১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতার অভাব রয়েছে : টিআবি

বুধবার টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন - নয়া দিগন্ত

উন্নয়ন প্রকল্পের তুলনায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নরত প্রকল্পগুলো আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ হলেও সম্পাদিত কাজের মান দূর্বল। এর কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নরত প্রকল্পগুলোর সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাব রয়েছে।

‘জলবায়ু ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য নিরূপণ: কোনটি অধিক দক্ষ, কার্যকর ও স্বচ্ছ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বুধবার টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব তথ্য দিয়ে সংস্থাটি জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে গৃহিত প্রকল্প অধিকতর কার্যকর ও ফলপ্রসু করতে এডিপি’র কর্মপদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করেছে। আর এজন্য এডিপি’তে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রমসমূহ সুনির্দিষ্ট করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন ইউনিটের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম. জাকির হোসাইন খান। টিআইবি’র ফেলোশীপের আওতায় গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রণয়ন ও উপস্থাপন করেন এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট (এসিডি)-র পরিচালক ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ.কে. এনামুল হক এবং এসিডি’র এশীয় ফেলো ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইসতিয়াক বারি।

সংস্থাটির জানিয়েছে তাদের গবেষণার আওতায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড এর অধীনে গৃহীত বা বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর প্রভাব পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রধানত অর্থনৈতিক, দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক উন্নয়ন, জলবায়ু সহিষ্ণুতায় সক্ষমতা তৈরি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এই কয়েকটি ক্ষেত্রে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয় গবেষণায় অংশগ্রহণকারী তথ্যদাতারা মনে করেন, উপকারভোগী জনগোষ্ঠীর প্রাপ্ত সুবিধা বিবেচনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে গৃহীত ও বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নরত প্রকল্পগুলোর তুলনায় অধিকতর কার্যকর এবং অধিকতর দক্ষতার সাথে ব্যবস্থাপনা করা হয়। এছাড়া অন্যান্য ডিএসি মানদণ্ড যেমন উপকারভোগী জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের সাথে প্রকল্পের কর্মকান্ডের সংগতি, নিদিষ্ট সময়ে প্রকল্প কাজ শেষ হওয়া ও টেকসই ইত্যাদি বিবেচনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নরত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তেমন কোন ভিন্নতা পাওয়া যায়নি।

আর এজন্য সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করে বলা হয়, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড এর অধীনে বাস্তবায়নরত বা পরিকল্পনাধীন নতুন প্রকল্পগুলো যদি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-র বাস্তবায়ন ও তদারকি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, তবে তা অধিকতর কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে এডিপি’র মধ্যেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সংশ্লিষ্ট অনেক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে যদি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রমসমূহ সুনির্দিষ্ট এবং পৃথক করা সম্ভব হয় তাহলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলসমূহে বাংলাদেশ আরো অধিকতর অভিগম্যতা অর্জনে সক্ষম হবে।

এ ব্যাপারে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশসমূহের অঙ্গীকারের তুলনায় বাংলাদেশসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশে জলবায়ু অর্থ প্রবাহ এখনো পর্যন্ত খুবই নগন্য। সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রতি বছর যেখানে ২.২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, তার বিপরীতে এখনো পর্যন্ত গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে মাত্র ১১৩ মিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যার বাস্তবায়নকারী প্রধান কর্তৃত্বও বিদেশী সংস্থার হাতে।

আন্তর্জাতিক সূত্রে প্রাপ্য অর্থের প্রবাহ অদূর ভবিষ্যতে খুব বেশি বাড়বে এমন আশা করাও বিভিন্ন কারণে দুরূহ। এই প্রেক্ষিতে জাতীয় সূত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও ক্ষতি মোকাবেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন-তা বিসিসিটিএফ এর মাধ্যমেই হোক, সনাতন উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবেই হোক- অপরিহার্য ও সর্বোচ্চ প্রাধান্যের যোগ্য। তিনি আরো বলেন, ‘এ গবেষণায় যে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উত্থাপিত হল, তা হচ্ছে, উভয় ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিশেষায়িত উপাদানগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং তার ওপর ভিত্তি করে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, দেশি বিদেশী উভয় সূত্রে বাজেট বরাদ্দ, পরিমাপযোগ্য বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও নিরীক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ও কার্যকরতা বৃদ্ধি করা।’

অপরদিকে সংবাদ সম্মেলনে এম. জাকির হোসাইন খান বলেন, ‘আমাদের মূল চ্যালেঞ্জটা হলো, এখন পর্যন্ত আমরা স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ভবিষ্যত ঝুঁকি সঠিকভাবে নিরূপন করতে পারি নাই। ফলশ্রুতিতে উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে জাতীয়ভাবে জলবায়ু অর্থায়ন কৌশলপত্র প্রণয়নের প্রস্তাব থাকলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহ করতে হলে অবিলম্বে আমাদের জাতীয়ভাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি নিরূপন এবং জলবায়ু অর্থায়নে কৌশলপত্র প্রণয়ন করা জরুরী।’

 


আরো সংবাদ

রাজধানীতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫ পুলিশ সদস্য রিমান্ডে নবম ওয়েজবোর্ডে রোয়েদাদ সুবিধা সঙ্কুচিত করার প্রতিবাদ এমইউজে খুলনার নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীকে বিএফইউজের ধন্যবাদ ভিসির ছেলের ফোনালাপের রেকর্ড শুনলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে : সাদ্দাম হোসেন জাফর উদ্দিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ৪ সচিবকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি কাফরুলে স্কুলভবন থেকে লাফিয়ে ছাত্রের আত্মহত্যার চেষ্টা টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্মোৎসবের বিলবোর্ড অপসারণ নিয়ে তোলপাড় পেঁয়াজের বাজারে আগুন : কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা বশেমুরবিপ্রবির ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ডুজার আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর সভা কাল

সকল