জাতীয় অর্থনীতিতে এ সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রের অবদান এখনো অপর্যাপ্ত। আর বাংলাদেশে বিদেশী পর্যটকের আগমন যে, নেহাত নগণ্যÑ এটা বলাই বাহুল্য। অথচ দেশের ইমেজ আন্তর্জাতিক-পর্যায়ে তুলে ধরা এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের পর্যটন স্পটগুলোর একটা বড় অংশই বৃহত্তর সিলেটে। চা বাগান, জাফলং, বিছনাকান্দি, ভাসমান বন, জলপ্রপাত, অভয়ারণ্য, হাওর প্রভৃতির জন্য সুখ্যাত সিলেট অঞ্চলে পর্যটনের বিকাশে দুর্বিষহ যাতায়াতব্যবস্থা একটি বড় বাধা হয়ে আছে। এবার একটি জাতীয় দৈনিকে বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যাওয়া-আসার দুর্ভোগের দরুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের চার জেলার পর্যটন সম্ভাবনা খুব বেশি বাস্তবায়ন হতে পারছে না।
প্রতিবেদনে পর্যটক ও অবকাশযাপনকারীদের নানা সমস্যা তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, ভাঙাচোরা পথঘাটে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের সাথে যোগ হয়েছে পথে পথে কথিত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। অথচ পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে ভ্রমণ নির্বিঘœ করা হলে পর্যটক সমাগম অনেক বাড়বে, সংশ্লিষ্ট শিল্পে কর্মসংস্থান ও আয় বেড়ে যাবে এবং সিলেট অঞ্চলের খ্যাতি যেমন দেশের মানুষের কাছে বৃদ্ধি পাবে, তেমনি এখানকার ইমেজ আন্তর্জাতিকভাবে আরো প্রশংসনীয় হবে। পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, সুপরিচিত হাকালুকি হাওড় সিলেট অঞ্চলে হতে পারে সর্বাধিক আকর্ষণীয় স্পট। হবিগঞ্জের বানিয়াচং বিশেষ বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে গণ্য। এর রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। বৃহত্তর সিলেটে আরো আছে এ দেশের প্রথম চা বাগানসহ বহু চা বাগান, মাধবকুণ্ড ও হামহাম জলপ্রপাত, লাউয়াছড়াÑ রেমাকালেঙ্গা-সাতছড়ি অরণ্য, রাতারগুলে পানিতে নিমজ্জিত বন, জাফলং-বিছনাকান্দির পাথরভরা নদীর সৌন্দর্য, কয়েকটি সুবিশাল হাওর, চা জাদুঘর, রজ্জুপথ, টিলা ও ঝরনা, খাসিয়া পুঞ্জি, একাধিক অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল অবকাশ কেন্দ্র প্রভৃতি।
সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন তার একাধিক সুমধুর সঙ্গীত। যেমন- ‘সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানিÑ খোদা তোমার মেহেরবানি’ এবং ‘আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই’। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বৃহত্তর সিলেট সীমান্তের ঠিক ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে পর্যটকদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সংলগ্ন বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এসব খুব কমই বিদ্যমান।
সিলেটে পর্যটনের সুবিধার ক্ষেত্রে কেমন অবস্থা বিরাজ করছে, এর নমুনাস্বরূপ আলোচ্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছেÑ জাফলং যেতে আজো অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে জাফলংয়ের ২০ কিলোমিটার আগে থেকেই বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বড় খানাখন্দকে ভরা রাস্তাটির বেহালদশা দীর্ঘ দিনের হলেও এর দায়িত্বে যেন কেউ নেই। সোয়া ঘণ্টার দুঃসহ যাত্রা শেষে এ পথে থামতে হয় জাফলং টুরিস্ট স্পট থেকে ৭০০ মিটার দূরে। এ পথে হেঁটে যাওয়াও দুষ্কর। বাধ্য হয়ে দুই বছর ধরে ভ্রমণকারীরা একটা বিকল্প পন্থা অবলম্বন করে জাফলং যাচ্ছেন। তবে এটাও কষ্টসাধ্য এবং সেই সাথে বিপজ্জনক। ব্যাপার হলো, এখন জাফলংয়ের দুই কিলোমিটার আগেই পর্যটকেরা থেমে যান। এরপর বড় দুটি টিলা বেয়ে জিরো পয়েন্টে পৌঁছতে হয়। এ পথে পাড়ি দিতে হয় কয়েকটি খাল। একটু অসতর্কতায় কিংবা পা পিছলে গেলেই যেকোনো মুহূর্তে বিরাট বিপদ ঘটে যেতে পারে। শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় বেশি।
এসব কিছু বিবেচনায় সিলেট অঞ্চলের পর্যটন খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে কর্তৃপক্ষ আশু পদক্ষেপ নেবে বলে সবাই প্রত্যাশা করছেন।

 


আরো সংবাদ