২২ এপ্রিল ২০১৯

২ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহককে আনা হচ্ছে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায়

২ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহককে আনা হচ্ছে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায় - ছবি : সংগৃহীত

ডেসকোর এলাকায় সিস্টেম লস কমিয়ে আনার জন্য প্রথম পর্যায়ে ঢাকা ও টঙ্গী মিলে ১৪ এলাকার গ্রাহকদের স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হচ্ছে। এ ছাড়া বরাদ্দকৃত লোডের চেয়ে অধিক লোড ব্যবহাকারী গ্রাহকদের নিয়ন্ত্রণে আনাও এ উদ্যোগের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য। ডেসকোর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ঢাকা ও টঙ্গীতে ২ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহককে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমান মিটার রিডিং পদ্ধতিতে প্রচুর কারিগরি ও অকারিগরি সিস্টেম লস ও কম লোডে সঠিক মিটার রিডিং পাওয়া যায় না। পোস্ট পেইড মিটারিং পদ্ধতিতে প্রচুর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকে। আর এ কারণে ডেসকো বছরে আনুমানিক ৫ শতাংশ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। আজ মঙ্গলবার এই প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত ১৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) অনুমোদনের জন্য পেশ করা হচ্ছে। 

ডেসকোর তথ্যানুযায়ী, ১৯৯৮ সালে সেপ্টেম্বর ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) মিরপুর এলাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। শুরুকালে লোড চাহিদা ছিল মাত্র ৯০ মেগাওয়াট এবং গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৭১ হাজার ১৬১। কালক্রমে এখন ডেসকোর আওতা বৃদ্ধি পেয়ে গুলশান, টঙ্গী ও পূর্বাচল মডেল টাউন পর্যন্ত ২৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমানে ডেসকোর আওতাধীন ১৬টি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মাধ্যমে বিল প্রস্তুত করা হয়। আউট সোর্সিং মিটার রিডারের মাধ্যমে মাঠ পর্যায় থেকে সংগৃহীত রিডিং কম্পাইল করে প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করা হয়। গ্রাহক বিল তার নিকটস্থ ব্যাংকে জমা প্রদান করে। 

বর্তমান পোস্ট পেইড মিটারিং সিস্টেমে প্রচুর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকে। এ বিল বকেয়ার কারণে প্রতি বছর গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের মাধ্যমে আবার সংযোগ প্রদান করা হয়। এ কাজে প্রচুর জনবল নিয়োগসহ সময়ক্ষেপণ করতে হয়। এখন অনলাইন প্রি-পেমেন্ট মিটারের মাধ্যমে সমস্যা নিরসন করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রাহকসেবার মান, লোড ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায় অধিকতর উন্নয়ন করা সম্ভব। ঢাকার মিরপুর, পল্লবী, আগারগাঁও, কাফরুল, শাহআলী ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বনানী, বারিধারা, বাড্ডা, উত্তরা, উত্তর খান ও দক্ষিণ খান এবং গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় এ প্রিপেইড মিটার চালু রয়েছে। 

ডেসকোর ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ডেসকোর কার্যক্রম শুরুতেই সিস্টেম লস ছিল ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বিলে আদায়ের হার ছিল ৭৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং সিআই ৪৭ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ সিস্টেম লস ৮ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে আসে। এই লস সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গত মার্চে এই হার বেড়ে ১৫ দশমিক ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। 

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাাই কোম্পানি (নেসকো) সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত পোস্টপেইড মিটারের মাধ্যমে বিলকৃত টাকা সংগ্রহ করতে দুই-তিন মাস সময় লেগে যায়। অনলাইন প্রি-পেমেন্ট মিটার ব্যবহার করলে বকেয়া বিল থাকে না। তা ছাড়া গ্রাহকের অনুকূলে বরাদ্দকৃত লোড নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ওভারলোডেড ট্রান্সফরমারের পরিমাণ কমিয়ে আনাসহ অন্যান্য সুবিধা অর্জন করা যায়। 

এতে জানানো হয়, প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন করা ও অনলাইন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। এ মিটার কিনতে খরচ হবে ১৩০ কোটি টাকা। মোট ব্যয় হবে ১৮৬ কোটি ৫০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। যার মধ্যে সরকারি ঋণ হবে ১৭৮ কোটি ৫২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এখানে প্রতিটি মিটার কেনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। কিন্তু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এ মিটার কিনতে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৬৫৬ টাকা। ডেসকোর প্রকল্পে ব্যয় প্রতি মিটারে এক হাজার টাকা বেশি ধরা হয়। এ ব্যয় অত্যধিক বলে পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে।

পরিকল্পনা কমিশনের বিদ্যুৎ উইং সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সারা দেশে বিভিন্ন সংস্থার আওতায় মোট ৭২ লাখ ৮১ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ডেসকোর আওতায় সাড়ে ১০ লাখ মিটার স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ডেসকো এলাকায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার প্রিপেইড মিটার সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মধ্যে এক লাখ ৩৮ হাজার মিটার স্থাপনও করা হয়েছে।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat