১৪ নভেম্বর ২০১৮

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৬৩৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

বাজেট
বাজেট পেশ করছেন খুলনার বিদায়ী মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান - ছবি : নয়া দিগন্ত

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৬শ’ ৩৭ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে বাজেট উপস্থাপন করেন। একই সাথে তিনি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ২শ’ ৫৫ কোটি ৭৯ লাখ ২৯ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও ঘোষণা করেন।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১শ’ ৮১ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং সরকারি অনুদান ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪শ’ ৫৫ কোটি ২০ লাখ ৮ হাজার টাকা। নিজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা, সরকার ও বিভিন্ন দাতাসংস্থার প্রতিশ্রুতি এবং জনসাধারণের চাহিদার বিষয় বিবেচনায় রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মেয়র তার বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির অর্থ ও সংস্থাপন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মো: গাউসুল আজম এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) পলাশ কান্তি বালা।

উল্লেখ্য, মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মেয়াদের এটাই শেষ বাজেট। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর তালুকদার আবদুল খালেক মেয়রের দায়িত্ব নেবেন।

মেয়র প্রস্তাবিত বাজেটকে উন্নয়নমুখী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এ বাজেটে নতুন কোনো করারোপ করা হয়নি। নগরীর সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ জলাবদ্ধতা নিরসন, শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাজেটে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সাথে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি এ বাজেটে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, পার্ক, ধর্মীয় উপসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং কেসিসির বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা অটোমেশনের আওতায় আনা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে মশক নিধনের সাথে সাথে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যে ক্ষতি নিয়মিত হচ্ছে তা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা রাখা হয়েছে এ বাজেটে।

নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাজস্ব খাত থেকে এ বাজেটে ৬৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাত থেকে থোক ও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৭ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাতীয় এডিপিতে কেসিসি’র ২টি প্রকল্পে ৯৫ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খুলনা মহানগরীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ১২ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৩ কোটি ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

মেয়র বলেন, নগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য আমরা সরকারের পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, এফএও, বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (জিআইজেড) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কাজ করি। তারাও আমাদের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন দাতা সংস্থার ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলমান রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসব প্রকল্পে ২৮১ কোটি ৮৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, বিগত অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন হার ৫৮.০২৯%। সরকার ও দাতা সংস্থা থেকে আশানুরূপ বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে বাজেটের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, বিএমডিএফ (বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেপমেন্ট ফান্ড) নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ১শ’ ১১ কোটি টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে কোনো অর্থ ছাড় না করায় গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

মেয়র বলেন, খুলনা আমার প্রিয় নগরী। দায়ীত্ব না থাকলেও এ নগরীর মানুষের কল্যাণে আজীবন সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে যাবো।

তিনি কেসিসির নতুন পরিষদকে স্বাগত জানান এবং তাদের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।


আরো সংবাদ