film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Ezhel Şarkıları indirEzhel mp3 indir, Ezhel albüm şarkı indir mobilhttps://guncelmp3indir.com Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে কী হচ্ছে?

প্রতিকী ছবি -

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়া প্রচলিত নিয়মে বাংলাদেশ থেকে আর জনশক্তি নেবে না। কিন্তু নতুন পদ্ধতি কী হবে তাও স্পষ্ট নয়। আর যারা এরইমধ্যে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে তাদেরই বা কি হবে?

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটা বুঝতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। কারণ এ নিয়ে ২১ আগস্ট বাংলাদেশকে চিঠি দেয়া হলেও ঈদের ছুটি ও বন্ধের কারণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরবর্তী অবস্থা জানতে যোগাযোগ এখনো করা হয়নি। তবে সেপ্টেম্বরে এ নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আছে বলে জানা গেছে।

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার যুগ্ম সম্পাদক শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে এসপিপিএ (অনলাইন সিস্টেম) পদ্ধতিতে জনশক্তি নেয়। তারা তাদের চিঠিতে বলেছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই পদ্ধতিতে দেশটি বাংলাদেশ থেকে আর জনশক্তি নেবে না। কিন্তু তারা কোথাও বলেনি যে তারা ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেবে। তারা এখনকার পদ্ধতির পরিবর্তে একটি ইউনিফর্ম সিস্টেম ডেভেলেপ করবে।’

এরইমধ্যে একটি বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিকের ভিসা হয়েছে। আরো ৪০ হাজারের মতো শ্রমিকের মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তাদের কী হবে? তারা কি যেতে পারবেন, না তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, ‘বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। এটা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের বিষয়। তবে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হচ্ছে এখনো শ্রমিকদের ভিসা অনুমোদন করছে। ফ্লাইট শিডিউল ঠিক আছে। যাদের ফ্লাইট আছে তারা যেতে পারছেন।’

২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর জন্য ১০টি রিক্রুটিং এজেন্টকে এককভাবে ক্ষমতা দেয়া হয়। তারা অনলাইন ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে (এসপিপিএ) লোক পাঠায়। এই সিস্টেমের নাম দেয়া হয় জি টু জি প্লাস। ১০টি বাদে অন্যকোনো রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক গেছে মালয়েশিয়ায়। আরো পাইপ লাইনে আছে এক লাখের মতো।

কিন্তু এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত জুনে মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টার-এর অনলাইন সংস্করণে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মালয়েশিয়ায় লোক পাঠিয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় একজন শ্রমিক পাঠাতে খরচ হয় দুই হাজার রিঙ্গিত। আর বাংলাদেশি একটি চক্র নিচ্ছে ২০ হাজার রিঙ্গিত। এভাবে দুই বছরে একটি চক্র হাতিয়ে নিয়েছে ২০০ কোটি রিঙ্গিত। বাংলাদেশি মুদ্রায় চার হাজার কোটি টাকারও বেশি।

সংবাদে এই চক্রের হোতা হিসেবে বাংলাদেশের মন্ত্রী মর্যাদার একজন ব্যক্তির কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে তার নাম প্রকাশ না করে আরো বলা হয়, ওই ব্যক্তির বয়স কমবেশি ৫০ বছর। আর তিনি ১৫ বছর আগে এক মালয়েশীয় নারীকে বিয়ে করেন।

পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ২০১৬ সালে একটি চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির অধীনে সরকারের বাইরেও শ্রমিক নিয়োগের জন্য ১০টি কোম্পানিকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর আগে সরকারই কেবল জনশক্তি পাঠাতে পারত। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণেই চুক্তি সই হয়। তার ছত্রছায়ায়ই এই ১০টি রিক্রুটিং কোম্পানি রাতারাতি গজিয়ে ওঠে। হাজার কোটি টাকার এই মানবপাচার ব্যবসাকে ‘বৈধতা' দেয়ার পেছনে তার ভূমিকাই প্রধান। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্যই এসব কোম্পানি গড়ে তোলা হয়। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার এই কেলেঙ্কারিকে নতুন ধাপে নিয়ে গেছেন এই মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তি।

