২৩ জুন ২০১৮
পাহাড়ধসে ১১ জনের মৃত্যু

ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে নিতে হবে

-

বছর বছর প্রবল বর্ষণে ভূমিধসে মানুষ মারা যাবে, এটি রেওয়াজ হয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে বস্তি বানিয়ে ভাড়া দেয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাশে নির্মিত ঘরবাড়ির মানুষ এমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। নতুন করে টেকনাফে আসা রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী ঘরগুলো এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সর্বশেষ এমন এক মর্মান্তিক ঘটনায় রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় ১১ জন মারা গেছেন। প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় একই ধরনের ঘটনায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। পাহাড় ধসের ঘটনা অনেক ক্ষেত্রে হয়তো এড়ানো সম্ভব নয়, তবে বসতি নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেয়া এবং সতর্কতা ও সচেতনতা সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে কাজে আসতে পারে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নানিয়ারচরের বড়পুল পাড়ায় দুই পরিবারের চারজন, ধর্মচরণ কারবারি পাড়ায় একই পরিবারের চারজন, হাতিমারা এলাকায় দু’ইজন ও গিলাছড়ি ইউনিয়নের মনতলা এলাকায় একজন মারা গেছেন। ভোরে প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনায় এ প্রাণহানি ঘটে। গত বছর একই সময় রাঙ্গামাটি সদরের আশপাশে যেসব এলাকায় পাহাড়ধস হয়েছে, এবার প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনার মধ্যে সেসব এলাকায় মাইকিং করে সচেতন করা হয়েছে। এবারের পাহাড়ধসের ঘটনাটি ঘটেছে নানিয়ারচরের প্রত্যন্ত এলাকায়। পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাসাবাড়ি বানানো থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেতে পারে। যতটুকু এলাকা ভূমিধসের আওতায় আসতে পারে সেটুকু বাদ দিয়ে বাড়িঘর বানানো যায়। এখন বর্ষার মওসুম শুরু হচ্ছে, পুরো চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিধসপ্রবণ এলাকা রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের ভেতরেও এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে। একটি সহযোগী দৈনিক চট্টগ্রাম শহরের ভেতর এমন ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সম্প্রতি। ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম শহরে এই ধরনের এক ভয়াবহ ভূমিধসে ১২৭ জন প্রাণ হারান। খবরে বলা হয়েছে, একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি পাহাড়ি ঢালে ৬৬৩ পরিবার বসবাস করছে এখনো। ওই ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এর পরও বাস্তবতা হচ্ছেÑ এখনো তাদের সরিয়ে নেয়া যায়নি। প্রবল বর্ষণে এসব পাহাড়ধসে যেকোনো সময় আবারো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নানিয়ারচরের দুর্ঘটনায় নিহতের প্রত্যেককে জেলা প্রশাসন ২০ হাজার টাকা, ৩০ কেজি করে চাল ও জেলা পরিষদ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে। এটা প্রশাসনের রুটিন ওয়ার্ক। মানুষের প্রাণ হারানোর ক্ষতিপূরণ অর্থ কিংবা অন্য কোনো মূল্যবান সম্পদ দিয়ে দেয়া যায় না। মূলত পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে মানুষ ও তাদের ঘরবাড়ির নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। টেকনাফে পাহাড় কেটে যেভাবে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে থাকতে দেয়া হয়েছে; এখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর প্রতিকারের উপায় হচ্ছেÑ তাদের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সরিয়ে নেয়া, যা এক কঠিন কাজ। চট্টগ্রাম শহরে যে পরিবারগুলো পাহাড়ের ঢালে বাস করছে, তাদের অচিরেই পুনর্বাসন করার দায়িত্ব সরকারকেই পালন করতে হবে। তা ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করা প্রয়োজন। তারপর তাদের বাড়িঘর অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অবস্থানে সরানোর উদ্যোগ নেয়া দরকার।


আরো সংবাদ