২৩ জানুয়ারি ২০২০

মাত্রাতিরিক্ত খরচ প্রকল্প সংশোধনে

প্রতি কিলোমিটার সড়কের ব্যয় বাড়ল গড়ে ১০ লাখ টাকা
-

সংশোধনের নামে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কখনো রেট শিডিউল পরিবর্তন এবং কখনোবা নির্মাণসামগ্রীর দর বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে এই ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। ৮৫ থেকে ২ শ’ শতাংশ পর্যন্ত এই ব্যয় বাড়ছে। সংশোধনে এসে প্রতি কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে ব্যয় বাড়ল গড়ে ১০ লাখ টাকার বেশি। জামালপুর ও শেরপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে এই ব্যয় বৃদ্ধিতে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের পল্লী প্রতিষ্ঠান উইং। তারা বলছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধির চেয়ে ওই অর্থ দিয়ে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করাই যৌক্তিক।

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালের আগস্টে ৩৮৮ কোটি ৮১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে জামালপুর ও শেরপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। এখন এই ব্যয় ৩২৮ কোটি ৮৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৭১৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আগের প্রাক্কলন ২০১৪ সালের রেট শিডিউলে করা হয়। তখন উপজেলা পর্যায়ে প্রতি কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নব্যয় ৭৫ লাখ টাকা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যয় ৬০ লাখ টাকা এবং গ্রামপর্যায়ে ব্যয় প্রায় ৬০ লাখ টাকা করে ধরা হয়। চার বছরের প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক ছয় মাস আগে এসে প্রতিটি খাতে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে সড়ক প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় গড়ে ১০ লাখ টাকার বেশি বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮ সালের নুতন রেট শিডিউল ধরে প্রস্তাবনায় উপজেলা পর্যায়ে প্রতি কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ব্যয় ৮৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রামপর্যায়ে ৬৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা ধরা হয়। অন্য দিকে, আরসিসি সড়ক উন্নয়নে ব্যয় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা থেকে প্রতি কিলোমিটারে ১০ লাখ টাকা বাড়িয়ে এখন ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ প্রতি কিলোমিটারে ২২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকার বেশি ধরা হয়েছে। আর ব্রিজ বা কালভার্ট প্রতি কিলোমিটারে ইউনিয়ন ও গ্রামে একই হার ৬৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

এলজিইডি বলছে, ডিপিপি প্রণয়নকালে ২০১৪ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী পূর্ত কাজের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। বর্তমানে তা ২০১৮ সালের রেট ধরে করা হয়েছে। ২০১৫ সালের বেতন স্কেল ধরে প্রকল্পে নিয়োজিতদের বেতন ভাতা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর কারণে বেতন ভাতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিন বছরে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হলো ৬০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৪৬.৫৯ শতাংশ বা ১৮১ কোটি ১৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আর এলজিইডির ওয়েবের রিপোর্ট অনুযায়ী বাস্তব অগ্রগতি ৭৮ শতাংশ এবং আর্থিক ৭৩.৬৯ শতাংশ।

প্রস্তাবনার ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, সড়কের এই কাজে ২ কোটি টাকা ৩ জন পরামর্শকের সম্মানী ধরা হয়েছে নতুন করে। এখানে মাসে প্রতিজন পাবেন ৯৩ হাজার টাকা করে। প্রশিক্ষণ ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা, নিরীক্ষা ফি ৫ কোটি টাকা, আউট সোর্সিং দেড় কোটি টাকা, ২টি জিপ ২ কোটি টাকা, ২টি পিকআপ ২ কোটি টাকা। এই ব্যয়গুলো যৌক্তিক হবে না বলে পরিকল্পনা কমিশন মতামত দিয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের পল্লী প্রতিষ্ঠান উইংয়ের যুগ্ম-প্রধান বলছেন, সংশোধিত ডিপিপিতে ব্যয় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে; যা দিয়ে নতুন করে প্রকল্প গ্রহণ করা যৌক্তিক। নতুন করে সড়কের যে পরিমাণ কাজ যুক্ত করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে আরো ৫ থেকে ৭ বছর সময় প্রয়োজন হবে। তাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার। কেননা বাড়তি কাজে প্রকল্পটি আরো দীর্ঘায়িত হবে। এ ছাড়া সাড়ে ৩ বছর শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নের এই পর্যায়ে এসে প্রস্তাবিত নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক হবে না। তাই এসব বাদ দেয়া উচিত। উপরন্তু প্রকল্প সংশোধনের কারণগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি; যা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।


আরো সংবাদ

ঢাবিতে ৪ শিক্ষার্থী‌কে রাতভর নির্যাতন ছাত্রলীগের (১১৬০৭)তাবিথের আজকের প্রচারণায় জনতার ঢল (৭৪৩২)ইরানি হামলায় আহত মার্কিন সেনারা গোপনে যেখানে চিকিৎসা নিয়েছে (৬৫৯২)খুলে দেয়া হলো দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বন্ধ থাকা খদ্দের গেট (৫৩০৪)'বলির পাঁঠা' বানানো হয়েছিল আফজাল গুরুকে : বিস্ফোরক অভিনেত্রী (৫১৭৩)সোলাইমানি হত্যায় ট্রাম্পের যে দাবিতে চমকে যান তার উপদেষ্টারাও (৪৯৭১)আযাদ কাশ্মিরকে সব ধরনের সামরিক সমর্থন দেবে পাকিস্তানি সেনারা (৪৮২৬)‘মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিলে অবশ্যই আ’লীগ করতে হবে’ (৪৪৫৪)সূর্যগ্রহণ দেখে দৃষ্টিশক্তি হারালো ১৫ জন (৪২৫৫)লাহোরে বাংলাদেশ খেলবে দিনে, দেখে নিন টি-টোয়েন্টির সূচী (৪২১৯)



unblocked barbie games play