১৯ জুন ২০১৮
বঙ্গোপসাগরে অক্সিজেনশূন্য এলাকা

মৎস্যের জোগান সীমিত হওয়ার আশঙ্কা

-

সহযোগী একটি দৈনিক খবর দিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে মাছশূন্য হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত সাগরের পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে অক্সিজেনশূন্য হয়ে এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাগরে বাংলাদেশ সীমানার কাছাকাছি এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ‘সর্বনি¤œ অক্সিজেনশূন্য জোন’। এ ব্যাপারে আরো অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জরিপ চালিয়ে প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করা উচিত। কেন এমন বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে, সেটি নির্ণয় করা জরুরি।
খবরে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে ভারতসহ কয়েকটি দেশের সমুদ্রবিজ্ঞানী ও গবেষকদের অনুসন্ধানে বঙ্গোপসাগরে অক্সিজেনশূন্য এলাকা সৃষ্টি হওয়ার ব্যাপারটি প্রথম জানা যায়। এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হলে মৎস্যসম্পদসহ প্রাণিকুল, জীববৈচিত্র্য, উদ্ভিদরাজি ও এদের প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল মারা পড়বে। ফলে ওই এলাকায় কোনো প্রাণীর বসবাস সম্ভব হবে না। অক্সিজেনশূন্য হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ৬০০ থেকে ৭০০ মাইল দূরে। শিল্পায়নের ফলে কলকারখানার প্রসার, তেল, কয়লা ও গ্যাস প্রভৃতি জ্বালানি পোড়ানোর বর্ধিত হার সমুদ্রের পানির ওপর গিয়ে পড়ছে। কৃষি খামার ও ফল-ফসলের বাড়তি উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরিয়াসহ বিভিন্ন সারের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে শিল্প ও কৃষি খাতে ব্যবহৃত বর্জ্য বঙ্গোপসাগরে মিশছে। ফলে একটি চেইন প্রক্রিয়ায় সাগরের পানি অক্সিজেনশূন্য হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে এককোষী শৈবাল, সেখান থেকে দ্রুত প্রাদুর্ভাব হচ্ছে ব্যাকটেরিয়ার। মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান সাগরতলের অক্সিজেন খেয়ে ফেলছে। এর ফলে সাগরে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও মাছ মারা যাচ্ছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়। নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে মাছগুলো অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণে বড় ধরনের আশঙ্কার কারণ রয়েছে। প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে আমরা এই বিপর্যয় টেনে আনছি। প্রকৃতপক্ষে কতটুকু অঞ্চল অক্সিজেনশূন্য বা কতটা এর ঘাটতি দেখা দিয়েছে, সেটি নির্ণয় করার চেষ্টা করা উচিত। সংশ্লিষ্ট জরিপের কাজটি অবশ্যই ত্বরান্বিত করতে এবং সে ব্যাপারে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

 


আরো সংবাদ