২২ আগস্ট ২০১৯

আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে সূচক, ফের বড় ধ্স পুঁজিবাজারে

আড়াই বছরের সর্বনিম্নে সূচক, ফের বড় ধ্স পুঁজিবাজারে - ছবি : সংগ্রহ

পতনই যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজারের। চরম আস্থাহীনতায় ধুঁকতে থাকা পুঁজিবাজার মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আবারো বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে। রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সূচকের প্রায় ১০০ পয়েন্ট হারিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) হারিয়েছে প্রধান সূচকটির ৩০৯ পয়েন্ট। আর এভাবে দুই পুঁজিবাজার সূচক নেমে এসেছে বিগত আড়াই বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে। এর আগে গত ১৫ জুলাই দুই পুঁজিাবাজার যথাক্রমে ৯০ ও ২৬১ পয়েন্ট সূচক হারায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৯৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট হারায়। ৫ হাজার স১৩০ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি রোববার দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৩৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ৩০ দশমিক ১৫ ও ১৮ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচকটি হ্রাস পায় ৩০৮ পয়েন্ট। এখানে সিএসসিএক্স ও সিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ১৯ ও ২০ পয়েন্ট।

গত ১৫ জুলাই বড় ধরনের দরপতনের শিকার হয় দেশের দুই পুঁজিবাজার। এর পর দু’দিন বাজারগুলোতে পতন থামলে কিছুটা স্বস্থি ফিরে বাজারে। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু তাদের এ প্রত্যাশার বিপরীত আচরণ করে পুঁজিবাজার। রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসটি শুরু হতেই প্রচন্ড বিক্রয়চাপের শিকার হয় দুই পুঁজিবাজার। প্রথম তিন মিনিটের মধ্যেই ৩০ পয়েন্ট সূচক হারায় ডিএসই। শুরুতেই বাজারের এ আচরণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কের জন্ম দেয়। আরো তীব্র আকার ধারণ করে বিক্রয়চাপ।

৫ হাজার ১৩০ দশমিক ৬৯ পয়েঢন্ট থেকে যাত্রা করা ডিএসইএক্স সূচকটি প্রথমে ৫ হাজার ১৫৫ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করলেও মাত্র এক মিনিটের মধ্যে তা নেমে আসে ৫ হাজার ১২৫ পয়েন্টে। এরপর বিক্রয়চাপ আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রচন্ড দরপতনের শিকার হতে থাকে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলো। ফলস্বরূপ ব্যাপকভাবে অবনতি ঘটতে থাকে বাজার সূচকের। দিনের বাকি সময় এ চাপ অব্যাহত থাকলে এ পর্যায়ে সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ২৬ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে ডিএসসি সূচকের অবনতি ঘটে ১০৪ পয়েন্ট। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের পর ডিএসই সূচক আর এ পর্যায়ে নামেনি। তবে শেষ কয়েক মিনিটে হারানো সূচকের মাত্র কয়েক পয়েন্ট ফিরে পায় বাজারটি। দিনশেষে ৯৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৩৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে স্থির হয় সূচক।

রোববার লেনদেনের প্রথমদিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ পতন সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তিতে তা অন্য খাতগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল মিউচুয়াল ফান্ড ও বিমা খাত। যেখানে অন্য খাতগুলোর কোম্পানি দর হারায় সেখানে মিউচুয়াল ফান্ডের বেশিরভাগ ছিল মূল্যবৃদ্ধির তালিকায়। বিমা খাতের আচরণ ছিল মিশ্র। দিনশেষে দুই পুঁজিবাজারে দরপতনের শিকার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ কোম্পানি। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩৫২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৬১টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২৭৩টি। অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির দর। অপরদিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে রেনদেন হওয়া ২৮৪টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৪২টির দাম বাড়ে, ২৩১টির দাম করে এবং ১১টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত থাকে।
রোববার বিভিন্ন ব্রোকার হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং হাউসগুলোতে গিয়ে দেখা যায় বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের মাথায় হাত। কেন এভাবে বাজারের পতন ঘটছে সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। এছাড়া ক’দিন আগেও বাজারের পতনে তাদের মধ্যে বিক্ষুদ্ধ ভাব দেখা গেলেও রোববার তেমনটি দেখা য্রায়নি। এ যেন ‘অধিক শোকে পাথর’ হওয়ার মতো। মূলধনের প্রায় পুরোটাই এমুহূর্তে ঝুঁকিতে থাকায় তারা অনেকটা নির্বাক। এমনকি বাজার নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। দু’একজনের মন্তব্য ছিল সরকার ইচ্ছা করলে বাজার বন্ধ করে দিতে পারে। এতে মানুষ লোকসানের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet