১৩ নভেম্বর ২০১৮

অর্থমন্ত্রীর ফাইলে সই করবেন মতিয়া চৌধুরী

অর্থমন্ত্রীর ফাইলে সই করবেন মতিয়া চৌধুরী - সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ১০ দিনের ছুটি পেয়েছেন। মন্ত্রী নিজেই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। ১৯৩৪ সালের ৬ অক্টোবর জন্ম নেয়া মুহিতের বয়স এখন ৮৩ বছর ১০ মাস তিন দিন। এই বয়সে কাজ করতে অনেকটা ক্লান্ত তিনি। এই ক্লান্তির কথা বলছিলেন তিনি নিজেই।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাজেট পাশের পর থেকেই আমি চেষ্টা করছিলাম কাজ একটু কম করার। টানা কাজ করার কারণে এনার্জি ক্ষয় হতেই থাকে। এই ক্ষয় হওয়া এনার্জি ফিরে পাওয়া সহজ নয়। আজ থেকে আমার ১০ দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। আমি চেষ্টা করবো এই ১০ দিনের মধ্যে ক্ষয় হওয়া এনার্জি কিছুটা রিকুইট (ফিরে পাওয়ার) করার।

রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ‘বাংলাদেশের জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকারণ কৌশলপত্র’ শীর্ষক কর্মশালায় অর্থমন্ত্রী তার এই ছুটির কথা জানান।

ছুটির সময় দুটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা জানিয়ে মুহিত বলেন, ছুটির সময়ে আমি দুটি অনুষ্ঠানে যাব বলে ঠিক করে রেখেছি। তা ছিল আজকেরটা, আরেকটা ১৮ তারিখ (আগস্ট)। আজকে এখানে আসতে আমার একটু দেরি হয়েছে, কারণ আমার ধারণা ছিল, সকালে একটু অফিসে যাব। ঘণ্টাদেড়েক কাগজপত্র... টাইম দেয়া...। রওয়ানা দিচ্ছি যখন তখন আমার সহধর্মিণী বললেন, হোটেল ওয়েস্টিনে প্রোগ্রাম আছে, সেহেতু এখানে এসেছি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ১০ দিন যে ফাইলগুলোতে অর্থমন্ত্রীর সই লাগবে সেগুলোতে সই করবেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। অর্থমন্ত্রীর পরাপর্শ নিয়ে নিজ দফতর থেকেই মতিয়া এ কাজ করবেন। আর যে ফাইলগুলো প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যাবে, সেগুলো সচিবের মাধ্যমে সরাসরি চলে যাবে।

আজ ওই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ডিএফআইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জেইন এডমন্ডসন প্রমুখ।

আরো পড়ুন : গণতন্ত্র সুসংহতকরণে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
বাসস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দেশে গণতন্ত্র সুসংহত এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড ত্বরান্বিত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।
কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা দেশের গণতন্ত্র সুসংহত এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি,’ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রধানমন্ত্রীকে উদ্বৃত করে একথা বলেন।
এ সময় কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নে তার সংস্থা সহযোগিতার জন্য প্রস্তÍুত রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে বিগত সাড়ে ৯ বছরে উপনির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায় প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি নির্বাচন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’
সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সফলভাবে এই সামাজিক ব্যাধি মোকাবেলা করেছে।
তিনি বলেন, আমরা সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছি। আমাদের সন্তানরা যাতে সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকে না পড়ে সেদিকেও লক্ষ্য রাখছি।
রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন,‘আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনগণের চাষাবাদের জমিগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থীরা দখল করে নেয়ায় স্থানীয়রা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখে পড়েছে।
তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়কে তাঁর সরকারের একটি উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে নারীর ক্ষমতায়ন করা হয়েছে এবং এই নারী সমাজের একটি বড় অংশ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী পুরুষ নির্বিশেষে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছি।’
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি এখন ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশে উপনিত হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। সরকারের বিভিন্ন সময়োচিত পদেক্ষপের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে, – বলেন তিনি।
তাঁর সরকার সকল ধরণের খেলাধূলাকে উৎসাহিত করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল এশিয়া কাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, ছেলেদের ক্রিকেটেও তারা ভালো ফল করছে।
কমনওয়েলথ মহাসচিব বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় প্রদানকে এ সময় বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট বোঝা বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করে মহান মানবতাবোধের পরিচয় দিয়েছেন।’
প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটানোর আহবান জানিয়ে বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে ব্যবসা ক্ষেত্রের বাধাসমূহ কমিয়ে আনা প্রয়োজন এবং এসএমই নেটওয়ার্ক জোরদার করার জন্য কানেকটিভিটির সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে।
মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি এ সময় সন্ত্রসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূমিকারও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড লন্ডনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রদত্ত ভাষণেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি সম্প্রতি কেনিয়াতে অনুষ্ঠিত আন্তঃধর্মীয় সম্মেলনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধির দেওয়া বক্তব্যই সব থেকে সেরা ছিল।’
সর্বশেষ ওশান কনফারেন্সে বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন মহাসচিব।
এ দিনের বৈঠকে ক্রিকেট বিষয়ক আলোচনায় প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড একটি কমনওয়েলথ ক্রিকেট ক্লাব গঠনের পাশাপাশি কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় এই খেলাটির উন্নয়নে কমনওয়েলথ ক্রিকেট লীগ চালু করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কমনওয়েলথ সনদের একটি কপিও প্রধানমন্ত্রীর নিকট হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তিন দিনের সফরে গত বুধবার কমনওয়েলথ মহাসচিব বাংলাদেশে আসেন।


আরো সংবাদ