শ্রমিক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ করতে এবং ১০টি কোম্পানির স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে এসপিপিএ নামে অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে এই নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করতে হয়। এসপিপিএ অনুসারে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগে মালয়েশীয় কোম্পানিকে ৩০৫ রিঙ্গিত দিতে হয়। এই নিবন্ধন ব্যবস্থা পরিচালনা করে বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি নামের একটি বেসরকারি কোম্পানি। এসপিপিএ-র সংগৃহীত অর্থ চলে যায় বেস্টিনেটের কাছে। ১০টি কোম্পানির মাধ্যমে বিভিন্ন নিয়োগকর্তাদের কাছে শ্রমিকদের বণ্টন কাজের জন্য এই অর্থ নেয় বেস্টিনেট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে মালয়েশিয়া যেতে ওই দেশগুলোর শ্রমিকদের বাংলাদেশের তুলনায় কম টাকা দিতে হয়। ওই দেশগুলোর শ্রমিকদের খরচ পড়ে আড়াই হাজার রিঙ্গিতের মতো।

ক্লাং ভ্যালিতে বেশ কয়েকটি কোম্পানির কনসালটেন্সি করা একটি কোম্পানির মালিক চিরারা কান্নান দ্য স্টার অনলাইনকে তখন জানান, এসপিপিএ চালু হওয়ার আগে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগের খরচ ছিল অনেক কম। আগে শ্রমিকদের ৭ থেকে ৮ হাজার রিঙ্গিত দিতে হতো মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য। কিন্তু এখন মধ্যস্থকারীরা বড় অংকের টাকা নেয় শ্রমিকদের কাছ থেকে।

চিরারা জানান, বাংলাদেশের স্থানীয় গ্রামীণ এলাকার সাব-এজেন্টদের শ্রমিকরা দেয় ২০ হাজার রিঙ্গিত। এই সাব-এজেন্টরা আরো অন্তত দু’জন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সরকারের অনুমোদিত এজেন্টের কাছে যায়। আগে যারা সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্ট ছিল তারা এখন বড় ১০টি কোম্পানির সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে।

চিরারা বলেন, ‘পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে৷ অনেক নিয়োগদাতা কোম্পানিও শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। নিয়োগকৃত প্রত্যেক বাংলাদেশি শ্রমিকের কাছ থেকে অনেক নিয়োগদাতা ১৫০০ রিঙ্গিত করে নিচ্ছেন।’

এসব কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থাটি কলঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন চিরারা।

জনশক্তি রফতানিবিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘২০১৬ সালে যখন শুধু ১০টি রিক্রুটিং এজন্টকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানির অনুমতি দেয় তখন বলা হয়েছিল পর্যায়ক্রমে অন্যান্যরাও সুযোগ পাবে। কারণ তার আগে দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানি বন্ধ ছিল৷ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তারা একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে। অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যায়। একজনের কাছ থেকে তিন-সাড়ে তিন লাখ টাকা নেয়া হয়। নানা ফি’র নামে টাকা নেয়া হয়। এটার একটা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারা এর জন্য দায়ী তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যমে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেয়ার যে তথ্য প্রকাশ হয়েছে তাকে হাতিয়ে নেয়া ছাড়া আর কী বলা যায়? তারা প্রকৃত খরচের তিন-চার গুণ বেশি অর্থ নিয়েছেন। ওই অর্থ কোথায় গেছে, কাদের কাছে গেছে, তা তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।’

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে লোক নিতে মালয়েশিয়া সব রিক্রুটিং এজেন্টকে সমান সুযোগ দিতে চায়। আর তারা এজন্য একটি ইউনিফর্ম নীতিমালা তৈরি করবে। সেজন্য বাংলাদেশের সাথে তারা বৈঠকও করবে। তবে ওটা চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

এনিয়ে জানতে প্রবাসী কল্যাণমমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

আরো পড়ুন :
মালয়েশিয়ায় ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির একচেটিয়া ব্যবসা
জিটুজি প্লাস পদ্ধতি বাতিল ১ সেপ্টেম্বর থেকে
মনির হোসেন, ২৬ আগস্ট ২০১৮
মালয়েশিয়ায় ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম সম্পূর্ণ বাতিল করেছে সে দেশের সরকার। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পদ্ধতিতে আর কোনো শ্রমিক সে দেশে যেতে পারবে না। মালয়েশিয়া সরকারের এ সিদ্ধান্ত কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার গতকাল নয়া দিগন্তকে ‘জিটুজি প্লাস’ সিস্টেম বাতিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মালয়েশিয়া সরকার পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন ২১ আগস্ট জারি করা এক চিঠিতে জানিয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে গেল। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে আর কোনো নির্দেশনা নেই। চিঠিটি মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে এসেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ধারণা, তারা নতুন করে শ্রমবাজার নিয়ে একটা নির্দেশনা দেবে। দ্রুত একটা প্রসেস বের করবে। তিনি বলেন, এখন যেহেতু মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর আর কোনো সিস্টেম রইলানা, তাই নতুন কোনো কিছু না হওয়া পর্যন্ত আসলে আর কিছুই থাকল না। তারা শ্রমিক নিয়োগের ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাবে এমন কথাই চিঠিতে উল্লেখ করেছে।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে শ্রমিক পাঠানো নিয়ে এমওইউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে ‘কিন ইমেজের’ ৭৮৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির নামের তালিকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক সরকারের কাছে (কেডিএন) পাঠানো হয়। কিন্তু নাজিব সরকার সেই তালিকা থেকে মাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম চূড়ান্ত করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। তখন এ নিয়ে তারা বলেছিল- বাছাই করা ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমেই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনতে পারবে। পরে অনলাইন পদ্ধতিতে ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্সেই শ্রমিক যাওয়া শুরু হয়, যা গতকাল শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এখন পর্যন্ত দেশটিতে জিটুজি প্লাস (সরকার টু সরকার+রিক্রুটিং এজেন্সি) পদ্ধতিতে দুই লাখের মতো কর্মী পাড়ি জমিয়েছে। আরো ৩০-৪০ হাজার শ্রমিক দেশটিতে যেতে ওই ১০ রিক্রুটিং এজেন্সি ও তাদের মনোনীত মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে একজন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে সরকার ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও সংশ্লিষ্ট ১০ রিক্রুটিং এজেন্সি সরকার নির্ধারিত রেটের ৯-১০ গুণ বেশি টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায়। এর মধ্যে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো প্রতি শ্রমিকের বিপরীতে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করছিল। আর মালয়েশিয়ায় স্থাপিত অনলাইন সিস্টেম সিনারফ্যাক্সের নামে প্রতি শ্রমিকের নামে আরো এক লাখ টাকা আদায় করা হবে। তবে এসব টাকার কোনো মানিরিসিট কাউকে দেয়া হতো না। এ নিয়ে ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকেরা শুরু থেকেই ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের বিরুদ্ধে শক্তভাবে অবস্থান নেয়া শুরু করে। এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে তারা দুই দেশে চিঠি চালাচালি ছাড়াও সভা ও সেমিনার করতে থাকেন। যার কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো নিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি অনেকটা প্রকাশ্যে এসে যায়। এ নিয়ে মালয়েশিয়ার শীর্ষ অনলাইন পোর্টাল দ্য স্টার থেকে শুরু করে দেশী-বিদেশী মিডিয়াতে শ্রমবাজারের অনিয়ম নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত থাকে।

যার ফলে মালয়েশিয়ায় ড. মাহাথির মোহাম্মদের নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই এ সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণের কথা ঘোষণা দেয়। এরপর গত ১৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফরেন ওয়ার্কার ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে শ্রমিক নেয়া বন্ধ থাকবে। ওই সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ২১ আগস্ট মালয়েশিয়া সরকার দেশটিতে ‘এসপিপি’ অনলাইন সিস্টেম চালুর উদ্যোক্তা সিনারফ্যাক্স কোম্পানির চেয়ারম্যান দাতো শেখ ইয়াহিয়ার কাছে লেখা চিঠিতে জানিয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই বাংলাদেশী কর্মী আনার পদ্ধতি বাতিল করা হলো।

গতকাল ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির অন্যতম প্রতিষ্ঠান ক্যাথারসিস ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী রুহুল আমিন স্বপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে বায়রার সাবেক একজন নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে ১০ এজেন্সি রিক্রুটিং যে ছিনিমিনি খেলেছে তা বলে শেষ করতে পারব না। এ ব্যাপারে যতবারই আমরা প্রতিবাদ করতে গিয়েছি, ততবারই হুমকি পেয়েছি। কোথাও সভা সেমিনারে গেলে আমাদের অনুষ্ঠান পুলিশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আজকে যখন শুনছি মালয়েশিয়া সরকার তাদের পুরো সিস্টেমটাই বাতিল করেছে তখন কি যে ভালো লাগছে তা বলে বোঝাতে পারব না। তিনি বলেন, আমরা চাই প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সিই যেন মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর কাজ যাতে করতে পারে। তবে বিষয়টি অবশ্যই মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখতে হবে। যদি আগের মতো আবারো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় তাহলে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়াই বন্ধ করে দেবে।


আরো সংবাদ