২২ এপ্রিল ২০১৯

ডিমওয়ালা ইলিশে সয়লাব, নিষিদ্ধ সময়ে ধরা মাছ বিক্রি হচ্ছে এখন!

ডিমওয়ালা ইলিশে সয়লাব, নিষিদ্ধ সময়ে ধরা মাছ বিক্রি হচ্ছে এখন! - ছবি : সংগৃহীত

মা ইলিশ রক্ষায় গত ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। ২৯ অক্টোবর থেকে আবার চালু হয় ইলিশ ধরা। প্রাকৃতিক নিয়মেই নদী বা সমুদ্রে বর্তমানে যেসব ইলিশ ধরা পড়ছে সেগুলোতে ডিম থাকবে না। কিন্তু ডিমওয়ালা ইলিশে সয়লাব হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের হাটবাজার। সংশ্লিষ্টদের অনুমান, নিষিদ্ধ সময়ে ধরা মা ইলিশ এখন বিক্রি হচ্ছে। স্বাভাবিক কারণে দামও অপেক্ষাকৃত কম। তিন কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হয় ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। এসব ডিমওয়ালা মাছের স্বাদও কম বলে জানান ক্রেতা-বিক্রেতারা।

এ দিকে ইলিশের দাম কমলেও হঠাৎ বেড়ে গেছে আদার ঝাঁজ। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে এ পণ্যটির দাম। ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি চীনা আদা। আর দুই সপ্তাহ আগে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া বাজারে নতুন আসা দেশী আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। আমদানি কমে যাওয়ায় এবং বিদেশে দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে আদার দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা। তবে পেঁয়াজ-রসুন আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তারা।

গতকাল রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ মাছের সরবরাহ সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। আগে যারা অন্য মাছ বিক্রি করতেন তারাও বসেছেন ইলিশের পসরা সাজিয়ে। অধিকাংশ ইলিশের পেট ডিমভর্তি। অথচ নদী-সমুদ্রে বর্তমানে যে ইলিশ ধরা পড়ছে সেগুলোতে ডিম নেই। গত মাসে ২২ দিন নিষিদ্ধ থাকার সময়ে ডিম ছেড়েছে সব ইলিশই। পুলিশ ও মৎস বিভাগ বলছে, নিষিদ্ধ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোরতার কারণে দেশের কোনো এলাকায়ই মা ইলিশ শিকার করতে পারেনি জেলেরা।প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে ডিমভর্তি ইলিশগুলো বাজারে এলো কোত্থেকে?

এ প্রশ্নের জবাবে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক সংলগ্ন খোলা বাজারের বিক্রেতা সোহেল বলেন, অনেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আগেই ডিমওয়ালা ইলিশ ধরেছেন, কিন্তু বিক্রি করতে পারেননি। পুলিশের ভয়ে লুকিয়ে রেখেছেন। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর বাজারে তুলেছেন। যদিও সোহেলের এ কথার বিরোধিতা করেছেন তারই পাশে বসে ডিমছাড়া ইলিশ বিক্রয়কারী সোলায়মান। সোহেলের দাবি, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেকে ইলিশ ধরে বিভিন্ন কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এখন নিষেধাজ্ঞার সময় পার হওয়ার পর বিক্রির জন্য মোকামে তুলেছে। দাম কম হওয়ায় অনেকে ওই ইলিশই বিক্রি করছেন। সোলায়মান বলেন, ডিমওয়ালা এসব ইলিশ অবৈধ। এগুলোর দামও কম, স্বাদও কম।

মৎস্য অধিদফতর সূত্র জানায়, ডিমওয়ালা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে গত ৬ অক্টোবর রাত ১২টার পর দেশের সব নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। নিষেধাজ্ঞাকালীন নদ-নদীতে মাছ শিকার রোধে মৎস্য বিভাগ এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অনেক জেলেকে ধরে সাজাও দেয়া হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও ইলিশ ধরা পুরোপুরি থামানো যায়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে কিংবা ম্যানেজ করে এ সময় অনেকে মাছ ধরে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

বাজারে গতকাল মাঝারি আকারের প্রতিটি ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, নতুন আলু ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, পেঁয়াজ পাতার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মুলা ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, দেশী শসা ৫০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স, ঝিঙে, পটল, কাঁকরোল ও চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০ থেকে ৩৫ টাকা এবং পুরনো আলু বিক্রি হয় ২৫ টাকা কেজি দরে।

খুচরা বাজারে প্রতিটি লাউ বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৫০ টাকায়। কাঁচকলার হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। শাক বিক্রি হয় ১০ থেকে ১৫ টাকা আঁটি দরে। লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনেপাতার কেজি ৮০ থেকে ১০০ এবং কাঁচামরিচ বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat