১৬ আগস্ট ২০১৮
বাজেট ২০১৮-১৯ সংসদে উপস্থাপিত

উচ্চাভিলাষী এ বাজেট বাস্তবায়নের অযোগ্য

-

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার এ বাজেট তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমগুলোতে যেভাবে চিহ্নিত হয়েছে তা থেকে এ বাজেটের একটা চরিত্র ধরা পড়ে।
এগুলোর মধ্যে আছে : ভোটের বাজেটে ভ্যাটের চাপ; ঋণভারে জর্জরিত বাজেট, বাস্তবায়নের অযোগ্য বড় আকারের নির্বাচনী বাজেট; উচ্চবিত্তের তুষ্টি, মধ্যবিত্তের কষ্টের বাজেট; বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকনির্দেশনা নেই এই ্বাজেট; কল্পলোকের অবাস্তব বাজেট, বড় বাজেট ভাবনায় ভেটিং; এক লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট; বাজেটে সর্বজনীন পেনশনের রূপরেখা; নির্বাচনী উচ্চভিলাষী এই বাজেট; শিল্প ও ব্যবসায়কে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা বাজেট; বাজেটে সব কুল রক্ষার চেষ্টা ইত্যাদি।
আমরা মনে করি, বিশাল ঘাটতির ঋণনির্ভর বাজেট নির্বাচনী বছরের একটি ঘাটতি বাজেট। এ বাজেট অতিমাত্রায় উচ্চবিলাষী, যা বাস্তবায়নের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। দুই মেয়াদে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে, সে দিক বিবেচনায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের এটি দশম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বিশাল। আকারের দিক থেকে এ বাজেট অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অতীতের সব বাজেটেই অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ উপেক্ষা করে এই সরকার বিগত ৯টি অর্থবছরেই উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করেছে এবং সরকারদলীয় নেতানেত্রীরা এসব বাজেটকে বাস্তবসম্মত বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করতে দেখা গেছ্।ে কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে টানা ৯ বছর এ সরকার বাজেট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। বিগত অর্থবছরগুলোর মতো সদ্য বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত বাজেটের আকার কমানো হয়েছে। মূল বাজেট থেকে কাটছাঁট করা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদদের মতো আমরাও মনে করিÑ প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের অযোগ্য, চমকহীন, আয়ের ভিত্তি দুর্বল, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই। তা ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষিত পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক। অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে এর দূরত্ব অনেক। দুর্বল অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ঘোষিত হয়েছে এ বাজেট। ফলে আসলেই বিগত কয়েক বছরের মতো এ বাজেটও বাস্তবায়নযোগ্য হবে না। তা ছাড়া বাজেট বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেই। স্বাভাবিক নিয়মে বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কিছু পদক্ষেপ থাকা উচিত; কিন্তু এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ তো নয়ই, এমনকি এ ব্যাপারে কোনো সচেতনতাও নেই।
অপর দিকে ব্যাংক খাতের দীর্ঘ দিনের সমস্যা নিরসনেও কোনো দিকনির্দেশনা নেই। উল্টো জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকায় ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মেটানো হচ্ছে। এই বাজেটেও একই প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। তা ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেট অনেকাংশে দেশী ও বিদেশী ঋণনির্ভর।
এই বাজেট নিশ্চিতভাবে নির্বাচনমুখী বাজেট। নতুন করে জনগণকে করের চাপ না দিয়ে ঘোষিত হয়েছে এই বাজেট। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মন জয় করতে আয়-ব্যয়ে কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই ঘোষিত হয়েছে এ বাজেট। একটি পত্রিকা এ বাজেটকে ‘উচ্চবিত্তের তুষ্টি, মধ্যবিত্তের কষ্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যথার্থ কারণেই। মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে করমুক্ত আয়ের সীমা থাকছে আগের মতোই। আবার ছোট ফ্ল্যাট কেনার পর নিবন্ধন খরচ বাড়বে, যারা সোশ্যাল মিডিয়াসহ অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে আসছেন, তাদের এখন কর দিতে হবে। কিন্তু উচ্চবিত্তের জন্য সুযোগ রয়েছে এ বাজেটে। বড় আকারের ফ্ল্যাট কেনার নিবন্ধনের খরচ কিছুটা কমবে। ব্যাংকের করপোরেট কর কমানো হয়েছে। এ ছাড়া আয়করেও কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে।
আমরা মনে করি, সব সময় দেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্যরে ওপর নির্ভর করে বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট দেয়াই উত্তম। উচ্চাভিলাষী বাজেট দিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে না পারা জনগণের সাথে প্রতারণারই শামিল। এক দশক ধরে সরকার এই প্রতারণাই করে আসছে।

 


আরো সংবাদ