২৭ মে ২০১৯

কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডকে চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান

কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডকে চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান - সংগৃহীত

কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডকে চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। ৭ ফ্রেব্রুয়ারি সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ লাইসেন্স প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সরকারের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ ফারুক হোসেন, চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট মোঃ মাহবুবুল আলম।

লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিটিসির চেয়ারম্যান কমোডর মুজাম্মেল হক, লে. কর্নেল আনোয়ার হাসেন এবং কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল ইকনোমিক জোন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত এই ডাই ডকটি হবে প্রায় ১ লক্ষ উডঞ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি হবে শিপবিল্ডিং এবং জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ খাতে দেশের সর্ব প্রথম বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল।

প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত স্থানে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সড়ক, বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের কাজ শেষ করেছে। এখন সেখানে ড্রাই ডকের জেটি নির্মাণের কাজ চলছে। এই অঞ্চলটিতে ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্বব্যাংক হতে প্রাপ্ত ঋণ অন্তর্ভুক্ত আছে। আগামী মার্চ, ২০১৯-এর মধ্যে জেটি নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০০ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এ অঞ্চলটিতে।

চট্টগ্রামে বর্তমানে একটি মাত্র সরকারি ড্রাই ডক রয়েছে, যা বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। সত্তর দশকের পর থেকে কন্টেইনার জাহাজ-এর প্রচলন শুরু হওয়ায় জাহাজগুলোর অবকাঠামোগত পরিবর্তন হয়ে প্রশস্থতা বৃদ্ধি পায়। ফলে আগের জাহাজগুলোর ধারণক্ষমতা বা প্রশস্থতা বিবেচনায় রেখে বানানো ড্রাই ডকটিতে বর্তমান জাহাজগুলো ডক করা সম্ভবপর হচ্ছে না। এ ছাড়া ডকটিতে ১৮,০০০ উডঞ ধারণ ক্ষমতার বেশী জাহাজ নির্মাণ বা মেরামতের সুযোগ নেই এবং অন্যান্য সুবিধাও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এদিকে পায়রা বন্দর স্থাপন করায় ও ট্রানজিট ও ট্রান্সশীপমেন্ট চালু হওয়ায় চট্টগ্রামে বিদেশী জাহাজ আগমনের মাত্রা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গভীর সমুুদ বন্দর স্থাপন করলে জাহাজ আগমনের সংখ্যা আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নৌসংস্থার সদস্য দেশ হিসেবে জাহাজের কাঠামোগত ত্রুটি পরিদর্শন ও পরবর্তীতে তা মেরামতের নিশ্চয়তা বিধান অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে, যা ড্রাই ডক ছাড়া ত্রুটিমুক্ত করা সম্ভব হয় না।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিবছর প্রায় ২,৫০০টি জাহাজ আগমন করে। এছাড়া বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বাংলাদেশ পতাকাবাহী ৩০টি জাহাজ আছে। অন্যদিকে বিদেশী রেজিস্ট্রেশনে বাংলাদেশী মালিকানাধীন আরো অনেক জাহাজ রয়েছে। এসকল জাহাজ প্রতি ২/৩ বছর অন্তর অন্তর ডকিং/মেরামত করার বিধিবদ্ধতা থাকলেও চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিঃ বড় জাহাজগুলোর মেরামতে একদিকে যেমন অক্ষম অন্যদিকে ছোট জাহাজগুলোর সিডিউল দিতে না পারায় জাহাজ মালিকগণ তাদের জাহাজগুলো বিদেশে ডকিং/মেরামত করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুুদ্রা আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রস্তাবিত ড্রাই ডক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সমুুদ্রগামী জাহাজ মেরামত এবং নির্মাণ শিল্পের বিকাশসহ বৈদেশিক বিনিয়োগের সুবিশাল ক্ষেত্র তৈরী হবে। আর্ন্তজাতিক নৌ-সংস্থার কনভেনশনসমূহ প্রতিপালন করাও সহজ হবে এবং দেশের নৌ-নিরাপত্তা আরো সুসংহত করাসহ বন্দর পরিচালনায় সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, শিপবিল্ডিং খাতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অবদান রাখতে শুরু করেছে এবং এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কর্ণফুলী ড্রাই ডক হবে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল, যার মাধ্যমে জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের একটি খাত উন্মোচিত হবে এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়ে আরো সম্প্রসারিত হয়ে শিল্পের বিকাশ হবে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগের সুবিশাল একটি ক্ষেত্র তৈরী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, এখানে যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদের বিনিয়োগ শতভাগ নিরাপদ হবে। তার মতে, বিনিয়োগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে এ মাসে।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সরকারের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. ফারুক হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে বেজার কর্মযজ্ঞের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করতে চায় তার প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, এ জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের উপযোগী দক্ষ জনবল তৈরীতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এর আলোকে কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠান।

মুজাম্মেল হক বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কর্ণফুলী ড্রাই ডক কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজির সৃষ্টি করেছে। তিনি এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির আরো সমৃদ্ধি কামনা করেন।
লে, কর্নেল আনোয়ার হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নৌযান তৈরিতে কর্ণফুলী শিফইয়ার্ড প্রমাণ করেছে যে, আমরাও পারি।

কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল ইকনোমিক জোন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশীদ বলেন, কর্ণফুলি ড্রাই ডকের সার্বিক সাফল্য দেখে বিশ্বব্যাংক ঋণ দিচ্ছে। নির্মাণ ব্যয়ের খরচ কম হওয়ায় আমাদের দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতকে গুরুত্ব দিলে গার্মেন্টের চেয়ে বেশি লাভবান হবে দেশ।

অনুষ্ঠানে কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশীদের হাতে কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সরকারের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ ফারুক হোসেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সরকারী উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন

 


আরো সংবাদ




Instagram Web Viewer
Epoksi boya epoksi zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al/a> parça eşya taşıma evden eve nakliyat Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Ankara evden eve nakliyat
agario agario - agario