১৯ জুন ২০১৮
মেডিক্যাল শিক্ষার মান কমছে

শিক্ষক ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে

-

বাংলাদেশের মেডিক্যাল কলেজগুলোতে শিক্ষার মান কমছে হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষক, লাইব্রেরি ও ল্যাবরেটরি অপর্যাপ্ত হওয়ার কারণে। একটি ইংরেজি দৈনিকে এ প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, অবিশ্বাস্য হলেও সত্যÑ বর্তমানে দেশের অনেক মেডিক্যাল কলেজে ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফার্মাকোলজি, প্যাথোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, কমিউনিটি মেডিসিন ও অ্যানাটমির মতো মৌলিক বিষয়ে এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য কোনো শিক্ষক নেই। মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে মেডিক্যাল কলেজগুলোতে নানা সমস্যা বিদ্যমান। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সূত্রে জানা যায়, সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে এবং বিশেষায়িত স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরের ৫০ শতাংশ পদই খালি পড়ে আছে।
এ দিকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে নির্ধারিত পদগুলোর অর্ধেকই খালি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র চিকিৎসকেরা বলেছেন, উদ্যোক্তাদের মুনাফাপ্রবণতা বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে মানসম্মত শিক্ষার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে চিকিৎসা শিক্ষার মানের অবনতি জাতির স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ‘নেতিবাচক প্রভাব’ ফেলেছে বলে তারা জানান। দেশে চিকিৎসা শিক্ষাদানের অঙ্গনে একধরনের অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শিক্ষক সঙ্কট দূর করার চেষ্টা চলছে। মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বর্তমানে যা আছে, তার চেয়ে কম হওয়া উচিত বলে মন্ত্রীর অভিমত। তিনি উল্লেখ করেন, মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েটরা শিক্ষক হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
বিএমডিসির রেজিস্ট্রার বলেছেন, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোকে আমরা বারবার তাগাদা দিয়েছি মানসম্মত শিক্ষা প্রদান এবং আইনকানুন মেনে চলার জন্য। কিন্তু তারা এতে কর্ণপাত করে না। বিএমএর সাবেক সভাপতি প্রফেসর রশিদ-ই-মাহবুব সরকারের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষক তৈরি এবং তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা না করেই দেশে এত সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বিরাজমান হ-য-ব-র-ল অবস্থা ইঙ্গিত দিচ্ছেÑ চিকিৎসা শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনিটর ও নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কর্তৃপক্ষ নেই।
উল্লেখ্য, মার্চ মাসে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোকে শিক্ষার মান উন্নত করতে বলেছেন। অপর দিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, এই কলেজগুলো মনিটর করার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
সবাই প্রত্যাশা করেন, অবিলম্বে শিক্ষার সঙ্কট এবং চিকিৎসা, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা দূর করে চিকিৎসা শিক্ষার কাক্সিত মান নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যেমন থাকা চাই, তেমনি শিক্ষকতার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ নেয়াও জরুরি।


আরো সংবাদ