০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

বেঁধে দেয়া হলো রাষ্ট্র্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকের ঋণসীমা

বেঁধে দেয়া হলো রাষ্ট্র্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকের ঋণসীমা - ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের ঋণসীমা বেঁধে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সোনালী ব্যাংক বছর শেষে তাদের মোট ঋণের ১৭ শতাংশ, জনতা ব্যাংক ৫ শতাংশ, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক ২০ শতাংশের বেশি নতুন ঋণ বিতরণ করতে পারবে না। আগ্রাসী ব্যাংকিং বন্ধে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো মূলত নতুন ঋণ প্রদানে বেশি আগ্রহী। ক্ষেত্রবিশেষে দেখা যায়, নতুন ঋণ প্রদানে যত আগ্রহ থাকে, তত আগ্রহ ঋণ আদায়ে দেখা যায় না। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অন্য যেকোনো বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে এসব ব্যাংকে বেশি থাকে। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাদের ওপর দায় চাপিয়ে দেয়া হয়। বলা হয় গ্রাহকরা ঋণ পরিশোধ করছেন না। কিন্তু ঋণ প্রদানের আগে একজন গ্রাহকের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা কতটুকু তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা হয় না। তবে সোনালী ব্যাংকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক চাপ, সরকারের বিভিন্ন মহলের তদবির অন্য যেকোনো ব্যাংকের তুলনায় সরকারি ব্যাংকগুলোতে বেশি থাকে। ফলে সরকারি ব্যাংকগুলোর পক্ষে গ্রাহকের অনেক কিছুই দেখা সম্ভব হয় না। আর দেখতে চাইলে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার অবস্থা হয় ।

এমনি পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণের লাগাম টেনে ধরতে ঋণসীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। নতুন এ ঋণসীমার মধ্যে সোনালী ব্যাংক তাদের মোট ঋণের ১৭ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারবে না। আর তিন মাস অন্তর ঋণের প্রবৃদ্ধি সোয়া ৪ শতাংশের বেশি হবে না। এ দিকে এননটেক্স, ক্রিসেন্ট ঋণ কেলেঙ্কারি শনাক্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের মধ্যে বেশি সমস্যায় আছে জনতা ব্যাংক। বেশির ভাগ ঋণই এখন খেলাপি হয়ে গেছে। এমনি পরিস্থিতিতে চার ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংকের নতুন ঋণ লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়েছে ৫ শতাংশ। বছর শেষে ব্যাংকটি মোট ঋণ ৫ শতাংশের বেশি বিতরণ করতে পারবে না। সে হিসাবে তিন মাস অন্তর সোয়া এক শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারবে না। অপর দিকে চার ব্যাংকের মধ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক বছর শেষে ২০ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারবে না তাদের মোট ঋণের। সে হিসাবে তিন মাস অন্তর তাদের ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের তদারকি ও পরিদর্শন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক চারটির পরিচালনা পর্ষদ এমওইউ স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে চারটি ব্যাংক ইতোমধ্যে এমওইউ স্বাক্ষর করেছে।

জানা গেছে, বিভিন্ন অনিয়ম দূর করে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়। এ নির্দেশনা পরিপালনের জন্য প্রতি বছরই ব্যাংক চারটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এমওইউতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চারটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়, লোকসানি শাখা কমানো, ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসহ নানা লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়। লক্ষ্যমাত্রার আলোকে প্রতি তিন মাসের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ব্যাংককে নিয়ে বৈঠক করে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোকে যে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয় তা বাস্তবায়ন না হলে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এ কারণে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন শর্ত পরিপালনের লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও যেতে পারে না। বিশেষ করে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারে না।

সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলো জালজালিয়াতি বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা হরহামেশাই অমান্য করে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি তিন মাস অন্তর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সার্বিক আর্থিক সূচক পাঠানো হয়। কিন্তু ব্যাংকগুলো আর্থিক অগ্রগতির যে সূচক বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়, তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবতার সাথে মিল পাওয়া যায় না। বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ঋণ নবায়নসহ নানা ঋণজালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে। ঋণ নবায়ন থেকে শুরু করে খেলাপি ঋণের তথ্য প্রদর্শনসহ নানা ধরনের ঋণজালিয়াতির আশ্রয় নেয় এসব ব্যাংক। এসব বন্ধে ইতোমধ্যে নতুন করে ব্যাংক চারটির সাথে এমওইউ স্বাক্ষর করা হয়েছে।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik