২৩ জানুয়ারি ২০১৯

সুদহার কমছে : বিপাকে সঞ্চয়কারীরা

সুদহার কমছে : বিপাকে সঞ্চয়কারীরা - ছবি : সংগৃহীত

জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ব্যাংকে আমানত রাখলে পাওয়া যাচ্ছে ৬ শতাংশ। কোনো গ্রাহকের কর শনাক্তকারী নম্বর (টিআইএন) থাকলে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ কর কাটা হয়। আর টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ কর কাটা হয়। এর সাথে ব্যাংক সার্ভিস চার্জ বাদ দিলে ১০০ টাকার আমানত রেখে বছর শেষে ৫ টাকারও কম পাওয়া যায়। এ হিসাবে ব্যাংকে ১০০ টাকা আমানত রাখলে গ্রাহকের প্রকৃত সুদ বা মুনাফা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। উপরন্তু মূলধন কিছু কমে যাচ্ছে। এমনি পরিস্থিতিতে সাধারণ সঞ্চয়কারীদের শেষ ভরসা ছিল সঞ্চয়পত্র। কিন্তু সেই সেই সঞ্চয়পত্রেরও সুদহার কমানো হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ে যাচ্ছেন সঞ্চয়কারীরা।

জানা গেছে, মেয়াদি আমানতে ব্যাংকগুলো এখন সর্বোচ্চ ৫-৬ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। বেশির ভাগ ব্যাংকের সুদহার একই রকম। অথচ সঞ্চয়পত্রে টাকা খাটিয়ে সুদ পাওয়া যাচ্ছে ১১ দশমিক শূন্য ৪ থেকে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত। ব্যাংকে আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় মানুষ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। বিশেষ করে পেনশনভোগী ও পারিবারিক সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে বেশি। অনেকেই সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগ করে সংসার চালাচ্ছেন। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় কয়েক বছর ধরে সরকারের ব্যাংক ঋণের চাপ কমে গেছে। আছে, বাজেট ঘাটতির বেশির ভাগই ব্যাংক থেকে নেয়া হতো। কিন্তু গত বছর ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের চেয়ে ঋণ পরিশোধ করেছে বেশি হারে। এতে সরকার পুঞ্জীভূত ব্যাংকঋণ কমে যাচ্ছে। 

এখন সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমিয়ে দিলে বিপাকে পড়ে যাবেন সাধারণ গ্রাহক। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকারদের সাথে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ‘সঞ্চয়পত্রের সুদহার আমরা পর্যালোচনা করব। সঞ্চয়পত্রের সুদহার মাঝে মাঝে পর্যালোচনা করি। কোনো সময় দুই বছর, তিন বছর, আবার বছরেও হতে পারে। বাজারের সুদহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য না হলেই পর্যালোচনা করা হয়। এ নিয়ে আমরা ৮ আগস্ট সিদ্ধান্ত নেবো।’ এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৩ মে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়েছিল সরকার। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমে গেলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ গ্রাহক, যারা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল তারা। এক দিকে, ব্যাংকে আমানতের সুদহার তলানিতে নেমে গেছে; অন্য দিকে সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমে গেলে অনেকেই ব্যাংকের মতো সঞ্চয়পত্র থেকেও মুখ ফিরে নেবেন। এতে সরবারের বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে। 

জানা গেছে, ব্যাংকাররা বারবার সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমাতে চাপ দিয়ে আসছিল। বিশেষ করে ব্যাংকঋণের সুদহার ১ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পর ব্যাংকারদের এ দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকাররা অর্থমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমাতে বলেন। কারণ, আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ নামানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমানতকারীরা ব্যাংকের পরিবর্তে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। ব্যাংকারদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ঘোষণা করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সঞ্চয়পত্রে সুদহার বড়জোর এক থেকে দেড় শতাংশ কমতে পারে। তবে, সব কিছু নির্ভর করছে ৮ আগস্টের বৈঠকের ওপর। 

ওই সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকে এমনিতেই টাকার সঙ্কট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে ব্যাংকে আরো টাকার সঙ্কট দেখা দেবে। এতে ব্যাংকের বিনিয়োগযোগ্য তহবিল আরো কমে যাবে। তখন বিনিয়োগকারীরা বিপাকে পড়ে যাবেন। আবার সামনে নির্বাচন। পেনশনভোগী ও নারীদের একটি বড় অংশ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে থাকেন। এ মুহূর্তে সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমালে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর আগে নানা দিকে সরকারকে বিশ্লেষণ করতে হবে।


আরো সংবাদ

স্ত্রীর পরকীয়া দেখতে এসে বোরকা পরা স্বামী আটক (১৬৩৩৪)ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ যেকোনো সময়? (১৫৮১৫)মেয়েদের যৌনতার ওষুধ প্রকাশ্যে বিক্রির অনুমোদন দিল মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি (১৫৪৭৯)মানুষ খুন করে মাগুর মাছকে খাওয়ানো স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার (১৫২৩২)ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে প্রচণ্ড ইসরাইলি হামলা, নিহত ১১ (১৩৮১২)মাস্টার্স পাস করা শিক্ষকের চেয়ে ৮ম শ্রেণি পাস পিয়নের বেতন বেশি! (১১৪৪৩)৩০টি ইসরাইলি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত (৯৩৬২)একসাথে চার সন্তান, উৎসবের পিঠে উৎকণ্ঠা (৮২৮৫)করাত দিয়ে গলা কেটে স্বামীকে হত্যা করলেন স্ত্রী (৬০৭৯)শারীরিক অবস্থার অবনতি, কী কী রোগে আক্রান্ত এরশাদ! (৫৩৪৫)