২৬ মে ২০১৯

খেলাপি ঋণ কমানোর নানামুখী উদ্যোগ

খেলাপি ঋণ কমানোর নানামুখী উদ্যোগ - সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাতে অবলোপনসহ খেলাপি ঋণ রয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। তবে বাস্তবে খেলাপি ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি বলে মনে করেন ব্যাংকাররা। ব্যাংকিং খাতে এ পাহাড় সমান খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য গত ৫ বছরে বিভিন্ন উদ্যোগ নয়া হলেও খেলাপি ঋণ কমেনি, বরং ফি বছরেই গাণিতিক হারে বেড়ে চলেছে। এমনই পরিস্থিতিতে নতুন অর্থমন্ত্রী আবারো খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এ বিষয়ে কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র জানান, খেলাপি ঋণ কমানোর নানামুখী উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বেসরকারি কোম্পানির কাছে আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ বিক্রি করা।

দ্বিতীয়ত, ঋণখেলাপিরা আদালতে গিয়ে খেলাপির ওপর রিট করতে চাইলে এককালীন ৫০ শতাংশ টাকা ব্যাংকের পরিশোধ করা। এ জন্য আইন সংশোধন করা। তৃতীয়ত. ঋণ পুনর্গঠনের নামে মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ব্যবসায়ীদের ঋণ নবায়নের আবারো সুযোগ করে দেয়া। আর সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণের বিষয়ে তদারকি শিথিল করা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের যে তথ্য দেবে সেটাই মেনে নেয়া। তবে এর কোনোটি বেছে নেয়া হবে, তা নির্ভর করবে অর্থমন্ত্রীর ওপর। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর জন্য একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ব্যাংকিং খাত থেকে খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন গভর্নর। এ সময় কোনো প্রকার ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ নবায়নের সুযোগ দেয়া হয়। এর পাশাপাশি মাত্র এক ও দুই শতাংশ ডাইন পেমেন্ট দিয়ে ৫০০ কোটি টাকা ও এক হাজার কোটি টাকার অধিক ঋণখেলাপিদের ঋণ নবায়নের সুযোগ দেয়া হয়।

তাদেরকে ছাড় দেয়া হয় সুদের ক্ষেত্রেও। এ সুযোগ নিয়ে ২০১৫ সালে ১৪টি ব্যবসায়ী গ্রুপ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে খেলাপি ঋণ নবায়ন করে নেন। বড় ঋণখেলাপিরা আবার নতুন করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খেলাপি ঋণ কমানোর এ বড় ছাড়ে ব্যাংকিং খাতে সাময়িকভাবে খেলাপি ঋণ কমে যায়। পরে তা আরো বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা ঋণ পুনর্গঠনের ছাড় নিয়ে ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ বের করে নেন। কিন্তু পুনর্গঠন ঋণের কয়েক কিস্তি পরিশোধ করার পর তা বন্ধ করে দেন। এর ফলে পুনর্গঠন করা ১৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ এখন সুদে আসলে বেড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। মাঝখান থেকে আরো কয়েক হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ বের করে নিয়েছেন সুযোগ নেয়া ঋণ খেলাপিরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, তার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আর এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না। তার এ ঘোষণা বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে বাস্তবায়ন করা আদৌ সম্ভব নয়। কারণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া বেশির ভাগ বড় বড় ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করছেন না। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নিয়েছেন, বেশির ভাগেরই একই অবস্থা। ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধ না করলে খেলাপি ঋণ কমানো যাবে না। যদি ঋণ পুনর্গঠনের আবারো বড় ধরনের সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে হয়তো সাময়িকভাবে খেলাপিঋণ কিছু কমবে। তবে, দীর্ঘ মেয়াদে তা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। যেমনটি হয়েছিল ২০১৫ সালে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে ঋণ পুনর্গঠনের নামে ব্যবসায়ীদের আবারো ছাড় দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মন্দ ঋণ বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। বেসরকারি কোম্পানিগুলো ব্যাংকের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অর্ধেক বা এর এ চেয়ে কম মূল্যে কিনে নেয়। এতে ব্যাংকের খাতায় খেলাপিঋণ কমে যায়। আর বেসরকারি কোম্পানি ঋণ খেলাপির জামানতকৃত সম্পদ বিক্রি করে অর্থ আদায় করে। বিদেশের আদলে দেশের মন্দ ঋণ বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়া হতে পারে। বর্তমানে কাগজ-কলমে অবলোপনসহ খেলাপি ঋণ রয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই মন্দ ঋণ বা আদায় অযোগ্য ঋণ। এসব ঋণ বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমে যাবে। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে সময়সাপেক্ষ। এটা করা হলে খেলাপি ঋণ কমানোর স্থায়ী সমাধান হবে।

তৃতীয়ত, এককালীন ডাউন পেমেন্ট বাড়ানো। সাধারণত ঋণখেলাপিরা খেলাপির ওপর উচ্চ আদালত থেকে রিট করেন। অর্থাৎ ঋণখেলাপিকে সাময়িক সময়ের জন্য ঋণখেলাপি বলা যাবে না। উচ্চ আদালত থেকে খেলাপি ঋণের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে ব্যাংক থেকে আবারো নতুন করে ঋণ বের করে নিচ্ছেন। আবার নতুন করে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করে খেলাপি হয়ে যাচ্ছেন। এভাবে এক একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপিঋণ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ঋণ খেলাপিরা যেন সুযোগ না পান সেজন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। যেমন, যারাই উচ্চ আদালতে রিট করবেন তাদেরকে আগে খেলাপি ঋণের ৫০ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। এভাবে আইন সংশোধন করলে ঋণখেলাপিরা আর সচারচর উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন না। ব্যাংকিং খাত থেকে খেলাপি ঋণ কমানোর স্থায়ী সুফল পাওয়া যাবে।

এর বাইরে খেলাপি ঋণ তদারকিতে শিথিল করা হতে পারে। ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের যে তথ্য দেবে তা মেনে নেয়া হবে। যেমনটি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে দেয়া হয়েছিল। ওইসময় খেলাপি ঋণ বেশি এমন ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, ডাউন পেমেন্ট ছাড়া খেলাপি ঋণ নবায়ন করতে। ওইসময় ব্যাংকগুলো ছুটির দিনেও পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক ডেকে রাতারাতি খেলাপি ঋণ কমিয়ে এনেছিল। তবে খেলাপি ঋণ কমানোর এটা স্থায়ী সমাধান নয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী যেটা অনুমোদন দেবেনÑ সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে।


আরো সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইমরান খানের হুঁশিয়ারি খালেদার মুক্তি আন্দোলন জোরালো করবে বিএনপি মীরবাগ সোসাইটির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় কবি হিসেবে নজরুলের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি ন্যাপের নজরুলের জীবন-দর্শন এখনো ছড়াতে পারিনি জাকাত আন্দোলনে রূপ নেবে যদি সবাই একটু একটু এগিয়ে আসি কবি নজরুলের সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা সোনারগাঁওয়ে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট শাখা থেকে ৭ লক্ষাধিক টাকা চুরি জুডিশিয়াল সার্ভিসের ইফতারে প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে অপরাধ বাড়ছে : কামরুল ইসলাম এমপি ৩৩তম বিসিএস ট্যাক্সেশন ফোরাম : জাহিদুল সভাপতি সাজ্জাদুল সম্পাদক

সকল




Instagram Web Viewer
agario agario - agario
hd film izle pvc zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Canlı Radyo Dinle Yatırımlık arsa Tesettürspor Ankara evden eve nakliyat İstanbul ilaçlama İstanbul böcek ilaçlama paykasa