১৯ আগস্ট ২০১৯

নদীর তীর সংরক্ষণ ব্যয়ে লাগাম নেই

নদীর তীর সংরক্ষণ ব্যয়ে লাগাম নেই - ছবি : সংগৃহীত

উন্নয়ন খাতের বিশাল অঙ্কের অর্থ যাচ্ছে পানিসম্পদ খাতে। আর তা হলো নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণে। বছর ঘুরলেই এই তীর সংরক্ষণ খাতের ব্যয় বেড়েই চলছে। কোনো ধরনের লাগাম নেই এই উন্নয়ন খরচে। একই দেশে নদীর তীর সংরক্ষণ ও রক্ষা ব্যয়ে আকাশ-পাতাল তার তথ্য। কোথাও ১৩ কোটি টাকা, কোথাও সোয়া ২১ কোটি টাকা, কোথাও ৫৪ কোটি টাকা আবার কোথাও ৬৯ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের সেচ উইং এই ব্যয়ের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, কিলোমিটার প্রতি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনা দরকার। অন্যান্য প্রকল্পের সাথে এই ব্যয় কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার পদ্মার শাখা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে নওয়াপাড়া এলাকা এবং পদ্মা নদীর বাম তীরের ভাঙন থেকে চরআত্রা এলাকা রক্ষায় ৫৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে নদীর ৮.৭০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৮ কোটি ১৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ফলে প্রতি কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ করতেই খরচ হবে ৫৩ কোটি ৮১ লাখ ১৮ হাজার টাকা। একই মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত অপর প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে তীর সংরক্ষণের একই কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আর প্রকল্পটি হলো কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সড়র উপজেলা, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলাধীন ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডান তীর সংরক্ষণ এবং ড্রেজিং। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬৯৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এই দুই প্রকল্পে তীর সংরক্ষণ কাজের ব্যবধান ৩২ কোটি ৫৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। 

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চলমান অন্যান্য প্রকল্পের ব্যয়ের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, তীর সংরক্ষণ ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি নির্দেশনা না মেনেই প্রস্তাবনা তৈরির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে প্রকল্পের খরচে কোনো ধরনের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। পানিসম্পদ খাতে বিশেষ করে নদী ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ব্যয় হু হু করে বাড়ছে। বছর ব্যবধানে এসব কাজে কিলোমিটার প্রতি খরচ ১০ কোটি কোটি টাকার বেশি হারে বাড়ছে। পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার মুন্সিগঞ্জ থেকে খানপুরা এবং কাজিরহাট থেকে রাজধরদিয়া নামক এলাকায় যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষক শীর্ষক পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা ব্যয় ৭৩৯ কোটি ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। এখানে অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ৪ দশমিক ৮১২ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ। যার ব্যয় ৩৩২ কোটি ৬১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। এখানে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হবে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। যেখানে গড়াই নদীর তীর রক্ষায় কিলোমিটারে ২৬.১২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। 

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ডাম্পিং মেটারিয়াল হিসেবে জিও ব্যাগ ১০ মিটার, সিসি ব্লক ১২ মিটার ব্যবহার করা হবে। সিসি ব্লকগুলো হবে ৩০ সেন্টিমিটার গুণ ৩০ সেন্টিমিটার গুণ সেন্টিমিটার আকারের ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৫০১টি। ৩৫ সেন্টিমিটার গুণ ৩৫ সেন্টিমিটার গুণ ৩৫ সেন্টিমিটার আকারের মোট ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯৯টি সিসি ব্লক। আর ২৫০ কেজির ৭ রাখ ৩৬ হাজার ৬৫৯টি জিও ব্যাগ। ফলে এখানে কিলোমিটারে ব্যয় হবে সোয়া ২১ কোটি টাকা। আর শরীয়তপুরের পদ্মার জন্য সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগের আকার ছোট। এখানে চরআত্রাতে ৩০ ঘনমিটারের জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ৩০ ঘনমিটারের এবং নওয়াপাড়াতে জিও ব্যাগ ১৫ ঘনমিটারের এবং সিসি ব্লক ১৫ ঘনমিটারের। কিন্তু এই প্রকল্পে কিলোমিটারে ব্যয় কুড়িগ্রামের চেয়ে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা বেশি। পরিকল্পনা কমিশনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কারিগরি মতামত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পাঠানোর আগে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি তা খসড়া প্রকল্প প্রস্তাবনায় যুক্ত করতে হবে; যাতে ব্যয় বিভাজনগুলো যথার্থ কি না যাচাই করা সম্ভব হয়। 

পরিকল্পনা কমিশণের সংশ্লিষ্ট উইং সূত্র বলছে, নদীর তীর সংরক্ষণের কাজে চেইনেজ, স্থাপন, নকশা ও এ কাজে ব্যবহৃত মালামালের বিস্তারিত বিবরণ প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয় না। এসব খাতের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা উচিত। প্রতিটি নদীর তীর সংরক্ষণে বেশির ভাগই একই ধরনের মালামাল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ব্যয়ের ব্যবধান মাত্রাতিরিক্ত।


আরো সংবাদ

bedava internet