১৯ নভেম্বর ২০১৮

অ্যাডভোকেট জুবায়েরের প্রতিশ্রুতি

অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের - ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনে সিলেট নাগরিক ফোরাম মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আমার লক্ষ্য হচ্ছে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা। আসন্ন ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে টেবিল ঘড়িকে ইনসাফ ও উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে মনে করে বিজয়ী করুন। আমরা আপনাদের সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বিশ্বমানের মডেল নগরী উপহার দিবো। ইনশাআল্লাহ।

তিনি বৃহস্পতিবার নগরীর আদালত পাড়ায় কর্মরত আইনজীবীদের সাথে এবং ৮নং ওয়ার্ডের আখালীয়া, নয়াবাজার ও হাওলাদারপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় টেবিল ঘড়ি মার্কার সমর্থনে পৃথক গণসংযোগকালে এ কথা বলেন। এসময় নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ, ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন শরীক দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ গণসংযোগে অংশ নেন।

আদালত পাড়ায় গণসংযোকালে উপস্থিত ছিলেন- সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ.এস.এম আব্দুল গফুর, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আলিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আব্দুর রব, অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট মো: ইলিয়াস, এডভোকেট মাসহুদ আহমদ মহসিন, এডভোকেট দিলোয়ার হোসেন শামীম, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম সোহাগ, অ্যাডভোকেট আব্দুল খালিক, অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মকসুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট হুসাইনুর রহমান লায়েছ, অ্যঅডভোকেট জুনেদ আহমদ, অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান, অ্যাডভোকেট সাদেক আহমদ সাজন প্রমুখ।

আখালীয়া নয়াবাজার এলাকায় গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা উত্তরের আমির হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান ও সেক্রেটারী মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, আলেমে দ্বীন মুফতী আলী হায়দার, সিলেট সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জৈন উদ্দিন, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম তালুকদার, মাওলানা মখলেছুর রহমান, মাওলানা আব্দুস শহীদ, রিয়াজ আহমদ, উবায়দুল হক শাহীন, মাওলানা আব্দুল লতিফ প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি।

আরো পড়ুন :

রাসিক নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু গ্যাস সরবরাহ
মুহা: আব্দুল আউয়াল রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি অন্যতম ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর পক্ষেই দাবি করা হচ্ছে গ্যাস সরবরাহের কৃতিত্ব তাদের। বিভাগীয় নগর রাজশাহীতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের দাবি দীর্ঘ দিনের। এ নিয়ে রাজশাহীবাসী অনেক আন্দোলন-সংগ্রামও করেছেন। তারই পরিপ্রেেিত ২০০৪ সালের ১১ মার্চ তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে এক জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন অবিলম্বে রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। সেই ঘোষণার আলোকে জোট সরকার ২০০৬ সালের ১২ জুলাই একনেকে রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প অনুমোদন করে। 
প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয় ২০০৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৯ সালের ৩০ জুন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরবর্তী সরকারগুলোর সময়ে প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ জুন নির্ধারণ করা হয়। ২০১১ সালের মধ্যে নগরীতে পাইপলাইন স্থাপন এবং গ্যাস সংযোগের আনুষঙ্গিক সকল কাজ সম্পন্ন হয়। সে বছর ২৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর মাদরাসা মাঠের জনসভায় ঘোষণা দেন, তার দেড় মাস পর, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকেই রাজশাহীবাসী গ্যাস পাবেন।

কিন্তু সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও সরকারি নির্দেশ না আসায় গ্যাস সংযোগ দেয়ার বিষয়টি স্থগিত হয়ে থাকে। এরপর রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২০১৩ সালের ১৫ জুন। নির্বাচনের ওই শিডিউল ঘোষিত হওয়ার পর হঠাৎ সরকার রাজশাহীতে গ্যাস সংযোগ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই অনুযায়ী তড়িঘড়ি করে আবেদনপত্র ছাড়া হয়। তবে নানা রকম সংশয় ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আবেদন জমা দিয়েছিলেন খুব কম লোক। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগেই বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে এটা দেখানোর জন্য গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পিজিসিএল নগরীর ৩২ জন ব্যক্তিকে দ্রুত গ্যাস সংযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১৫ জুন ভোটগ্রহণের সপ্তাহখানেক আগে (৭ জুন) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারি জোট সমর্থিত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আবুল হোসেনের বাড়িতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়। এই নাগরিক কমিটিরই মেয়রপ্রার্থী ছিলেন রাজশাহী আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্যাস সংযোগ পাওয়া সৌভাগ্যবান ৩২ নাগরিকের প্রায় সবাই মতাসীন মহাজোটের নেতাকর্মী ও আত্মীয়। তাদের ছাড়াও রয়েছেন কিছু সরকারি কর্মকর্তা। এই সৌভাগ্যবানদের তালিকা দেখে তখন নগরবাসীর মনে গভীর ােভ সৃষ্টি হয়। কারণ এরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থক, আত্মীয় এবং সরকারি কর্মকর্তা। 

একাধিক বিশিষ্ট নাগরিক নয়া দিগন্তকে বলেন, লটারির মাধ্যমে বা ক্রমিক অনুযায়ী গ্রাহক নির্বাচন করা উচিত ছিল। তা না করে চরম দলীয়করণ করা হয়। তারা বলেন, গ্যাস সরবরাহকে ওই সময়ের বিদায়ী মেয়রের কৃতিত্ব বলে দাবি করা হয়। 

অন্য দিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্যাসের কৃতিত্ব কেবল আওয়ামী লীগ সরকারের একার নয়। কারণ এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে। সুতরাং এই কৃতিত্বের দাবিদার তারাও। তা ছাড়া ২০১৩ সালের ৭ জুন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর গ্যাস সংযোগ উদ্বোধন করতে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে তৎকালীন মেয়রপ্রার্থী লিটনের গুণকীর্তন করেন। 
তার সেই অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যের কারণে সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই সময় হোসেন মনসুরকে কারণ দর্শাতে বলেন। 

সৌভাগ্যবানদের তালিকা, গ্যাস সরবরাহের পূর্বাপর ইতিহাস, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের আচরণ ইত্যাদি জানাজানি হওয়ার পর জনমনে এ বিষয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 

২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র নির্বাচিত হন। 

এবারের রাজশাহী সিটি নির্বাচনেও মেয়র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের খায়রুজ্জামান লিটন। গতবারের মতো এবারো তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় গ্যাসের বিষয় নিয়েও সরব হয়েছেন। গত সোমবার নগরীর শালবাগান মোড়ে গণসংযোগকালে এক পথসভায় খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করে রাজশাহীতে গ্যাস এনেছি। ইতোমধ্যে অনেক বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। এখনো অনেকে বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে তিন মাসের মধ্যে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে।


আরো সংবাদ