০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

নিরাপত্তা নিয়ে উভয় সঙ্কটে ব্যাংকিং খাত

ব্যাংক নিরাপত্তায় অধিক সঙ্কটে পড়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তার জন্য ব্যাংক ও ব্যাংকের শাখাগুলোয় অধিক সংখ্যক সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী অন্যের নিরাপত্তা বিধানে পেশাগত কারণে তার নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না। এক দিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা, অপর দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা দেখা দিয়েছে ব্যাংকগুলোর জন্য।

জানা গেছে, বেশির ভাগ ব্যাংক আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংক বেসরকারি নিরাপত্তাসেবা প্রদানকারী সংস্থার সাথে বিভিন্ন মেয়াদে চুক্তি করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এত দিন ব্যাংকগুলো নিরাপত্তার জন্য ওইসব বেসরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছ থেকে সশস্ত্র প্রহরী নিয়োগ দিয়ে আসছিল। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা নিয়ে গত ১৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬ এর ২৫(ক) এবং ২৫(গ) এর আলোকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা আইন, ২০০৬ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচ্য নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অধিকার নেই। এ কারণে বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো ব্যাংকগুলোর সশস্ত্র প্রহরী সরবরাহ করতে পারবে না।

এদিকে ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া শাখায় ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ডাকাতদলের সশস্ত্র হামলায় আটজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ওই বছরে ব্যাংকিং খাতে আরো চারটি চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর পরেই ব্যাংকগুলোর শাখার নিরাপত্তার জন্য নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তার জন্য পর পর দু’টি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ২০১৫ সালের ৫ জুলাই জারিকৃত ৭ নম্বর সার্কুলারে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যাংক ও ব্যাংক শাখায় অধিক সংখ্যক সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োজিত করতে হবে। একই সাথে ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরীদের অস্ত্র চালানোর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এত দিন ব্যাংকগুলো প্রধান শাখা ও ব্যাংক শাখায় নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র প্রহরী নিয়োগ করে আসছে। এ ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করলেও বেশির ভাগ ব্যাংকই বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী সংস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে আসছে। এ জন্য বেসরকারি নিরাপত্তা সেবাপ্রদানকারী সংস্থার সাথে বিভিন্ন মেয়াদে ব্যাংকগুলো চুক্তি করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পরিপালনে ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে সম্প্রতি জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার নিয়ে। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সাথে বৈঠকে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ বিষয়ে দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, সশস্ত্র প্রহরী নিয়োগ ব্যয়বহুল। এ ছাড়া সন্ধ্যার পরে তো আগ্নেয়াস্ত্রগুলো ব্যাংকের ভল্টে জমা রাখা হয়। এ কারণে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করতে আগ্রহী। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পরিপালন করা যায় না।

এ বিষয়ে এবিবি প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মাহবুবুর রহমান গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচ্য প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো ব্যাংক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারকারী প্রহরী নিয়োগ করতে না চাইলে ব্যাংকের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র আনসার মোতায়েন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী ব্যাংক আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করে নির্ধারিত ভাতা প্রদানের শর্তে সশস্ত্র প্রহরী নিয়োগ করতে পারবে।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik