১৬ আগস্ট ২০১৮
সিলেট সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা

নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

-

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশী নাগরিকেরা নিহত হচ্ছেন। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকেরাও এখন বাংলাদেশীদের ওপর চড়াও হচ্ছে। তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে সিলেট সীমান্তে। সিলেটের জৈন্তাপুর, বিছনাকান্দি ও কানাইঘাট সীমান্তে গত সাত বছরে ১৯ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। এরা সবাই সীমান্তের ওপারের খাসিয়াদের গুলিতে নিহত হয়েছে কিংবা ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। বাংলাদেশী নাগরিকেরা নো ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি ধানক্ষেত বা বনে গেলে হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। এমনকি বাংলাদেশের ভেতরে এসে ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা কিংবা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঢুকে খাসিয়াদের অত্যাচারের ব্যাপারে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বরং এ ধরনের ঘটনা চলছেই।
বাংলাদেশী নাগরিকদের ওপর ভারতীয় নাগরিকদের এ ধরনের হামলার ক্ষেত্রে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ রয়েছে। কারণ বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় সবসময় টহল কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। বিএসএফ চাইলে খাসিয়া সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে বিরত রাখতে পারে। এর আগে বিভিন্ন সময় খাসিয়ারা বাংলাদেশী নাগরিকদের ওপর হামলা করলে বিএসএফ পেছন থেকে সমর্থন জুগিয়েছে। এর আগে ২০১১ সালে খাসিয়ারা একসাথে সাতজন বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করে। এ সময় ভারত ও বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া প্রতি বছর সিলেট সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়ে থাকেÑ ভারতের সাথে এখন সর্বোচ্চপর্যায়ের সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সীমান্তের ঘটনাবলি প্রমাণ করে বাংলাদেশের মানুষের সাথে সুসম্পর্কের ব্যাপারে ভারত মোটেই আগ্রহী নয়। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এক দিকে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করছে; অপর দিকে ভারতীয়রাও একই কাজ করছে। এ থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। ভারতীয় নাগরিকেরা বিনা কারণে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করলেও তাদের আইনের আওতায় আনা হয় না। আমরা মনে করি, ভারতীয় নাগরিকদের এ ধরনের হামলার ঘটনার কড়া জবাব দেয়া দরকার। কারণ, বাংলাদেশের সরকার ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অধিকার আছে তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। এ ব্যাপারে বিজিবির পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগী ভূমিকা নেয়া উচিত।


আরো সংবাদ