১৯ জুন ২০১৮
মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্ন

আর কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যা নয়

-

বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। দেশের যুবসমাজের বিরাট একটি অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গত মাস থেকে সরকার সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। কিন্তু এই অভিযান নিয়ে এখন নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। দেশে মাদকের বিস্তারের প্রধান উপাদান হচ্ছে মিয়ানমার থেকে আসা একধরনের ট্যাবলেট, যা ইয়াবা নামে পরিচিত। দেশে মূলত কক্সবাজার সীমান্ত ও সমুদ্রপথে এসব মাদক বাংলাদেশে ঢুকছে। দেশে মাদকের বিস্তার রোধের সহজ পথ হচ্ছে সীমান্তপথে মাদকের চোরাচালান আসা ঠেকানো। মাদক আমদানির উৎস যদি বন্ধ করা যায়, তাহলে খুব সহজেই মাদকের বিস্তার বন্ধ করা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক তা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সারা দেশে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৩৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বিচারবহির্ভূত এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশে ও বিদেশে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এই অভিযানে অনেক নিরীহ ব্যক্তি মারা গেছে। কিংবা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ ছাড়া মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত থাকলে তাকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া উচিত। কিন্তু বিচার ছাড়া হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে যেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা সুষ্ঠুভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
আমরা মনে করি, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো খুবই জরুরি ছিল। কিন্তু এই অভিযানের লক্ষ্য হওয়া উচিত মাদকের চোরাচালান বন্ধ করা। একই সাথে দেশের ভেতরে যারা মাদক ব্যবসায়ের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তাদের যেভাবে বিচারবহির্ভূত পন্থায় হত্যা করা হচ্ছে তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতোমধ্যে এ অভিযান নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে তাতে দেশের ভাবমর্যাদা দারুণভাবে ক্ষুণœ হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশে মাদক নির্মূলে এমন অভিযান চালানো হলেও তা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি। কারণ মাদক আমদানির পথ বন্ধ না করে মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। কেননা কিছু দিন পরে নতুন কেউ এই ব্যবসায় নেমে পড়বে। এ ছাড়া মাদক ব্যবসায়ের সাথে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুষ্টচক্র জড়িত থাকে। এরা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। এ কারণে আমরা মনে করি, মাদকবিরোধী অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ হওয়া উচিত।

 


আরো সংবাদ