২৬ জুন ২০১৯

মোজাফ্ফর আহমদ ছিলেন সামাজিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের সাহসি পথিকৃত ও প্রাণ-পুরুষ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভায় অতিথিরা - নয়া দিগন্ত

অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ একজন সহৃদয়, হৃদয়বান সৎ মানুষ ছিলেন, ছিলেন অন্যের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ – তিনি আমাদের আদর্শ হয়ে থাকবেন। সমকালিন বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন অর্থনীতিবিদ, জাতীয়তাবাদি অর্থনীতির অনন্য প্রবক্তা, সামাজিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ছিলেন তিনি।
শনিবার দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের সাহসি পথিকৃত ও প্রাণ-পুরুষ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচকরা এসব কথা বলেন।
ধানমন্ডির মাইডাস ভবনের ইএমকে সেন্টারে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘আমাদের অর্থনীতি চর্চায় অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের অবদান’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা ২০১৯ প্রদান করেন অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান। স্মৃতি সংসদের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ স্মৃতি সংসদের ওয়েবসাইট www.muzafferahmad.com আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মাউসে ক্লিক করে ওয়েবসাইটের শুভ উদ্বোধন করেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান। অনুষ্ঠানের শুরুতে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনও করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্যে স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব বিধান চন্দ্র পাল বলেন, সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্ব ও চেতনাবোধ তিনি গণমানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেজন্যই তরুণ সমাজ তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণ রাখবে।
ড. আতিউর রহমান অধ্যাপক আহমদকে সমকালিন বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন অর্থনীতিবিদ, জাতীয়তাবাদি অর্থনীতির অনন্য প্রবক্তা, সামাজিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক বলে অভিহিত করেন। মতাদর্শিক গোঁড়ামির উর্দ্ধে ওঠার সক্ষমতাও তার ছিল বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের এক অসাধারণ অর্থনীতিবিদ। নানান তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তিনি আরও বলেন, তার জীবন, কর্ম ও চিন্তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি যে শুধুমাত্র এথিক্স আর ইউটিলিটারিয়ান দর্শনের দ্বারা তাড়িত হয়েছেন তা কিন্তু নয়, তিনি ছিলেন একইসাথে মোরাল এবং বাস্তববাদী অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, সমাজ-চিন্তক এবং সমাজ-কর্মী।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান ব্যক্তি ও কর্মজীবনের নানান স্মৃতিচারণা করে বলেন, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ একজন ‘সিরিয়াস’ ইকনমিস্ট ও শিক্ষক ছিলেন। তিনি দেশের মানুষের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন এটা ‘রেয়ার’ ক্য়োালিটি, এটা সাধারণত দেখা যায় না।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, তিনি একজন সহৃদয়, হৃদয়বান সৎ মানুষ ছিলেন, ছিলেন অন্যের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ – তিনি আমাদের আদর্শ হয়ে থাকবেন।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন পেশা, পরিচয়, মত ও ধর্মের মানুষ এখানে একত্রিত হয়েছেন তার একটাই কারণ যে, মোজাফ্ফর আহমদ একজন পরিপূর্ণ মানুষ ছিলেন।
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ব্যক্তিজীবনে অনেক আকর্ষণীয় ও সাহসি ছিলেন উল্লেখ করে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিবাদ করার সাহস কমে গেলে সমাজের পতন শুরু হয়। তিনি জনগণ কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়েছেন তাই তিনি বেঁচে থাকবেন বলেও এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক আহমদ-এর সহধর্মিনী রওশন জাহান বলেন,যারা যেখানেই থাকুন যারা দেশের জন্য কাজ করছেন, ভালো কাজ করছেন, দেশের জন্য ঝুঁকি নিচ্ছেন তাঁদের সবাইকে এ সময় তিনি ‘আপনজন’ হিসেবেও চিহ্নিত করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালক করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক বজলুল হক খোন্দকার, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ডাঃ আব্দুল মতিন, ফরিদা আক্তারসহ দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, পরিবারের সদস্য, ছাত্র ও বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।


আরো সংবাদ