১৬ আগস্ট ২০১৮
ফিলিস্তিনিদের কবরস্থানও দখল

এ ধরনের বাড়াবাড়ি বন্ধ করা হোক

-

ইসরাইল ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে আগ্রাসন কোনোভাবেই বন্ধ না করে নতুন নতুন স্থাপনায় মনোযোগ দিচ্ছে। এমনকি ফিলিস্তিনিদের কবরস্থানও আগ্রাসন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সম্প্রতি ‘জাতীয় উদ্যান’ বানানোর জন্য দখলে নেয়া ফিলিস্তিনিদের ‘বাব আল রাহমা’ কবরস্থানটিতে আবার কাজ শুরু করেছে ইসরাইল। দেশটির ‘নেচার অ্যান্ড পার্ক অথরিটি’ দখলকৃত পূর্ব জেরুসালেমে অবস্থিত কবরস্থানটির একাংশে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ২০ দিন আগে আইএনপিএ’র কর্মকর্তারা কবরস্থানটিতে এসে উপস্থিত হয়।
শত প্রতিবাদের পরও ২০১৫ সালে বাব আল রাহমা নামের কবরস্থানটি ধ্বংস করে সেখানকার জমি জাতীয় উদ্যানে যুক্ত করার কথা জানিয়েছিল ইসরাইল। মাসখানেক আগে কবরস্থানটির একাংশ দখলে নিয়ে ওই স্থানটির চার পাশে ধাতব বেড়া স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি তারা কবরস্থানের মাটির সাথে মৃত ফিলিস্তিনিদের কবরও খুঁড়ে ফেলছে। তাদের দাবি, তারা জাতীয় উদ্যান বানানোর কাজ করছে। ওয়াফা বলছে, জাতীয় উদ্যান বানানোর জন্য তারা যে স্থানে কাজ করছে, সেই স্থানে শতাব্দীপ্রাচীন ফিলিস্তিনি নেতাদের কবরস্থ করা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের ভাষ্য মতে, জাতিসঙ্ঘের বহুসংখ্যক প্রস্তাবনায় পূর্ব জেরুসালেমকে অধিকৃত এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানকার কোনো জমিতে স্থাপনা তৈরির আইনি বৈধতা নেই ইসরাইলের। বৈধতা উপেক্ষা করেই ইসরাইল ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার কাছে বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। গাজায় সাম্প্রতিক ব্যাপক বিক্ষোভ ও ২০১৪ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর এমন ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
ইসরাইলের নিরাপত্তা বিভাগের এক সদস্য বলেছেন, তাদের পরিকল্পনা মতে, গাজা থেকে সাত কিলোমিটারের মধ্যে ৫০০ পরিবারের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করা হবে। গাজায় বিক্ষোভে ১২০ জনের বেশি মানুষ হত্যার পর এবার গাজার পাশেই বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। গত শনিবার ফিলিস্তিনি নার্স রাজান আল নাজ্জারের নামাজে জানাজায় অংশ নেন কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি। সীমান্তের কাছে দায়িত্ব পালনের সময় তাকে গুলিতে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। গত ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিদের ছয় সপ্তাহে মার্চ অব রিটার্ন বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। দুর্ভাগ্য, এরপরও ফিলিস্তিনিরা বিশ্ববাসীর কাক্সিক্ষত মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি। অথচ ফিলিস্তিনিরা মজলুম এবং যুগ যুগ ধরে বঞ্চনার শিকার। বিশ্বসম্প্রদায় এ ব্যাপারে অগ্রসর হয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 


আরো সংবাদ