২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

স্বর্ণ হেরফের হয়নি সুরক্ষিত আছে ভল্ট- বাংলাদেশ ব্যাংক

-

ভল্টে স্বর্ণ যেভাবে রাখা হয়েছিল সেভাবেই আছে। কোনো প্রকার হেরফের হয়নি। একটি করণীক ভুলের কারণে স্বর্ণের মানের পার্থক্য দেখা দিয়েছে। এমনটিই দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ বিষয়ে গত ১১ জুলাই এনবিআর ও শুল্ক গোয়েন্দাকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে এনবিআরের স্বর্ণের মান যাচাই করা মেশিনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, শুল্ক গোয়েন্দা নিজস্ব মেশিন দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের স্বর্ণের মান যাচাই করেনি। করেছে ভাড়া করা মেশিন দিয়ে। তৃতীয় পক্ষের কাছে যাচাইয়ের দাবি করলেও শুল্ক গোয়েন্দা তা শোনেনি। এ ক্ষেত্রে ভল্টে রাখা স্বর্ণে কোনো প্রকার হেরফের হয়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভল্ট এলাকায় কোনো ধরণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি। সবই ঠিক আছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রবিউল হাসান, ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের মহাব্যবস্থাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ, কারেন্সি অফিসার আওলাদ হোসেন চৌধুরী ও ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্টের মহাব্যবস্থাপক সুলতান মাসুদ আহমেদ।

গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কান্ড’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। এতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ছিল ২২ ক্যারেট স্বর্ণ, হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল এক জরুরী সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতিবেদনটি সঠিক নয়। ভল্টে স্বর্ণ যেভাবে রাখা হয়েছিল সেইভাবেই আছে। কোনো হেলফের হয়নি। শুধু কিছু করণীক ভুলের কারণে স্বর্ণের মানের পার্থক্য দেখা দিয়েছে।

করণীক ভুলের ব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, একটি রিং মানের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভ’ক্ত স্বর্ণকার যখন এটি পরিমাণ করেন তখন বলেছিলেন, সেই রিংয়ে ৪০ শতাংশ স্বর্ণ আছে। কিন্তু পরে প্রতিবেদন তৈরী করার সময় ভুলে ৪০ কে ৮০ (ইরেজিতে শব্দ মনে করে) লিখা হয়। পরে শুল্ক গোয়েন্দারা ভল্ট পরিদর্শন শেষে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তাদের ব্যাখ্যা দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, স্বর্ণ জমা দেয়ার সময় এনবিআরের যে কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন ওই কর্মকর্তাকে সরজমিনে এনে তা যাচাই করা হয়। ওই কর্মকর্তাও যে স্বর্ণের চাকতি জমা দিয়েছিলেন সেটি যাচাই করে জমা দেয়া স্বর্ণের চাকতি বলেই প্রমানপত্র দিয়ে গেছেন। ফলে জমা দেয়া স্বর্ণের কোনো হেরফের হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জমা দেয়া স্বর্ণের মান যাচাই করার বিষষে বলা হয়, এনবিআর যখন কোনো স্বর্ণ জমা দেয় তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভ’ক্ত স্বর্ণাকার দিয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে স্বর্ণের মান যাচাই করা হয়। এরপর ছয়স্তর নিরাপত্তা বিশিষ্ট ভল্টে তা রাখা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ যখন তাদের জমা দেয়া স্বর্ণের মান যাচাই করতে আসেন তখন তাদের ভারা করা মেশিন দিয়ে স্বর্ণের মান যাচাই করে। এতে কিছু হেরফের দেখা দেয়। যেহেতু তাদের নিজস্ব মেশিন দিয়ে করা হয়নি, তাই গ্রহনযোগ্য তৃতীয় কোনো সংস্থার মাধ্যমে স্বর্ণের মান যাচাই করতে এানবিআরকে বলা হয়েছিল । কিন্তু তারা তাতে সায় দেয়নি। পরে এনবিআর থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গত ১১ জুলাই তা জানানো হয়। ফলে স্বর্ণের মান নিয়ে যে প্রশ্ন উত্থাপন হয়েছে তা সঠিক নয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, শুল্ক গোয়েন্দা ডিজিটালি সোনার মান পরীক্ষা করে জমা করতে আসেন। আমরা ম্যানুয়ালি করি। তবে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। জাপান থেকে একটি মেশিন ৪ কোটি টাকা দিয়ে আনা হয়। কিন্তু সেটি অনেক সময় ভুল প্রতিবেদন দিচ্ছিলো। তাই মেশিনটি ফেরত দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাচিত স্বর্ণকার আছেন। তিনি যাচাই বাছাই করে সোনার মান নির্ধারণ করে দেন। কেন একজন স্বর্ণকারের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ ব্যাংক এমন প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য, এর আগে এমন পরিস্থিতি হয়নি। এখন বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করা হবে। তবে শুল্ক গোয়েন্দার প্রতিবেদন কতটা গ্রহণযোগ্য সেই প্রশ্ন রয়েছে। তাদের নিজস্ব কোন মেশিন নিয়ে তারা আসেনি। আমরা আণবিক শক্তি কমিশনে সব সোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে শুল্ক গোয়েন্দা সাড়া দেয়নি।


আরো সংবাদ