১৬ আগস্ট ২০১৮
পোশাক খাতে অসন্তোষের আশঙ্কা

নির্ধারিত সময়ে বেতন-বোনাস দিন

-

ঈদের আগে বেতন-বোনাসের দাবিতে তৈরী পোশাক খাতে বড় ধরনের অসন্তোষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় প্রতি বছর ঈদে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাসের দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভ দেখাতে হচ্ছে। শ্রমিকেরা যে অতিরিক্ত কোনো দাবি করছেন, তা নয়। শিল্পকারখানার মালিকদের ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি ও নায্য পাওনা দেয়ার অনীহার কারণে এ সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। তৈরী পোশাক শিল্পে বিক্ষোভ মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক রাখা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে; কিন্তু শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের দাবি আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনো সমস্যা নয়। তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার বিষয়।
শ্রমিকেরা দাবি করেছেন, ২০ রমজানের আগে তাদের বেতন ও বোনাস দেয়া হোক। বেশ কিছু কারখানামালিক এই সময়ের মধ্যে বেতন-বোনাস দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। দেশে হাজার হাজার তৈরী পোশাক কারখানা গড়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানা রুগ্ণ অবস্থায় চলছে। এই রুগ্ণ কারখানাগুলোর কারণে তৈরী পোশাক খাতে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। সাভারের রানা প্লাজা ধস ও তাজরীন গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডের পর এ খাতে শ্রমিক নিরাপত্তা ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা হয়নি। ’৮০-এর দশক থেকে তৈরী পোশাক খাত লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হওয়ার পর শিল্পকারখানা তৈরির মৌলিক শর্ত পূরণ না করে অনেকে এই ব্যবসায় শুরু করেন। এরা শ্রমিক অধিকারের দিকটি উপেক্ষা করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলেন। এসব শিল্পকারখানা শেষ পর্যন্ত সঙ্কটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঈদের আগে তৈরী পোশাক খাতে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে পারে তৈরী পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। ইতোমধ্যে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিজিএমইএ’র উচিত যেসব কারখানা বেতন ও বোনাস দিতে পারছে না, সেগুলো চিহ্নিত করা। ভবিষ্যতে এসব শিল্পকারখানা সচল রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসা। একই সাথে যেসব কারখানার মালিক বেতন-বোনাস দিতে অনীহা দেখাবেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া। বেশির ভাগ তৈরী পোশাক কারখানা সুষ্ঠুভাবে চলছে, অল্প কিছু কারখানার কারণে এ ধরনের অস্থিরতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 


আরো সংবাদ