২১ অক্টোবর ২০১৮
মহিমান্বিত শবে কদরের শিক্ষা

সত্য ও কল্যাণের পথে এগোতে হবে

-

আজ দিবাগত রাত সম্ভাব্য পবিত্র শবে কদরের মহিমান্বিত রজনী। পবিত্র রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে মহানবী সা: এই সৌভাগ্য রজনীর সন্ধান করতে বলেছেন তাঁর উম্মতদের। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনের সূরা কদরে বলেছেন, ‘এ রাত হলো হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।’ এ রাতে মহান প্রভু মানবজাতির হেদায়াত বা পথপ্রদর্শনের জন্য আল কুরআন নাজিল করেছেন।
২১, ২৩, ও ২৫ রমজানের রাত ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। সেই সাথে শবে কদরের সম্ভাব্য তিনটি বেজোড় রাতও পার হয়েছে মাহে রমজানে। আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য এ রাতগুলোতে মুসলিমরা ইবাদত-বন্দেগিতে সময় অতিবাহিত করেছেন। ২৯ রমজানের রজনীও এভাবেই পার হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ দিন হতে পারে এবারের রমজানের শেষ দিবস। এরপর আনন্দে ভরা ঈদুল ফিতর।
এবারের রমজান মাসে মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশের অসংখ্য মানুষ অশেষ দুঃখ-দুর্দশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, তুরস্ক, আফগানিস্তানসহ অনেক মুসলিম দেশ ও অমুসলিম জনপদের মুসলিমরা রাষ্ট্রিক-অরাষ্ট্রিক বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে বেঘোরে মারা যাচ্ছে। বাড়িঘর, কর্মস্থল থেকে বিচ্যুত হয়ে অসহায় শরণার্থী জীবন কাটাতে হচ্ছে কোটি মুসলমানকে। এর দুর্ভাগ্যজনক ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও। লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছে। অথচ তাদের ফেরত নেয়ার গরজ মিয়ানমার দেখাচ্ছে না, বাংলাদেশও কূটনৈতিকভাবে তেমন সাফল্য প্রদর্শন করতে পারছে না। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি বড় ইবাদত। এই সত্যটিও শবে কদরের শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পবিত্র শবে কদরের শিক্ষা অনুযায়ী এ কঠিন সময়ে আমাদের মহান প্রভুর পথে, সত্যের ও শান্তির পথেই ফিরতে হবে। নিরপরাধ মানুষের জীবনহানির জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে হবে।
শবে কদর কুরআনের শিক্ষায় উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান নিয়ে আসে। খোদাভীতির মাধ্যমে মানবিক ও নৈতিক গুণসম্পন্ন হওয়ার প্রেরণা জোগায়। এই মহিমান্বিত রজনী আমাদের সবার জীবনকে অর্থবহ করুকÑ এটাই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।


আরো সংবাদ