০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
টিকেটের টাকা ফেরত নিতে স্টেশনে মাইকিং

ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে - ছবি : সংগৃহীত

ব্রাক্ষনবাড়িয়ার মন্দবাগ ও সিরাজগজ্ঞে পৃথক দুটি ভয়াবহ ট্রেন দুঘটনার পর রেলপথে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তির মাত্রা চরমে উঠেছে।

নির্ধারিত সময়ে ট্রেনগুলো গন্তব্যর উদ্দেশ্য ছেড়ে না যাওয়ার কারনে অধিকাংশ যাত্রীকেই স্টেশনে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ঠায় বসে থাকতে হচ্ছে। তবে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ বিলম্বে ট্রেনে ছেড়ে যাওয়া এবং আসার বিষয়টি মাইকিং করে বলা হচ্ছে, যারা বিলম্বে যাত্রা করতে না চান, তাদেরকে কাউন্টারে টিকিট জমা দিয়ে টাকা ফেরত নিতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

শুক্রবার রাত পৌণে ১টা। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ৬ ঘন্টা বিলম্বে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ছেড়ে যায়। একইভাবে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার সময় থাকলেও সেটি শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত স্টেশনে এসেই পৌছেনি। শুধু বেনাপোল আর সুন্দরবন এক্সপ্রেস নয়, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারছে না। এর কারণে স্টেশনে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে করতে শিশুসহ নানা পেশার যাত্রীরা কাহিল হয়ে পড়ছেন। এরমধ্যে ভোগান্তিতে থাকা যাত্রীরা তাদের নিধারিত ট্রেনের অবস্থান জানতে মোবাইলে এসএমএম এর সহযোগিতা নেয়ার চেষ্টা করলেও মোবাইল সার্ভিস কাজ না করায় তাও জানতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় কমলাপুর স্টেশনে খোঁজ নিতে দেখা যায়, ট্রেন বিলম্বের কারণে অনেকেই স্টেশনের বেঞ্চে বসে ঠায় অপক্ষায় থাকতে। কেউ কেউ আবার ব্যাগের মধ্যে মাথা গুজে ঘুমিয়ে পড়ছেন। কেউ আবার চুরি ছিনতাইয়ের ভয়ে পকেটের ভেতর হাত ঠুকিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছেন। তবে এসময় স্টেশন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে মাইকিং করে বলা হয়, সম্মানিত যাত্রী সাধারণ, আমাদের লালমনি এক্সপ্রে ট্রেন বিলম্বে আসার কারণে আমরা দু:খিত। ট্রেনটি রাত ২টায় স্টেশনে এসে পৌছানোর কথা রয়েছে। যারা যাত্রা করতে চান না তারা দয়া করে কাউন্টারে টিকেট জমা দিয়ে টাকা ফেরত নিতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল হক সাংবাদিকদের জানান, ব্রাক্ষনবাড়িয়া ও সিরাজগঞ্জে দুটি ট্রেন দুঘটনার পর ট্রেন চলাচলে সমস্যা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও ঈশ্বরদী ঢাকা রেলপথে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলস্টেশনের আগে রেলক্রসিংয়ে রংপুর আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুতির পর এই রুটে ট্রেন চলাচলে এখনো কিছুটা সমস্যা রয়ে গেছে। আজকালের মধ্যে আশা করছি শিডিউল স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

উল্লেখ্য ১২ নভেম্বর (মঙ্গলবার) ব্রাক্ষনবাড়িয়ার মন্দবাগ রেলস্টেশনে ঢাকামুখী তুর্ণা এক্সপ্রেসের সাথে সিলেট থেকে চট্টগ্রামমুখী উদয়ন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষের ঘটনায় শিশুসহ ১৬ জন নিহত হন। এসময় শতাধিক যাত্রী আহত হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক। এঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুতির পর আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

দুটি ঘটনায় রেলপথ মন্ত্রনালয় থেকে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কি কারণে দুঘটনাগুলো ঘটেছে সেই কারণ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। রেলওয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রাক্ষনবাড়িয়ার দুঘটনার বিষয়টি একটু জটিল। তাই সময় নিয়ে সঠিক প্রতিবেদন দেয়ার লক্ষ্য সময় নেয়া হচ্ছে। অপরদিকে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের কারণ উদঘাটনেও গঠিত হয়েছে একাধিক তদন্ত কমিটি। রেলপথ মন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik