২০ জুন ২০১৯

নতুন ভ্যাট আইন ছয় স্তরে বাস্তবায়িত হবে

নতুন ভ্যাট আইন ছয় স্তরে বাস্তবায়িত হবে - ছবি : সংগ্রহ

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একইসঙ্গে তিনি এই আইনে ৬ স্তরে ভ্যাট আদায়ের প্রস্তাব করেছেন।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন,‘গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আইনটি কার্যকর করার যে প্রস্তাব করা হয়েছিল তা ব্যবসায়ীগণের অনুরোধে দু’বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়। এ আইনটি এ বছর বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঐক্যমত হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী নতুন আইনটি সহজ,প্রাঞ্জল ও অধিকতর ব্যবসাবান্ধব করার জন্য মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন,২০১২ এর কতিপয় সংশোধন,পরিমার্জন, পরিবর্তন ও সংযোজনের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ২০১৯-২০ এর বাজেটটিতে দেশের জনগনের নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে তেমন কোন উপকরণ অন্তর্ভূক্ত করি নাই।
প্রস্তাবনায় তিনি একক ভ্যাট হারের পরিবর্তে পণ্য বা সেবা আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ, উৎপাদনে ১০ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ এবং খুচরায় ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেন। পণ্যের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ঔষধ ও প্রেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানের ন্যায় স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট হার যথাক্রমে ২.৪ শতাংশ এবং ২ শতাংশ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে করভার কমানোর জন্য মূসক হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উল্লেখ করেন।
তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থে নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় টার্নওভার তালিকাভূক্তিরসীমা ৩০ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পকে উৎসাহ প্রদানে টার্নওভার করের সীমা ৫০ লাখ হতে বৃদ্ধি করে ৩ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ৫০ লাখের ওপর হতে ৩ কোটি টাকা বিক্রিসম্পন্ন ব্যবসায়ীকে মাত্র ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দিতে হবে।
ভ্যাট নিবন্ধন সীমা ৫০ লাখ টাকা হতে ৩ কোটি টাকায় উন্নীতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন আইনে। ১৫ শতাংশ মূসক প্রযোজ্য যেসব ক্ষেত্রে সেখানে দাখিলপত্রের মাধ্যমে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাবে।

এছাড়া নতুন আইনে পণ্য সরবরাহের পূর্বে বিদ্যমান মূল্য ঘোষণা পদ্ধতি রহিত করে বিনিময় বা ন্যাষ্য বাজার মূল্যের ভিত্তিতে কর পরিশোধ ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমানে পণ্য সরবরাহের পূর্বে প্রযোজ্য কর ‘হিসাব চলতি’ নামক হিসাবে জমা রাখার বিধান রয়েছে; নতুন আইনে ‘হিসাব চলতি’ সংরক্ষণ করতে হবে না। ব্যবসায়ী মাসশেষে দাখিলপত্রের মাধ্যমে কর পরিশোধ করবেন।
সূত্র : বাসস


আরো সংবাদ