১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সূচকের নিম্নমুখীতায় পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

সূচকের নিম্নমুখীতায় পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা - ছবি : সংগৃহীত

টানা দরপতনে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক হারিয়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাওয়া হয়ে গেছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। দেখা দিয়েছে লেনদেন খরাও। বাজারের এমন দুরবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ভয়াবহ এ দরপতনের কবলে পড়ে দিন যতই যাচ্ছে ততই পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হতাশা।

বিশ্লেষনে দেখা যায়, গত ১৩ জুন ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ২ হাজার ১১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ওই দিন ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজর ৪৭৪ পয়েন্ট। অব্যাহত দরপতনে সর্বশেষ গত ৮ আগষ্ট ডিএসইর বাজার মুলধন ১৫ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা কমে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায় নেমে আসে। একই সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৭৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২০১ পয়েন্টে নেমে আসে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। একইসঙ্গে টানা দরপতনের কারণে পুঁজিবাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে নেমেছে। আর এই দরপতনের পেছনে বাজার বিশ্লেষকরা আর্থিক খাতের দূরবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটকে দায়ী করছেন।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আমরা দিনের পর দিন পুঁজিবাজারের উত্থানে নানা কর্মসূচি করে আসছি বিক্ষোভে বিনিয়োগকারীরা বলেন, কিন্তু রেগুলেটরসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ এ ব্যাপারে কোনো প্রকার ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি না। কেন জানি দেখেও না দেখা ভান করছে বিএসইসি। বাজারের এমন নাজুক দশা দূর করতে যদি বিএসইসি থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হতো তাহলে বাজার ঘুরে যেত। যেহেতু দীর্ঘসময়ের পরও তারা এমন করতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।

বিএসইসির কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনিয়োগকারীরা বলেন, বিএসইসির কর্মকর্তারা যদি বিনিয়োগকারীদের কথা চিন্তা করে কাজ করেন তবে বাজারে যে চলমান অস্থিরতা থাকবেনা। পুঁজিবাজার পতনের কারণে পুঁজি হারাচ্ছে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করে বিনিয়োগকারীরা বলেন, বিনিয়োগ হারিয়ে আমরা রাস্তায় এসে পড়েছি। বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে আমরা গণহারে মারা যাব।

বিক্ষোভে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ বলেন, দরপতনের প্রতিবাদে আমরা রোজার ঈদের আগেও বিক্ষোভ করেছি। কিন্তু পতন ঠেকাতে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। পতন রোধে আগামীতে বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দিব।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজার কে আরো শক্তিশালী করতে হবে। আর এই শক্তিশালীকরার ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের একটা ভুমিকা রয়েছে। পুঁজিবাজারের তারল্য প্রবাহের বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ আমাদের দেশে অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে থাকেন। একটি আরেকটির সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, ব্যাংকের কার্যক্রম পুঁজিবাজারকে সার্বিকভাবে প্রভাবিত করে। ফলে ব্যাংক খাতের শেয়ারে বড় রকমের ধস হলে সার্বিকভাবে পুঁজিবাজারেও ধস নামবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হবে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংকটের কারণে পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পুঁজিবাজারে দরপতন হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পিপলস লিজি অবসায়নের খবরে পতনের মাত্রা আরও বেড়েছে।

খেলাপি ঋণের কারনে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে ১০ টি ব্যাংক। এর মধ্যে সরকারি ও বিশেষায়িত খাতের ৬টি ব্যাংক রয়েছে। বাকি চারটি ব্যাংকের মধ্যে ৩টি বেসরকারি এবং একটি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে। সম্মিলিতভাবে দশটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ১৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা।ব্যাংকগুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, এবি ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে আসে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এটি বিতরণকৃত ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। সর্বশেষ তিন মাসে দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অবসায়ন হতে যাচ্ছে পিপলস লিজিং। ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর পিপলস লিজিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। যাত্রা শুরুর ২২ বছরের মাথায় গত জুলাই মাসে এটি অবসায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে আমানতকারীদের মোট ২ হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা আটকা পড়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাকি ৭০০ কোটি টাকা রয়েছে ৬ হাজার সাধারণ গ্রাহকদের আমানত। এছাড়াও আরো দশটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বর্তমান তারল্য সংকটের কারণে আমানতকারীদের আমানত পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে পুঁজিবাজারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।


আরো সংবাদ

আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনালে জেলা জজ নিয়োগ দেয়া হবে : আইনমন্ত্রী ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপালের জামিন নাকচ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মৎস্যজীবী দলের মানববন্ধন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ অধিক সার ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর : কৃষি মন্ত্রী যথাযথ সেবা পেলে মানুষ কর দিতে উৎসাহিত হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী নিরাপদ অভিবাসনের লক্ষ্য পূরণই আমাদের অঙ্গীকার প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়নের আবেদন সাইটসের্ভাসের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আ’লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন করার নির্দেশ হাসপাতালে নবজাতক কন্যা ফেলে বাবা-মা উধাও ঢাবিতে ‘ইয়ুথ ইমপ্যাক্ট : আনলিশিং দ্য পাওয়ার অব ইয়ুথ’ শীর্ষক সেমিনার শুরু

সকল