১৫ আগস্ট ২০১৮
ট্রাম্প-কিম বৈঠক

এ শান্তির আবহ ছড়িয়ে পড়–ক বিশ্বে

-

কোরীয় উপদ্বীপে সত্যিকার অর্থে শান্তির সুবাতাস দেখা দিলো। দীর্ঘ দিন ধরে কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক যুদ্ধের যে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাসী আশাবাদী হয়ে উঠেছে। দুই বৈরী দেশ উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে শেষ পর্যন্ত মুখোমুখি আলোচনা হলো। দুই নেতা একমত হয়েছেন কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে। একই সাথে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। বিস্ময়করভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন দু’জনেই উগ্রপন্থী বক্তব্যের জন্য ছিলেন বহুল সমালোচিত; কিন্তু দুই নেতা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শান্তির পথে এগিয়ে গেলেন। অবশ্যই এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার তরুণ প্রেসিডেন্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প যাকে বুদ্ধিমান ও দেশকে ভালোবাসেন বলে প্রশংসা করেছেন।
দুই নেতার এই বৈঠকে দু’টি বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে; প্রথম হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ দিনের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। অপর দিকে পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার স্থাপনাগুলো ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সাথে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এক দফা পিছিয়েছিল। কারণ, ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন উত্তর কোরিয়ার পরিণতি লিবিয়ার মতো হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন। লিবিয়াও পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছিল; কিন্তু এরপরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব দেশটিতে চরম অস্থিরতার সৃষ্টি করেছিল। এখন দুই দেশের কথা রাখার সময়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এগিয়ে গেলে এই আলোচনা সফল হবে।
কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে প্রথমে প্রয়োজন দুই কোরিয়ার মধ্যে আস্থার সম্পর্ক সৃষ্টি করা। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের ভূমিকাও প্রশংসনীয়। এর আগে মুন-কিম বৈঠকের মাধ্যমে এ আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার মিত্রদেশ চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইতোমধ্যে চীন এ বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া বন্ধের ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার আস্থা বাড়াবে বলে আশা করা যায়। পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত উত্তর কোরিয়া যাতে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, সে ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী বড় দেশগুলোর করণীয় রয়েছে। আমরা মনে করি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট যথেষ্ট প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এই আলোচনার মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপ পুরোপুরি যুদ্ধের শঙ্কামুক্ত হবে বলে আশা করা যায়। কিম ও ট্রাম্পের বৈঠকসূত্রে যে শান্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছে কোরীয় উপদ্বীপে, সেই আবহ ছড়িয়ে পড়–ক বিশ্বের অন্যান্য দ্বন্দ্বমুখর এলাকায়ও। ট্রাম্প এ ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে যাক এটাই এ সময়ের কামনা।

 


আরো সংবাদ