২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের আরো দুই ছাত্র গ্রেফতার

নাজমুস সাকিব (বাঁয়ে) ও আহমাদ হোসাইন - সংগৃহীত

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ঢাকায় আরও দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের একজন নাজমুস সাকিব (২৪) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের শিক্ষার্থী। অন্যজন আহমাদ হোসাইন (১৯) কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া নুরানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার সাইবার ক্রাইম ইউনিট মঙ্গলবার ও বুধবার এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে বলে জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার শারমিন জাহান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক প্রপাগান্ডা চালিয়েছিল, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

সাকিব ও হোসাইনের বিরুদ্ধে বুধবার পল্টন থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ও ৬৬ ধারায় মামলা হয়েছে বলে সিআইডি কর্মকর্তা শারমিন জানান। গত ২৯ জুলাই বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে অচল হয়ে  পড়ে ঢাকার সড়ক।

সপ্তাহব্যাপী এই আন্দোলনের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও নামে আন্দোলনে, তাদের সাথে পুলিশের সংঘাতও বাঁধে। ওইসব ঘটনায় ঢাকায় বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে নিতে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ও অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদকে। এর মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বুয়েটের এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযোগে ঢাকার ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা লুৎফুন নাহার লুমাকে সিরাজগঞ্জে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

আরো পড়ুন : কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেত্রী লুমা আটক
নয়া দিগন্ত অনলাইন (১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৫:১৮)

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহবায়ক লুৎফুন্নাহার লুমাকে সিরাজগঞ্জ থেকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার ভোররাত সাড়ে ৪টায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার খিদ্রচাপড়ি এলাকায় দাদার বাড়ি থেকে তাকে আটক করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও বেলকুচি থানার পুলিশ।

লুৎফুর নাহার লুমা ইডেন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।


সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, "ঢাকার সাইবার ক্রাইম বিভাগের তদন্ত সংস্থা স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় লুৎফুন্নাহার লুমাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়।"

তিনি জানান, লুমার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের আওতায় অভিযোগ এনেছে সাইবার ক্রাইম বিভাগ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের বিশেষ দল তাকে ঢাকায় নিয়ে গেছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে আটক করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার অপরাধ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে হস্তান্তর করা হয় বলে জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

আরো পড়ুন :  সরকারকে ফের সময় : ঈদে কালো পোশাক পরবে কোটা আন্দোলনকারীরা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক (১২ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৫)

আটককৃতদের মুক্তি, হামলাকারীদের বিচার ও পাঁচ দফা দাবির ভিত্তিতে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির জন্য ফের সময় বেঁধে দিলো সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। রোববার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশ থেকে এমন সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সরকারকে সময় বেঁধে দেন। এসময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন উপস্থিত থাকলেও তাকে কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।
এর আগে পূর্ব ঘোষণা অনুযায় কোটা আন্দোলনকারীদের এই সমাবেশ করার কথা ছিল টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে। এজন্য আন্দোলনকারীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড় হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের মহড়ার কারণে তা ভ-ুল হয়ে যায়। 
পরে কোনো ঘোষণা না থাকলেও ছাত্রলীগ সেখানে অবস্থান নিয়ে মৌলবাদ বিরোধী ছাত্র সমাবেশ করে। পরে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য জড়ো হন। সেখানে বক্তব্য দেন বিন ইয়ামিন মোল্লা।

বিন ইয়ামিন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রদের নিঃশর্ত মুক্তি ও শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচার এবং দাবির আলোকে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন ৩১ আগষ্টের মধ্যে না হলে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। সরকার এই আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন। না হলে কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে।

এদিকে ঈদের আগে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেয়া না হলে আন্দোলনের সঙ্গীদের স্মরণে সবাইকে কালো পোশাক পরে শোক প্রকাশ করে ঈদ পালন করার আহ্বান জানান বিন ইয়ামিন মোল্লা।

অবস্থান কর্মসূচিতে গ্রেপ্তারকৃত রাশেদ খান, রাতুল সরকারের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। তারাও নিজেদের স্বজন ও সকল বন্দীর মুক্তি চান। এদিকে একই সময় টিএসসি থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে গেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা স্থান ত্যাগ করে।

 


আরো সংবাদ