১৫ অক্টোবর ২০১৯

টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ অধ্যক্ষের কান্ড

টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ অধ্যক্ষের কান্ড - সংগৃহীত

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ না করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবাদ সভা করলেন টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়া। একাধিক সংবাদ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আলোচিত দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ হলেও একটি দৈনিক পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক শেখ আজিজুল হককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষোদগার করা হয়।

অভিভাবকদের উদ্ধৃতি একটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির খেলার মাঠ হকারদের কাছে ভাড়া দিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে। সংবাদটির আলোচিত অংশের কারণে স্কুল মাঠের হকারদেরকেও ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উস্কে দেন অধ্যক্ষ। হকারদের দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলের প্রধান ফটকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করানো হয়। সেখানে সাংবাদিকদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে বক্তৃতা দেয়া হয়।

এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষের এ ধরণের প্রতিবাদ সভাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা বিরোধী উল্লেখ করে স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবাদ সভায় তাৎক্ষনিকভাবে উপস্থিত হয়ে অনেক সাংবাদিক এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। একাধিক সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেও শুধুমাত্র দু’জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কেন প্রতিবাদ সভা করা হচ্ছে স্থানীয় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান অধ্যক্ষ। এদিকে অধ্যক্ষের উস্কানিমূলক বক্তব্য, বিষোদগার ও হকারদের লেলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এব্যাপারে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার জিএমপির টঙ্গী পশ্চিম থানায় সাংবাদিক আজিজুল হক সাধারণ ডায়েরীর আবেদন করেছেন। এব্যাপারে থানার ওসি এমদাদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাধারণ ডায়েরীর আবেদন পেয়েছি। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব।

এদিকে সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ কতৃপক্ষের দুর্নীতির চিত্র উঠে আসছে। বিভিন্ন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আরো ব্যাপক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করা হচ্ছে। যে কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের রাষ্ট্রীয়করণের তালিকায় রয়েছে তার মধ্যে টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ অন্যতম বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি করণের আগেই তড়িগড়ি করে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে এর তহবিল লুটপাটের আয়োজন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেককে মন্তব্য করতে শোনা গেছে, এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাটের খবর ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অধ্যক্ষ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে প্রমাণ করেছেন, ‘ঠাকুর ঘরে কে রে; আমি কলা খাই না।’

এদিকে অধ্যক্ষের প্রতিবাদ সভায় যারা অংশ নেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষকেও প্রতিবাদ সভায় অধ্যক্ষের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য হাজির করা হয়। এতে বর্তমান অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন মিয়া ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বিতর্কিত শিক্ষক প্রতিনিধি আবু জাফর আহম্মেদ, কথিত সমন্বয়কারী ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন প্রভাষক আমজাদ হোসেন, কলেজ ইনচার্জ মাহবুবউল আলম, ইনচার্জ কামাল হোসেন, শাহাব উদ্দিন সজিব (ইতিপূর্বে এক অভিভাবকের চোখে আঘাত করে জরিমানা দেন) প্রমুখ।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum