১৬ আগস্ট ২০১৮
কারাগারে অসুস্থ খালেদা জিয়া

জামিন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন

-

বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার জামিন ও সুচিকিৎসা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নানাভাবে তার জামিনপ্রক্রিয়া যেমন বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে; তেমনি তার সুচিকিৎসা হচ্ছে না বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে। এবার তার অসুস্থতার খবর জানার পর ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে এসে যে বিবরণ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন এবং চিকিৎসকেরা ধারণা করেছেন, তিনি মাইল্ড স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি এক ধরনের জড়তা অনুভব করছেন।
রাজনৈতিক নেতাদের জেলে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একাধিকবার জেলে গেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা জেলে গেলেও তারা এক ধরনের মর্যাদা পান। তাদের চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধার দিকে বিশেষ নজর দেয়া হয়। এমনকি ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তানি আমলেও রাজনৈতিক নেতাদের জেলখানায় বিশেষ সুবিধা ও মর্যাদা দেয়া হতো। অপর দিকে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রাখার পর থেকে তার দলের পক্ষ থেকে তাকে নির্জন কারাগারে রাখার অভিযোগ করা হচ্ছে। সর্বশেষ, তার চিকিৎসা নিয়ে এক ধরনের অবহেলা হচ্ছে বলে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। যা শুধু মানবিক দিক দিয়ে অবাঞ্ছিত নয়, দেশে সুস্থ রাজনীতির পরিবেশেরও পরিপন্থী। সাধারণ মানুষের এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে অভিযোগ ওঠার পর সরকারের উচিত, অবিলম্বে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া। এ জন্য তাকে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে ভর্তি এবং যথাযথ চিকিৎসা করানো উচিত। একই সাথে ৭২ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী যাতে দ্রুত জামিন পেতে পারেন, সে জন্য আইনিপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা দরকার। দেশের বিভিন্œ স্থানে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলায় তার জামিন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উপর্যুপরি। অথচ আইনি দিক দিয়ে এসব মামলা খুবই দুর্বল। সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত হবে না, বেগম খালেদা জিয়া দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান। তার চিকিৎসা নিয়ে যেকোনো ধরনের অবহেলা বা টালবাহানা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরো ঘোলাটে করে তুলতে পারে।


আরো সংবাদ