২১ আগস্ট ২০১৮

সুদের হার ৯ শতাংশে নামাতে ব্যাংকের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে

সুদের হার ৯ শতাংশে নামাতে ব্যাংকের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে - ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য বেসরকারি ব্যাংকের ওপর পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করা হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারণ করা হবে বেশ কিছু কৌশল। এই কৌশলের আওতায় সেসব বেসরকারি ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনবে না তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হবে। একই সাথে চালানো হবে বিশেষ পরিদর্শন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ঋণ পরিস্থিতি, ব্যবস্থাপনা ব্যয় খতিয়ে দেখা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে ব্যাংকিং বিধিবিধান। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এই দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হবে বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো অনেক ব্যাংক তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। এ অবস্থায় ঋণের সুদের হার কমাতে আবারো অনুরোধ জানানো হয়েছে। যে ব্যাংকগুলো এখনো ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনেনি তারা দ্রুত নামিয়ে আনবে বলে সরকারে সাথে ‘জেন্টেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ হয়েছে। 

এই জেন্টেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট ব্যাংকগুলো প্রতিপালন না করলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবেÑ এই প্রশ্নের জবাবে সূত্র জানায়, আমরা এখনো মনে করছি ব্যাংকগুলো সুদের হার বাস্তবায়ন করবে। কারণ ব্যাংকের মালিকেরাই আমাদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা এই সুদের হার কার্যকর করবেন। এখন তাদের এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের সময় এসেছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমরা তাদের বাধ্য করব না। কিন্তু আমাদের হাতে বিকল্প রয়েছে। এই বিকল্প ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক নিতে পারে। যে ব্যাংক সুদের হার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কমাবে না তাদের ক্ষেত্রে ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখা হবে। 


উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে সরকারি অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং চলতি বাজেটে করপোরেট ট্যাক্সও কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশ করার ঘোষণা দিলেও বেশ কিছু ব্যাংক এখনো তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি।

সরকার কোনো ব্যাংকের ঋণের সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর নির্দেশনা দিতে পারে না। খোলাবাজার অর্থনীতিতে এটা সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং অন্যান্য অন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে চুক্তি অনুযায়ী সরকার এখানে হাত দিতে পারে না। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিশেষ করে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার ব্যাংকগুলোকে কিছু সুবিধা দিয়ে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমাতে অনুরোধ করেছে।
এর আগে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার ফলে দেশের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিনিয়োগকারীদের এটা অনেক দিনের দাবি ছিল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে কোনো নির্দেশনা দিতে পারি না। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে দিতে পারি। তাদের সাথে ঋণ ও আমানতের সুদের হার নিয়ে কথা বলার জন্যই ডেকেছিলাম। এ বিষয়ে তাদের কোনো নির্দেশনা আমি দিইনি। তবে বিষয়টি কিছু করা যায় কি না সে বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা পুরো বিষয় পর্যলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
মুুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঋণের সুদের হারের বিষয়ে যে ঘোষণা ইতোমধ্যে দিয়েছেন তার আলোকেই এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার যাতে না বাড়ায় সে বিষয়ে নজর দেয়ার কথা বলেছি। তবে তাদের যে অর্থ দেয়া হয়েছে তা মুনাফা অর্জনের জন্য দেয়া হয়নি। তাদেরকে বলা হয়েছে এসব অর্থ মুনাফা খাতে বিনিয়োগ করা যাবে না।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে আমি নির্দেশনা দিতে পারি। তবে আজ তাদের কোনো নির্দেশনা দিইনি। আমানতের ওপর সুদের হার তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কারণ লোকজন এখানে বিট করে। আমানতের ওপর সুদের হার যাতে না বাড়তে পারে সে দিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগামী ৯ আগস্ট থেকে নতুন সুদহার কার্যকর হবে।


আরো সংবাদ